আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শীর্ষ সংস্থা আইসিসি (ICC) বর্তমানে ভারতের প্রভাবের ওপর প্রশ্নের মুখে। ভারতীয় শক্তি ও বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল বাদের ঘটনায় উত্থাপিত বিতর্ক এই উদ্বেগকে তীব্র করেছে।
প্রথমদিকে ক্রিকেট কেবল শারীরিক ব্যায়াম, ফিটনেস ও মানসিক প্রশান্তির জন্য খেলা হতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক স্বার্থের প্রবেশে খেলোয়াড়দের বেতন বাড়লেও পারস্পরিক সম্মান ও শিষ্টাচার হ্রাস পেয়েছে।
আজকের দিনে ভারত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছে। আইসিসি দ্বারা গৃহীত নীতি, বড় টুর্নামেন্টের ভেন্যু নির্বাচন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ভারতের ইচ্ছার প্রতিফলন স্পষ্ট।
সম্প্রতি, উগ্রবাদী হুমকির পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছে। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক প্রভাবের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইসিসি এই বিষয়টি নিয়ে কোনো ভেন্যু পরিবর্তন বা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে বাংলাদেশ এই অদৃশ্য হস্তক্ষেপকে নিজের প্রতি অবহেলা ও তুচ্ছতা হিসেবে অনুভব করেছে।
বিসিবি (BCB) দাবি করে যে, আইসিসি তাদেরকে ‘মেনে নাও, না হলে বাদ পড়ো’ এমন এক ধরণের চূড়ান্ত ultimatum দিয়েছে। এই আচরণকে ন্যায়সঙ্গত না বলে, ক্ষমতার অতিরিক্ত প্রদর্শন ও লজ্জাজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক রশিদ লতিফ এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বর্তমান ক্রিকেট ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
একই সময়ে, পাকিস্তানের প্রধান দৈনিক ‘দ্য নেশন’ এর সম্পাদকীয়ে আইসিসি-কে ‘করাপ্টেড’ বলে অভিহিত করা হয়েছে এবং সংস্থাটিকে নতুন করে গঠন করার দাবি তোলা হয়েছে।
সম্পাদকের মতামতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলংকা, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অন্যান্য দেশের সমন্বিত উদ্যোগ এখনই প্রয়োজন। একক রাষ্ট্রের অতিরিক্ত প্রভাব আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে কলুষিত করছে, এটাই মূল যুক্তি।
ভারতের বিশাল জনসংখ্যা ও তার থেকে উৎপন্ন বিশাল আর্থিক আয়কে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই আর্থিক দোহাই দিয়ে খেলাধুলাকে জিম্মি করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়, এটাই সমালোচকদের দৃষ্টিভঙ্গি।
অর্থের মাধ্যমে খেলাধুলার শাসনকে প্রভাবিত করা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নীতির মৌলিক নীতিকে ক্ষুণ্ন করে। সমতা, ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই ধরনের প্রভাবের পুনর্বিবেচনা জরুরি।
এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ক্ষমতা বণ্টন নিয়ে চলমান আলোচনাকে তীব্র করেছে। আসন্ন আইসিসি সভা ও নীতিমালা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে।



