জাপানের নিগাতা প্রদেশে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কাশিওয়াজাকি‑কারিওয়া, ১৪ বছর পর পুনরায় চালু করা ৬ নম্বর রিঅ্যাক্টর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিরাপত্তা সমস্যার কারণে বন্ধ করা হয়েছে। টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (TEPCO) স্থানীয় সময় ২২ জানুয়ারি জানিয়েছে, রিঅ্যাক্টর চালু করার পর মনিটরিং সিস্টেমে সতর্ক সংকেত দেখা দেয়, ফলে নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসারে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হয়। কোনো তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেনি এবং রিঅ্যাক্টরটি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
রিঅ্যাক্টরটি ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা ২ মিনিটে পুনরায় চালু করা হয়। পুনরায় চালু করার সময়, রিয়্যাক্টরের অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম হঠাৎ অস্বাভাবিক সংকেত দেখায়, যা নিরাপত্তা মানদণ্ডের অধীনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিঅ্যাক্টর বন্ধের নির্দেশ দেয়। TEPCO রিয়্যাক্টরের নিয়ন্ত্রণ রডগুলো পুনরায় প্রবেশ করিয়ে রিঅ্যাক্টরকে স্থিতিশীল অবস্থায় রাখে এবং তৎক্ষণাৎ রেডিয়েশন লিকের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি।
TEPCO জানিয়েছে, সমস্যার মূল কারণ এখনো নির্ধারিত হয়নি এবং তা সমাধান করতে সময় লাগবে। বর্তমান পর্যায়ে, রিঅ্যাক্টরের ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং সমাধানের জন্য পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। রিয়্যাক্টরের নিয়ন্ত্রণ রডের কাজ হল পারমাণবিক বিক্রিয়ার গতি নিয়ন্ত্রণ করা; রডকে সামান্য উপরে তুললে বিক্রিয়া বাড়ে, আবার রডকে নিচে নামিয়ে দিলে বিক্রিয়া ধীর হয় বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়।
কাশিওয়াজাকি‑কারিওয়া পারমাণবিক কেন্দ্রের মোট সাতটি রিঅ্যাক্টর রয়েছে, যার মধ্যে শুধুমাত্র একটি রিঅ্যাক্টরই এই সময়ে চালু ছিল। এই কেন্দ্রের সম্ভাব্য উৎপাদন ক্ষমতা বিশ্বের সর্বোচ্চ হিসেবে স্বীকৃত। তবে ২০১১ সালের ফুকুশিমা দুর্যোগের পর জাপান সব পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে দেশটি ধীরে ধীরে পারমাণবিক শক্তির দিকে ফিরে আসার পরিকল্পনা করছে, যাতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জন করা যায়। বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ চাহিদা, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহ বিভিন্ন প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে, এই লক্ষ্যকে ত্বরান্বিত করার জন্য পারমাণবিক শক্তি পুনরায় চালু করার প্রয়োজনীয়তা জোরদার করেছে।
TEPCO এর মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, রিঅ্যাক্টরটি বর্তমানে নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে এবং রেডিয়েশন লিকের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে রিঅ্যাক্টরের সমস্যার সমাধান কত সময় নেবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। সংস্থা পরিকল্পিতভাবে রিঅ্যাক্টরের নিয়ন্ত্রণ রডগুলো পুনরায় প্রবেশ করিয়ে রিয়্যাক্টরকে স্থিতিশীল অবস্থায় রাখতে কাজ করছে।
এই ঘটনা পারমাণবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে। রিয়্যাক্টর চালু করার সময় পর্যবেক্ষণ সিস্টেমের সতর্ক সংকেত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। যদিও রিঅ্যাক্টরটি পুনরায় চালু করা হয়নি, তবে এই ধরণের দ্রুত প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কাশিওয়াজাকি‑কারিওয়া পারমাণবিক কেন্দ্রের পুনরায় চালু পরিকল্পনা জাপানের শক্তি নীতি পরিবর্তনের অংশ। দেশটি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে, কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে পারমাণবিক শক্তিকে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে এই রকম প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করা কঠিন হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ১৪ বছর পর চালু হওয়া ৬ নম্বর রিঅ্যাক্টর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিরাপত্তা সমস্যার কারণে বন্ধ করা হয়েছে, কোনো রেডিয়েশন লিক ঘটেনি, এবং সমস্যার সমাধানে সময়ের প্রয়োজন। জাপান পারমাণবিক শক্তির দিকে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা এখনো অগ্রাধিকার।



