হ্যানয়, ১,৬০০ প্রতিনিধির সমাবেশে কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ পদে তো লাম পুনরায় নির্বাচিত হন। পার্টি কংগ্রেসের সমাপ্তি শুক্রবারে ত্বরান্বিত হয়, যা সাধারণত রবিবার পর্যন্ত চলা উচিত ছিল। তো লামকে আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত পার্টি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। তার পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে সরকার তার অর্থনৈতিক লক্ষ্যগুলো পূরণের নতুন সুযোগ পাবে।
কংগ্রেসের সময় ১,৬০০ প্রতিনিধিরা দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করেন। সমাবেশটি শুক্রবারে শেষ হওয়ায় অভ্যন্তরীণ ঐকমত্যের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, অথবা তো লামের ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় বিরোধী মতামত দমন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। পার্টির উচ্চপদস্থ পদগুলোর বণ্টন সাধারণত গোপনীয়ভাবে, কংগ্রেসের আগে নির্ধারিত হয়। তাই এই দ্রুত সমাপ্তি পার্টির অভ্যন্তরীণ গঠনকে স্পষ্ট করে না।
তো লামকে পার্টির শীর্ষে পুনরায় অর্পণ করা হয়েছে, যা তার বর্তমান মেয়াদে আরেকটি পাঁচ বছরের মেয়াদ যুক্ত করে। তিনি পূর্বে পার্টির চেয়ারম্যানের পদে ছিলেন এবং এখন একই পদে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। এই পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে তিনি তার পূর্বের নীতি ও পরিকল্পনাগুলোকে অব্যাহত রাখতে পারবেন।
প্রায় এক বছর ও অর্ধ আগে, তো লাম কমিউনিস্ট পার্টির পূর্বতন নেতা ন্গুয়েন ফু ট্রংয়ের মৃত্যুর পর শীর্ষে উঠে আসেন। ন্গুয়েন ফু ট্রং দীর্ঘ সময় ধরে পার্টির আদর্শিক নেতা হিসেবে কাজ করতেন এবং ব্যাপক দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চালিয়েছিলেন। তো লাম, যিনি পূর্বে জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের প্রধান ছিলেন, সেই সময়ে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেন।
ন্গুয়েন ফু ট্রংয়ের নেতৃত্বে চালু করা দুর্নীতি বিরোধী অভিযান দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় পরিবর্তন এনেছিল। তার উদ্যোগে বহু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পদত্যাগ বা গ্রেফতার হন। তো লাম, নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে, একই সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পরিষ্কার করার কাজ ত্বরান্বিত করেন। এই পদক্ষেপগুলো তাকে পার্টির অভ্যন্তরে শক্তিশালী অবস্থান প্রদান করে।
তো লাম শীর্ষে আসার পর তিনি নীতি পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। পূর্বে দুর্নীতি দমনকে কেন্দ্র করে কাজ করা তিনি এখন সংস্কার ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেন। তার পরিকল্পনা দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে সম্পূর্ণভাবে পুনর্গঠন করার দিকে মনোনিবেশ করে।
প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে তো লাম প্রদেশের সংখ্যা ৬৩ থেকে কমিয়ে ৩৪টি করে সংক্ষিপ্ত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি সরকারি কর্মচারীর স্তর কমিয়ে, অপ্রয়োজনীয় ব্যুরোকার্সি হ্রাসের লক্ষ্য রাখেন। এই পদক্ষেপগুলো দেশের পরিচালন ব্যয় কমিয়ে, অর্থনৈতিক কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
একজন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ উল্লেখ করেন যে, তো লামের ক্ষমতার একত্রিকরণ ১৯৯১ সালের পর থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী। তিনি বলেন, বর্তমান কংগ্রেসে তো লামের একক হাতে ক্ষমতার ঘনত্ব পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিশ্লেষণ দেশের রাজনৈতিক গতিপথকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করতে সাহায্য করে।
পার্টির অভ্যন্তরে তো লামের নিরাপত্তা ফ্যাকশন ও সামরিক ফ্যাকশনের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। নিরাপত্তা ফ্যাকশন তার পূর্বের মন্ত্রণালয়ীয় পটভূমির কারণে প্রভাবশালী, আর সামরিক ফ্যাকশন ঐতিহ্যবাহীভাবে পার্টির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কংগ্রেসে এই দুই গোষ্ঠীর সমন্বয় বা সংঘর্ষ দেশের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তো লামের নতুন মেয়াদে তিনি অর্থনৈতিক বৃদ্ধির উচ্চ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। পরিকল্পনায় শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ অন্তর্ভুক্ত। এই লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য প্রশাসনিক সংস্কার ও নিয়মকানুনের সহজীকরণ অপরিহার্য বলে তিনি জোর দেন।
ভবিষ্যতে তো লামের নেতৃত্বে পার্টি কীভাবে অভ্যন্তরীণ বিরোধ সমাধান করবে এবং সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে, তা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। পরবর্তী কংগ্রেসে নতুন নেতৃত্বের গঠন এবং নীতি দিকনির্দেশনা নির্ধারণের প্রক্রিয়া নজরে থাকবে। তো লামের শাসনকালে দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান ও অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের গতি কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



