জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শুক্রবার সকাল সাতটায় ভাটারা থানা এলাকার শাপলাকলির দিকে ভোটের আবেদন করতে গিয়ে, জনসমর্থনের প্রবাহে একটি বিরোধী দলের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ও ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি ভোটকেন্দ্র দখল বা ভয় দেখিয়ে মানুষকে সরানোর কোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে দৃঢ়ভাবে জানান।
সকাল সাড়ে সাতটা থেকে নয়টা পর্যন্ত নাহিদ ইসলাম শাপলাকলির পাশে ভোট চাইতে গিয়ে, সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তার বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যা দুই দলের ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা সূচনার ইঙ্গিত দেয়।
সমাবেশের পর নাহিদ ইসলাম ও তার সহকর্মীরা বাঁশতলা সড়কে একটি সংক্ষিপ্ত পথসভা পরিচালনা করে রামপুরা ব্রিজের দিকে অগ্রসর হন। রামপুরা উত্তর ও দক্ষিণে তিনি নির্বাচনী প্রচার চালানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেন, যেখানে রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা ও হাতিরঝিলের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত।
নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, তার দল পরিবারতন্ত্র, বৈষম্য ও দুর্নীতির বিরোধিতা করবে এবং ন্যায়বিচার, সুশাসন ও প্রকৃত গণতন্ত্রকে সমর্থন জানাবে। তিনি পার্টি কর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন এবং ভোটের দিনে সবাইকে কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এছাড়া তিনি ভোটারদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উৎসাহিত করেন, যা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনমূলক পরিবর্তনের সমর্থনে একটি পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। নাহিদ ইসলাম বলেন, এই নির্বাচন ১৬ বছরের ‘ফ্যাসিবাদী শাসনের’ পর প্রথম নির্বাচন এবং নতুন বন্দোবস্তের সুযোগ।
তিনি অতীতের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের রক্তপাতকে শুধুমাত্র সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, গণতন্ত্র, সমতা ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্যও উল্লেখ করেন। এভাবে তিনি বর্তমান নির্বাচনের গুরুত্বকে কাঠামোগত সংস্কার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত করেন।
নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, এই নির্বাচন ক্ষমতার পরিবর্তনের চেয়ে রাষ্ট্রের কাঠামো সংস্কার, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দিকে বেশি মনোযোগ দেবে। তিনি নিজে এলাকার মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথা উল্লেখ করে, “এই এলাকার মানুষ আমাকে চেনে” বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।
ঢাকা-১১ আসনে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, যানজট, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা সমস্যার সমাধান করার প্রতিশ্রুতি তিনি দেন। এসব সমস্যার সমাধানকে তার নির্বাচনী অগ্রাধিকারে রাখার কথা তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।
নাহিদ ইসলাম আরও জানান, এনসিপি ১০ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে সংসদে যাবে, সরকার গঠন করবে এবং দেশের নেতৃত্ব দেবে। তিনি জোটের ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরেন।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, বিরোধী দলগুলো নাহিদ ইসলামের বক্তব্যকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে। তবে নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, ভয়ভীতি ও গুজবের মাধ্যমে ভোটারকে প্রভাবিত করার কোনো পরিকল্পনা নেই এবং প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে জয় অর্জন করা হবে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে, এই নির্বাচনী র্যালি এবং রামপুরা ব্রিজের পথে পরিচালিত পথসভা এনসিপি ও তার জোটের ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারে। ভোটের দিন যদি এই অঞ্চলগুলোতে তার বার্তা গ্রহণযোগ্য হয়, তবে পার্টি তার নির্বাচনী লক্ষ্য অর্জনে অগ্রগতি করতে পারবে।
সামগ্রিকভাবে, নাহিদ ইসলামের এই ক্যাম্পেইন ভাটারা, বাঁশতলা ও রামপুরা অঞ্চলে জনসমর্থন জোগাড়ের পাশাপাশি বিরোধী দলের ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যায়। তার বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ভোটারকে স্বচ্ছ তথ্য প্রদান এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা।



