বিএল ১২তম সংস্করণের ফাইনাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে চট্টগ্রাম রয়্যালস সামান্য সুবিধা নিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের মুখোমুখি হবে। উভয় দলই টি২০ ফরম্যাটে চূড়ান্ত ম্যাচের জন্য প্রস্তুত, এবং শিরোপা জয়ের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের অংশগ্রহণের আগে দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা গিয়েছিল। দলটির মালিকরা বেসি ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)কে দল হস্তান্তর করার কথা ভাবছিলেন, যা দলকে লিগ থেকে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। তবে, বিসিবি হস্তান্তর গ্রহণের পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নতুন কোচিং স্টাফ এবং কর্মী নিয়োগ করে দলকে পুনর্গঠন করা হয়।
নতুন ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষক দলের মনোবল বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোচ হাবিবুল বাশার উল্লেখ করেন, বিসিবি হস্তান্তরের পর নতুন কর্মী ও কোচিং টিমের সংযোজন দলকে পুনরুজ্জীবিত করেছে এবং ফাইনালে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। এই পরিবর্তনগুলো দলকে প্রথম কোয়ালিফায়ার জয় করে ফাইনালের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
চূড়ান্ত ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসের মূল শক্তি হল স্থানীয় খেলোয়াড়দের সমন্বয়, যেখানে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের দলে দেশীয় ও বিদেশি উভয় ধরনের প্রতিভা মিশ্রিত। উভয় দলের কৌশলগত বৈশিষ্ট্য ভিন্ন, তবে শিরোপা জয়ের জন্য উভয়ই সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের তরুণ ক্যাপ্টেন মাহেদি হাসান এই টুর্নামেন্টে ব্যাট ও বল উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি ১৫টি উইকেট নিয়ে দলের প্রধান অল-রাউন্ডার হিসেবে ফাইনালে অংশ নেবেন। তার নেতৃত্বে দলটি ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।
শোরিফুল ইসলাম ফাইনালের আগে পর্যন্ত ১১টি উইকেট নিয়ে লিগের শীর্ষ বোলার হিসেবে পরিচিত। তার গতি ও পরিবর্তনশীল ডেলিভারি চট্টগ্রাম রয়্যালসের ব্যাটিং লাইনআপকে চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে, যা দলের জয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ক্যাপ্টেন মাহেদি একটি প্রেস কনফারেন্সে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি খেলোয়াড় তাদের ভূমিকা পালন করেছে, ব্যবস্থাপনা ও সিনিয়ররা মানসিক প্রস্তুতি ও প্রেরণায় যথাযথ কাজ করেছে, তাই আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পেরেছি।” এই মন্তব্য দলীয় ঐক্য ও প্রস্তুতির গুরুত্বকে তুলে ধরে।
মাহেদি আরও জোর দিয়ে বলেন, “ফাইনালে পৌঁছেছি, তাই শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখা স্বাভাবিক। প্রতিটি খেলোয়াড় ট্রফি তোলার ইচ্ছা পোষণ করে। দিনের পারফরম্যান্সই চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করবে।” তার কথায় দলের আত্মবিশ্বাস ও লক্ষ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের প্রতি মাহেদি বিশেষ প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “রাজশাহী এই বছর আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, তারা আমাদের সঙ্গে তিনটি ম্যাচে দুইটি জিতেছে এবং আমরা তাদের খেলা ভালোভাবে বিশ্লেষণ করেছি।” এই বিশ্লেষণ দলকে কৌশলগতভাবে প্রস্তুত করতে সহায়তা করবে।
মাহেদি আরও যোগ করেন, “যদি আমরা নিজেদের সর্বোচ্চভাবে প্রয়োগ করতে পারি, তা আমাদের পক্ষে সুবিধাজনক হবে।” তার এই বক্তব্যে দলের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার গুরুত্ব স্পষ্ট।
ফাইনালের সময়সূচি অনুযায়ী ম্যাচটি শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে, এবং উভয় দলই তাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে শিরোপা জয়ের জন্য লড়াই করবে। ভক্তদের প্রত্যাশা উচ্চ, এবং ক্রিকেটের উত্সাহ বাড়িয়ে তুলবে এই চূড়ান্ত টানা।
বিএল ১২তম সংস্করণের ফাইনাল চট্টগ্রাম রয়্যালস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের মধ্যে হবে, যেখানে উভয় দলের পারফরম্যান্সই শিরোপা নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হবে।



