ঢাকার নয়া পল্টন এলাকায় শারমিন একাডেমির ব্যবস্থাপক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা পবিত্র কুমার বারুয়াকে শিশুর নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারটি মিরপুরের একটি বাসা থেকে করা হয়, যা গতকালই প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজের পর জনসাধারণের তীব্র প্রতিক্রিয়ার ফলস্বরূপ ঘটেছে।
মোটামুটি সকালেই মিরপুরে উপস্থিত হয়ে পবিত্রকে আটক করার কাজটি ঢাকা মন্ত্রণালয় বিভাগের ডেপুটি কমিশনার মুহাম্মদ হারুন ওর রশিদ জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রেফতারটি দ্রুত সম্পন্ন করা হয় এবং সন্দেহভাজনকে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।
পবিত্র কুমার বারুয়া শারমিন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহানের স্বামী। শারমিন জাহান, যাকে একই সময়ে অপরাধের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে, বর্তমানে পল্টন থানা থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানানো হয়েছে।
গতকাল শিশুর মা পল্টন থানায় শারমিন ও পবিত্রের বিরুদ্ধে শিশু আইন ধারা ৭০ অনুযায়ী মামলা দায়ের করেন। মামলায় উভয়কে ভিডিওতে শিশুকে হিংসা ও হুমকি প্রদানকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরেকটি মামলা আরেকজন সংশ্লিষ্টের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে।
প্রকাশিত সিসিটিভি রেকর্ডটি ১৮ জানুয়ারি দুপুর ১২:৫১ টায় ধারণ করা হয়। রেকর্ডে দেখা যায়, এক নারী স্কুল ইউনিফর্ম পরা শিশুকে অফিসের ঘরে টেনে নিয়ে গিয়ে প্রথমে তাকে থাপড়া দেন। এরপর ঘরে উপস্থিত এক পুরুষ, যিনি পরে পবিত্র হিসেবে চিহ্নিত, শিশুর গলা ধরতে থাকে এবং মাঝে মাঝে স্ট্যাপলার ধরে রাখে। শিশুটি কান্না করে এবং ভয়ভীত অবস্থায় থাকে, আর নারী হাস্যোজ্জ্বল মুখে দৃশ্যটি দেখছেন।
পুলিশের মতে, শারমিন জাহান বর্তমানে পল্টন থানার একটি পৃথক টিমের তদবিরে রয়েছে। তিনি এখনও গ্রেফতার হননি এবং তার অবস্থান অনিশ্চিত। পুলিশের দল শারমিনকে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে এবং তার গ্রেফতার নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে।
শিশু অধিকার সংস্থাগুলি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করে যে, ২০১১ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকায় স্কুলে শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুতরাং, এই ধরনের হিংসাত্মক আচরণ আইনগতভাবে অপরাধ এবং সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত।
আইনগত দিক থেকে, ধারা ৭০ অনুযায়ী শিশুর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং এর শাস্তি কঠোর। বর্তমানে পল্টন থানার তদন্ত দল ভিডিওর বিশ্লেষণ, সাক্ষী সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহে কাজ করছে। মামলাটি আদালতে দাখিলের পর দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তির পুনরাবৃত্তি রোধে তীব্র সতর্কবার্তা জারি করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কঠোর তদারকি এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিশুদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার জন্য সমাজের সকল স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি, যাতে শিক্ষার পরিবেশে কোনো ধরনের নির্যাতন না ঘটে।



