১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচন, দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত সরকার ঘোষণা করেছে। এই পদবিন্যাসের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ বাড়ানোর লক্ষ্য প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচন ও নতুন উপদেষ্টার ভূমিকা দেশের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে কী প্রভাব ফেলবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের সময়সূচি নিশ্চিত করেছে এবং ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ শেষ করেছে। নির্বাচনের আগে সকল প্রার্থীর নাম নিবন্ধন, ভোটার কার্ড বিতরণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি চলছে। সরকার নির্বাচনকে “ভবিষ্যতের মানদণ্ড” হিসেবে উপস্থাপন করে, স্বচ্ছতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া, ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন মিডিয়া ও সিভিল সোসাইটি সংগঠন সমন্বিত প্রচারাভিযান চালু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি নির্বাচনের পর্যবেক্ষণ, মানবাধিকার রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উন্নয়নে সহায়তা করবেন। এই পদে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি প্রণয়নে অবদান রাখবেন। সরকার এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার একটি কৌশল হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোও নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। আওয়ামী লীগ এবং বিরোধী দলগুলো প্রত্যেকের নিজস্ব প্রোগ্রাম ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে, জামায়াত-ই-ইসলাম দলের নেতা জামায়াত আমির নির্বাচনের পূর্বে উত্তরের কিছু অঞ্চলে সফর করে “কাউকে এক পয়সাও চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না” বলে দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তিনি ভোটারদের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা ভুয়া ভোটার ফটোকার্ডের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। নিরাপত্তা দপ্তর ও নির্বাচন কমিশন এই ধরনের নকল ডকুমেন্টের প্রচার রোধে ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে নকল ফটোকার্ডের নমুনা সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নিরাপত্তা দপ্তর নির্বাচনকালে সম্ভাব্য হিংসা ও অশান্তি রোধে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করেছে। পুলিশ, রেঞ্জার ও গার্ডের সমন্বয়ে নির্বাচনী এলাকায় অতিরিক্ত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করতে জরুরি সেবা কেন্দ্র স্থাপন এবং জরুরি যোগাযোগ লাইন চালু করা



