বহু বছর পর, ১৯৮৯ সালে শুট করা ‘হুম মেইন শাহেনশাহ কৌন’ নামের চলচ্চিত্রটি দেশের সব থিয়েটারে প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। রজা রায় ফিল্মসের প্রযোজক রজা রায়ের উদ্যোগে, দেরি না করে এখনো না প্রকাশিত এই ছবিটি শেষ পর্যন্ত দর্শকের সামনে আসবে।
চলচ্চিত্রটি রজিনিকান্ত, শত্রুঘ্ন সিংহা এবং হেমা মালিনীর মতো হিন্দি সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতাদের সঙ্গে তৈরি হয়েছিল। তাদের পাশাপাশি অ্যানিটা রাজ, প্রেম চোপড়া, শারৎ সাক্সেনা, শারদ সাক্সেনা, এবং মৃত অভিনেতা অমরিশ পুরি ও জগদীপের অংশগ্রহণ ছবিটিকে অতীতের সোনালী স্মৃতি হিসেবে গড়ে তুলেছে।
প্রযোজনা কাজ রজা রায় ফিল্মসের অধীনে সম্পন্ন হয় এবং দেরি না করে প্রয়াত হরমেশ মালহোত্রা পরিচালনা করেন। ছবির গল্পের সংলাপ সলিম‑ফাইজের হাতে এবং সঙ্গীত লাক্সমিকান্ত‑প্যারেলের যুগের সেরা সুরকার দম্পতি রচনা করেন। গানের কথা অ্যানন্দ বক্সি লিখেছেন, আর নৃত্য পরিচালনা করেন নৃত্যশিল্পী সরোজ খান।
চিত্রগ্রহণের সময় ৩৫ মিমি ইস্টম্যান কালার ফিল্ম স্টকে শুট করা হয়, যা সেই সময়ের সমৃদ্ধ রঙের স্বাদকে সংরক্ষণ করে। ছবির ভিজ্যুয়াল গুণমানকে আধুনিক মানে তোলার জন্য, বর্তমান প্রযুক্তি ব্যবহার করে এআই-সহায়িত রেস্টোরেশন, ৪কে রিমাস্টারিং এবং ৫.১ সাউন্ড মিক্সিং করা হয়েছে।
প্রযোজক রজা রায়ের মতে, বহু বছর ধরে এই প্রকল্পটি অচল অবস্থায় থাকলেও তারা কখনো আশা হারায়নি। দীর্ঘ সময়ের পর অবশেষে ছবিটি দর্শকের কাছে পৌঁছাবে, যা তাদের জন্য এক ধরনের ভাগ্যের পূর্ণতা বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফিল্মের রিলিজ পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত হয়েছে; দেশের প্রধান শহরগুলোতে একসাথে প্রদর্শন শুরু হবে। এই পদক্ষেপটি শুধু চলচ্চিত্রের ইতিহাসকে নয়, বরং ভক্তদের জন্যও এক বড় আনন্দের মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে।
রজিনিকান্তের ভক্তগোষ্ঠী, যাকে ‘থালিভা’ বলা হয়, বহু বছর ধরে এই ছবির প্রত্যাশা করে আসছে। শত্রুঘ্ন সিংহা এবং হেমা মালিনীর সমর্থকও একইভাবে উত্তেজনা প্রকাশ করেছেন, কারণ এই তিনজনের সমন্বয় এখনো হিন্দি সিনেমায় দেখা যায় না।
প্রযুক্তিগত পুনর্নবীকরণে ছবির মূল রূপান্তর না করে, শুধুমাত্র চিত্র ও শব্দের গুণমান বাড়ানো হয়েছে। ফলে ১৯৮০-এর দশকের নস্টালজিক টোন বজায় রেখে, আধুনিক দর্শকের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।
এই চলচ্চিত্রের মুক্তি হিন্দি সিনেমার ঐতিহ্যবাহী যুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দস্তাবেজ হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সময়ে, অন্যান্য ক্লাসিক ফিল্মের পুনরুদ্ধার প্রকল্পগুলোকে উৎসাহিত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফিল্মের সঙ্গীত, লাক্সমিকান্ত‑প্যারেল এবং অ্যানন্দ বক্সির সহযোগিতায়, পুরনো সুরের সঙ্গে নতুন রঙের মিশ্রণ তৈরি করেছে। নাচের দৃশ্যগুলোতে সরোজ খানের নৃত্যশৈলী এখনও তাজা অনুভূতি দেয়।
দর্শকরা এখনো এই ছবির প্রথম প্রদর্শনীতে অংশ নিতে পারবেন, যা ৩৭ বছর পরের একটি বিরল সুযোগ। সিনেমা হলের টিকিট বিক্রির শুরুতে আগ্রহী ভক্তদের দীর্ঘ সারি দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ‘হুম মেইন শাহেনশাহ কৌন’ চলচ্চিত্রের পুনরায় মুক্তি হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। এটি পুরনো স্মৃতি ও নতুন প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি একটি অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।
ভবিষ্যতে, এই ধরনের পুনরুদ্ধার প্রকল্পগুলো আরও বেশি করে চলচ্চিত্র সংরক্ষণে সহায়তা করবে এবং নতুন প্রজন্মকে ক্লাসিকের স্বাদ উপভোগের সুযোগ দেবে।



