সানড্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রামাটিক প্রতিযোগিতায় প্রদর্শিত ‘Ha-chan, Shake Your Booty!’ শিরোনামের চলচ্চিত্রটি, জোসেফ কুবোটা ওয়্লাদিকা পরিচালিত, বিধবা হরু (রিনকো কিকুচি) কীভাবে নৃত্যের মাধ্যমে শোক থেকে বেরিয়ে আসে তা অনুসন্ধান করে। হরু টোকিওতে তার মেক্সিকান স্বামী লুইস (আলেজান্দ্রো এদ্দা) এর সঙ্গে ব্যালরুম নাচের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়, কিন্তু স্বামীর অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর পর তিনি একাকিত্বে ডুবে যান। তার বোনের প্রেরণায় হরু শেষমেশ একটি নাচের ক্লাসে যোগ দেয়, যেখানে নতুন প্রশিক্ষক ফেডির (আলবার্তো গুয়েরা) সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
রিনকো কিকুচি, ‘কুমিকো, দ্য ট্রেজার হান্টার’ এবং ‘বাবেল’ ছবিতে সহ-অস্কার প্রাপ্তি অর্জনকারী, হরু চরিত্রে মধ্যবয়সী এক নারীর জটিল মানসিকতা ফুটিয়ে তোলেন। তার চুলের অগোছালো গুচ্ছ, নীল আইশ্যাডো এবং ঝলমলে পোশাকের বর্ণনা ছবির ভিজ্যুয়াল রঙকে বাড়িয়ে দেয়। আলেজান্দ্রো এদ্দা, যিনি লুইসের ভূমিকায় উপস্থিত, হরুর স্বামী হিসেবে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ছাপ রেখে যান। আলবার্তো গুয়েরা ফেডির চরিত্রে আত্মবিশ্বাসী নৃত্যশিক্ষক হিসেবে হরুর জীবনে নতুন দিক উন্মোচন করেন।
চিত্রনাট্য অনুসারে, লুইসের আকস্মিক মৃত্যুর পর হরু স্বামীকে মেক্সিকোতে দাফন করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে দেহ দাহ না করলে আত্মা শান্তি পাবে না, ফলে হরু ও লুইসের পরিবারিক সদস্যদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। এই সংঘাত হরুকে আরও একাকিত্বের দিকে ঠেলে দেয়, কিন্তু একই সঙ্গে তার অভ্যন্তরীণ শক্তি জাগিয়ে তোলে।
হরুর বোনের দৃঢ়তা তাকে নাচের ক্লাসে নিয়ে যায়, যেখানে হরু প্রথমবারের মতো নিজের দুঃখকে ছাপিয়ে নতুন রিদমে পদক্ষেপ নিতে শেখে। ক্লাসের প্রশিক্ষক ফেডিরের আকর্ষণীয় স্বভাব ও নাচের দক্ষতা হরুকে ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। হরু শেষমেশ ফেডিরকে ডিনারে আমন্ত্রণ জানায়, এবং তার ইতিবাচক সাড়া হরুর জন্য নতুন জীবনের দরজা খুলে দেয়।
চলচ্চিত্রটি রুম্বা, চা-চা এবং ট্যাঙ্গোর মতো আন্তর্জাতিক নৃত্যধারা ব্যবহার করে শোকের গম্ভীর মুহূর্তকে হালকা রঙে রূপান্তরিত করে। হরু এবং ফেডিরের মধ্যে ভাষার বাধা—জাপানি, স্প্যানিশ ও ইংরেজি—মিশ্রিত হওয়ায় গল্পের প্রবাহে বৈচিত্র্য যোগ হয়, যা দর্শকের জন্য স্বাভাবিক ও আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করে।
দিগন্তের দিকে তাকিয়ে, পরিচালক জোসেফ কুবোটা ওয়্লাদিকা শোকের গভীরতা ও নাচের উচ্ছ্বাসের মধ্যে সূক্ষ্ম সমন্বয় ঘটান। তিনি দৃশ্যমানভাবে স্বপ্নময় দৃশ্য ও অতিরিক্ত রঙের ব্যবহার করে হরুর কল্পনাকে স্ক্রিনে ফুটিয়ে তোলেন, যা নাটকের গম্ভীর অংশকে হালকা হাস্যরসের সঙ্গে মিশ্রিত করে। এই শৈলীর পরিবর্তন চলচ্চিত্রকে একধরনের সুরেলা রিদমে পরিণত করে, যেখানে প্রতিটি দৃশ্যের টোন পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হয়।
চলচ্চিত্রের মোট দৈর্ঘ্য দুই ঘণ্টা দুই মিনিট, যা দর্শকের জন্য যথেষ্ট সময় দেয় চরিত্রের বিকাশ ও গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেখার। সানড্যান্সে ড্রামাটিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হওয়ায়, এটি আন্তর্জাতিক সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং চলচ্চিত্র উৎসবের পরিবেশে একটি তাজা বাতাসের মতো স্বীকৃতি পেয়েছে।
সারসংক্ষেপে, ‘Ha-chan, Shake Your Booty!’ একটি অপ্রত্যাশিতভাবে মধুর ও উজ্জ্বল চলচ্চিত্র, যা শোকের পরেও জীবনের রঙ ফিরে পেতে নৃত্যের শক্তি প্রদর্শন করে। রিনকো কিকুচির সূক্ষ্ম অভিনয়, নাচের দৃশ্যের প্রাণবন্ততা এবং পরিচালকের সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি একত্রে দর্শকের হৃদয়ে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে যায়। এই চলচ্চিত্রটি নৃত্যপ্রেমী ও মানবিক গল্পের সন্ধানকারী সকলের জন্য একটি উপযুক্ত পছন্দ।



