28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবিশ্বকাপ বয়কটে বাংলাদেশ বাদ, পূর্বের উদাহরণগুলো স্মরণীয়

বিশ্বকাপ বয়কটে বাংলাদেশ বাদ, পূর্বের উদাহরণগুলো স্মরণীয়

আইসিসি (ICC) শেষ পর্যন্ত ভারতের টি২০ বিশ্বকাপ না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়ে, বাংলাদেশকে এই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের ক্রিকেট দল এইবারের বিশ্বকাপের তালিকায় স্থান পাবে না, যদিও টুর্নামেন্টটি অন্য কোনো দেশে অনুষ্ঠিত হবে। বয়কটের পেছনে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিএসিএ) জানিয়েছে, আইসিসির এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর দলকে প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় এবং তাই তারা বিশ্বকাপ থেকে নিজে স্বেচ্ছায় সরে যাবে। বোর্ডের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে ভক্তদের মধ্যে হতাশা দেখা দিচ্ছে, কারণ বহু বছর ধরে বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখছেন দেশীয় ক্রিকেট অনুরাগীরা এখনো অপেক্ষা করতে হবে।

বাংলাদেশের বয়কট নতুন নয়; আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম বড় বয়কটের উদাহরণ ১৯৯৬ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে দেখা যায়। সেই সময়ে কিছু দেশ রাজনৈতিক বিরোধের কারণে অংশ নিতে অস্বীকার করে, যা টুর্নামেন্টের সূচি ও প্রতিযোগিতার গঠনকে প্রভাবিত করে।

২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও অনুরূপ পরিস্থিতি তৈরি হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে, জিম্বাবুয়ের সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ফলে ইংল্যান্ড দল হারারেতে গিয়ে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে খেলতে অস্বীকার করে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে নিউজিল্যান্ড দল কেনিয়ায় খেলা থেকে বিরত থাকে।

২০০৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে জিম্বাবুয়ের রবার্ট মুগাবের সরকারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে। ফলে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটারদের ভিসা প্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয় এবং টুর্নামেন্টকে অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার আলোচনা উত্থাপিত হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টটি ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয়, তবে ভিসা সমস্যার কারণে জিম্বাবুয়ের অংশগ্রহণ সীমিত ছিল।

২০১৬ সালের অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে অস্ট্রেলিয়া দল বাংলাদেশে দল পাঠাতে অস্বীকার করে। অস্ট্রেলিয়ার পরিবর্তে আয়ারল্যান্ড দল অংশগ্রহণ করে, যা সেই সময়ের টুর্নামেন্টের কাঠামোতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনে দেয়।

এই সব উদাহরণ দেখায়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়গুলো কখনও কখনও টুর্নামেন্টের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তকে সরাসরি প্রভাবিত করে। প্রতিটি বয়কটের পেছনে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার, ক্রিকেট বোর্ড এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে জটিল আলোচনা থাকে, যা শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সূচি, হোস্ট দেশ এবং অংশগ্রহণকারী দলের তালিকায় প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে, আইসিসি ভারতের টি২০ বিশ্বকাপ না করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যদিও টুর্নামেন্টের নতুন হোস্ট দেশ এখনও চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি, তবে আইসিসি ইতিমধ্যে সম্ভাব্য বিকল্প দেশগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে। এই বিকল্পগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকা উল্লেখযোগ্য।

বিএসিএ ভবিষ্যতে টুর্নামেন্টের পুনরায় আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবে এবং দেশের ক্রিকেট অবকাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে মনোযোগ দেবে। একই সঙ্গে ভক্তদের জন্য দেশীয় লিগ ও আন্তর্জাতিক সিরিজের মাধ্যমে ক্রিকেটের উচ্ছ্বাস বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্বকাপ বয়কটের ফলে বাংলাদেশি ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থিতি সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও, ইতিহাসে এ ধরনের বয়কটের উদাহরণগুলো দেখায় যে ক্রীড়া ও রাজনীতির সংযোগ কখনও কখনও অনিবার্য। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বিষয়গুলো সমাধান হলে, বাংলাদেশ আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরবর্তী আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে, বাংলাদেশি দল এশিয়া কাপ এবং অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক সিরিজে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এই ম্যাচগুলোতে দলকে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি র‍্যাঙ্কিং পয়েন্ট সংগ্রহের সুযোগ হবে। ভক্তদের আশা, এই সময়ে দলটি শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে এবং ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নেবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments