জন উইলসন পরিচালিত নথি-চিত্র ‘দ্য হিস্ট্রি অফ কংক্রিট’ এই বছর স্যান্ড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় প্রদর্শিত হয়েছে। ১ ঘণ্টা ৪১ মিনিটের এই চলচ্চিত্রটি হোয়াইবির ‘হাউ টু’ সিরিজের পরবর্তী অংশ হিসেবে তৈরি, যেখানে কংক্রিটের স্থায়িত্ব ও মানব জীবনের অমরত্বের বিষয়গুলোকে হাস্যরসের ছোঁয়া দিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।
‘হাউ টু’ সিরিজটি ২০২০ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত তিন সিজন ধরে হোয়াইবিতে প্রচারিত হয় এবং সমালোচকদের মতে দশকের অন্যতম সেরা টেলিভিশন প্রোগ্রাম হিসেবে স্বীকৃত। সিরিজের অনন্য শৈলী ও বুদ্ধিদীপ্ত উপস্থাপনা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে, তবে সাধারণ টেলিভিশন দর্শকরা কখনও কখনও এই ধরনের নথি-চিত্র-কমেডি মিশ্রণকে বুঝতে পারেন না।
‘দ্য হিস্ট্রি অফ কংক্রিট’ স্যান্ড্যান্সের প্রিমিয়ার শোতে উপস্থিত দর্শকরা চলচ্চিত্রের সূক্ষ্ম হাস্যরস ও গভীর বার্তায় মুগ্ধ হয়েছেন। চলচ্চিত্রটি কংক্রিটের নির্মাণ প্রক্রিয়া, তার ইতিহাস এবং আধুনিক সমাজে এর প্রতীকী অর্থ নিয়ে আলোচনা করে, একই সঙ্গে মানব জীবনের অস্থায়িত্বের সঙ্গে তার তুলনা করে। এই সংমিশ্রণটি দর্শকদের হাস্যকর মুহূর্তের পাশাপাশি চিন্তাশীল মুহূর্তও প্রদান করে।
পর্যালোচকদের মতে, চলচ্চিত্রটি হালকা মেজাজের সঙ্গে শিক্ষামূলক তথ্যকে মিশ্রিত করে একটি অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়। যদিও এটি ‘হাউ টু’ সিরিজের কিছু শীর্ষ এপিসোডের তীব্র আবেগীয় প্রভাবের সমান নয়, তবু এটি নিজস্ব রসিকতা ও হৃদয়স্পর্শী মুহূর্তে দর্শকদের আনন্দ দেয়। বিশেষ করে কংক্রিটের স্থায়িত্বের মাধ্যমে মানব জীবনের অমরত্বের প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে, যা দর্শকদের মধ্যে গভীর প্রতিফলন সৃষ্টি করে।
চলচ্চিত্রের রচনায় ব্যবহার করা ভিজ্যুয়াল উপাদান ও সাউন্ডট্র্যাকও প্রশংসার যোগ্য। নির্মাণ সাইটের বাস্তব দৃশ্য, পুরনো ভবনের ধ্বংসাবশেষ এবং আধুনিক নগরীর গগনচুম্বী কাঠামো একত্রে একটি চিত্রময় পটভূমি তৈরি করে, যা দর্শকের কল্পনাকে উদ্দীপিত করে। এছাড়া, উইলসনের স্বতন্ত্র বর্ণনা শৈলী এবং তার স্বরভঙ্গি চলচ্চিত্রের সামগ্রিক টোনকে সুনির্দিষ্টভাবে গঠন করে।
‘দ্য হিস্ট্রি অফ কংক্রিট’ স্যান্ড্যান্সে প্রিমিয়ার হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বাড়ছে। চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু ও শৈলী আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করতে পারে, বিশেষ করে যখন স্থাপত্য, ইতিহাস এবং মানবিক দার্শনিকতা একসাথে মিশে থাকে।
সারসংক্ষেপে, এই নথি-চিত্রটি হাস্যরস, শিক্ষা এবং আবেগের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি স্বতন্ত্র স্থান তৈরি করেছে। যদিও এটি ‘হাউ টু’ সিরিজের কিছু শীর্ষ এপিসোডের তুলনায় কম তীব্র, তবু এটি দর্শকদের হাসি ও চিন্তার মিশ্রণ প্রদান করে, যা এই বছরকার স্যান্ড্যান্সে অন্যতম উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
চলচ্চিত্রটি স্যান্ড্যান্সের প্রিমিয়ার শোতে ১ ঘণ্টা ৪১ মিনিটের সময়সীমা নিয়ে উপস্থাপিত হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বিতরণ পরিকল্পনা চলছে। চলচ্চিত্র প্রেমিক ও নথি-চিত্রের অনুরাগীরা এই কাজটি দেখতে উৎসুক, কারণ এটি আধুনিক সমাজের স্থায়িত্বের প্রশ্নকে হাস্যরসের মাধ্যমে সহজে উপলব্ধি করিয়ে দেয়।
‘দ্য হিস্ট্রি অফ কংক্রিট’ দর্শকদেরকে কংক্রিটের শারীরিক দৃঢ়তা এবং মানব জীবনের অমরত্বের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে, যা আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এই চলচ্চিত্রটি স্যান্ড্যান্সে সফলভাবে উপস্থাপিত হওয়ায়, এটি ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রাখে।



