নিউ জিল্যান্ডের দ্রুতগতি পেসার অ্যাডাম মিল্ন হ্যামস্ট্রিং টান পেয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তালিকায় থেকে বাদ পড়েছেন। তার পরিবর্তে কাইল জেমিসন মূল দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, যা দলের পেসিং বিকল্পকে শক্তিশালী করেছে।
গত রোববার দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টোয়েন্টি সিরিজে মিল্নের প্রথম ওভারে মাত্র তিন বলের পর হ্যামস্ট্রিং টানে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়ে যেতে হয়। চোটের তীব্রতা তাকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি থেকে দূরে রাখবে।
মিল্নের বয়স ৩৩ বছর, তবে তার ক্যারিয়ারটি ধারাবাহিক চোটের ছায়ায় গড়ে উঠেছে। পূর্বে ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তিনি স্কোয়াডে ছিলেন, তবে কোনো ম্যাচে অংশ নিতে পারেননি। লেগে থাকা চোটগুলো তার গতি ও ধারাকে প্রভাবিত করেছে, ফলে তিনি একসময় তুমুল গতি নিয়ে পরিচিত ছিলেন, এখন গতি কমে গেছে।
সাম্প্রতিক এসএ টোয়েন্টি সিরিজে মিল্ন ১১টি উইকেট সংগ্রহ করে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, ওভারপ্রতি গড় ৭.৬১ রান দিয়ে। যদিও চোটের আগে তিনি ভালো ফর্মে ছিলেন, তবে হ্যামস্ট্রিং টান তাকে তৎক্ষণাৎ মাঠ থেকে সরিয়ে দেয়।
বছরের শুরুতে নিউ জিল্যান্ডের হয়ে তিনি তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশ নেন এবং প্রত্যেকটিতে কার্যকর বোলিং করেন। তবে এই ধারাবাহিকতা শেষ হয়ে গেল চোটের কারণে, ফলে তিনি বিশ্বকাপের মঞ্চে উপস্থিত হতে পারছেন না।
মিল্নের অনুপস্থিতি দলের পেসিং দলে বড় ফাঁক তৈরি করেছে, বিশেষ করে তার অভিজ্ঞতা ও গতিশীলতা অনুপস্থিত। কোচ রব ওয়াল্টার এই পরিস্থিতি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে এবং মিল্নের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি বলেন, “অ্যাডামের জন্য আমরা সবাই দুঃখিত; তিনি বিশ্বকাপের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং তার বোলিং ফর্মে ফিরে আসা স্পষ্ট ছিল। এই সময়ে চোটে পড়া তার জন্য দুর্ভাগ্যজনক, এবং আমরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”
কাইল জেমিসন, যিনি পূর্বে সফরসঙ্গী বিকল্প হিসেবে দলের সঙ্গে ছিলেন, এখন মূল স্কোয়াডে স্থান পেয়েছেন। তিনি দীর্ঘ চোট কাটিয়ে গত বছর মাঠে ফিরে এসেছেন এবং তার ফিটনেস ও অভিজ্ঞতা দলের জন্য বড় সম্পদ। কোচ ওয়াল্টার জেমিসনের দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করে বলেন, “কাইল আমাদের পেস বোলিং গ্রুপের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি কঠোর পরিশ্রমী, স্কিলপূর্ণ এবং অভিজ্ঞ, যা তাকে এই টুর্নামেন্টের জন্য ভালো অবস্থানে রাখবে।”
নিউ জিল্যান্ডের পেসার ম্যাট হেনরি ও লকি ফার্গুসনও বিশ্বকাপের সময় পিতৃত্বকালীন ছুটি থেকে দেশে ফিরে আসতে পারেন। তাদের প্রত্যাবর্তন পেসিং দলে অতিরিক্ত বিকল্প যোগ করবে এবং দলের ব্যালেন্স বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
নিউ জিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ নির্ধারিত হয়েছে ৮ ফেব্রুয়ারি, যেখানে তারা আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে। দলটি নতুন গঠন নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সূচনায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠে নামবে।
মিল্নের চোটের ফলে দলটি নতুন কৌশল ও পরিকল্পনা তৈরি করতে বাধ্য হয়েছে, তবে জেমিসনের অন্তর্ভুক্তি ও অন্যান্য পেসারদের সম্ভাবনা দলকে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সহায়তা করবে। বিশ্বকাপের পরবর্তী পর্যায়ে নিউ জিল্যান্ডের পারফরম্যান্স কেমন হবে, তা এখনই দেখা বাকি।



