দেবীদ্বার (কুমিল্লা‑৪) আসনে এনসিপি দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও জামায়াতে ইসলামীর জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ, আজকের ক্যাম্পেইন র্যালিতে নির্বাচনী এলাকার দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি নির্মূলের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি গৃহীত ভোটারদের কাছে সরাসরি বললেন, “সিএনজি যারা চালায়, প্রত্যেকটা খেতে‑খাওয়া মানুষ জানে, দোকানদার জানে যে, হাসনাত আব্দুল্লাহ যদি নির্বাচিত হয়, আর যাই হোক ১০ টাকার জন্য কোনদিন আসবে না।” এরপর তিনি যোগ করেন, “হয়ত অন্য পার্টি করে, অন্য পার্টির প্রোগ্রামে যাবে, অন্য পার্টির মার্কা নিয়ে মিছিল দেবে‑ কিন্তু গোপনে সে আমাকেই ভোট দিবে ইনশাল্লাহ। কারণ সে জানে, আমাকে দিয়ে আর যাই হোক, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি কোনোদিনও সম্ভব না।”
হাসনাত আব্দুল্লাহ, এনসিপি দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সংগঠক এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠন করে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কুমিল্লা‑৪ (দেবীদ্বার) আসনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হয়েছেন। তিনি পূর্বে স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে, এই নির্বাচনকে নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
প্রচারাভিযানের সময় তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে, নির্বাচনী এলাকার অর্থনৈতিক কাঠামোকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত করার লক্ষ্যে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বিশেষভাবে চাঁদাবাজি (ভোটের জন্য টাকা বা সম্পদ প্রদান), টেন্ডারবাজি (সরকারি চুক্তিতে ঘুষ) এবং অন্যান্য দুর্নীতিকর প্রথা শেষ করার কথা জোর দিয়ে বলেন, “এই সব প্রথা আমাদের এলাকার উন্নয়নকে বাধা দেয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে।”
উল্লেখিত উক্তিতে তিনি ভোটারদের জানিয়ে দেন যে, যদিও কিছু ভোটার অন্য পার্টির প্রোগ্রাম বা চিহ্ন অনুসরণ করে প্রকাশ্যভাবে মিছিল করতে পারেন, তবে গোপনে তারা তার প্রতি ভোট দেবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এই বক্তব্যের পেছনে তিনি ভোটারদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে চেয়েছেন, যেখানে তিনি দাবি করেন যে তার নেতৃত্বে কোনো ধরনের আর্থিক লঞ্চ বা ঘুষের সুযোগ থাকবে না।
প্রতিপক্ষের দলগুলো এই দাবিগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে গ্রহণ করেছে। স্থানীয় বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ভোটারদের মধ্যে এখনও পার্টি-নির্ভরতা ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাব রয়েছে, যা নির্বাচনের ফলাফলকে জটিল করে তুলতে পারে। তবে, জোটের প্রার্থী হিসেবে হাসনাতের প্রতিশ্রুতি ও তার প্রকাশ্য বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
নির্বাচনের পূর্বে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্বাচনী প্রচারণা তীব্রতর হচ্ছে। কুমিল্লা জেলার অন্যান্য প্রার্থী ও দলগুলোও তাদের নিজস্ব নীতি ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে, যা ভোটারদের জন্য একটি বিস্তৃত বিকল্পের পরিসর তৈরি করেছে। বিশেষত, জোটের অংশীদার জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন দলগুলো স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প, সড়ক নির্মাণ ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি হাসনাতের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয় এবং তিনি নির্বাচনে জয়লাভ করেন, তবে কুমিল্লা‑৪ (দেবীদ্বার) এলাকায় সরকারি চুক্তি ও প্রকল্পের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, এই ধরনের পরিবর্তন বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।
আসন্ন নির্বাচনের সময়সূচি অনুযায়ী, ভোটদান ২০২৪ সালের শেষের দিকে নির্ধারিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মিথস্ক্রিয়া বাড়িয়ে তুলতে এবং তাদের নীতি-পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করতে হবে। হাসনাতের ক্যাম্পেইন দল ইতিমধ্যে গ্রাম-গ্রাম ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে তার প্রতিশ্রুতি ও লক্ষ্যগুলো প্রচার করছে।
সারসংক্ষেপে, হাসনাত আব্দুল্লাহ কুমিল্লা‑৪ (দেবীদ্বার) আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী এলাকার দুর্নীতি-মুক্তি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। তার উক্তি ও নীতি-প্রস্তাবের ভিত্তিতে ভোটাররা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিকনির্দেশনা যোগ করতে পারে।



