মিরপুর-১০, আদর্শ স্কুল মাঠে গতকাল জামায়াত-ই-ইসলামি তার নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছে। দলের ধারা-ধারক শফিকুর রহমান, ঢাকা-১৫ নির্বাচনের প্রার্থী, উপস্থিত ভক্তদের সামনে দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি ফ্যাসিবাদী প্রবণতার পুনরুত্থান রোধে দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেন।
অনুমানিত সময়ের আগে হাজারো সমর্থক মাঠে জমায়েত হন, আর ১০-দলীয় জোটের অন্যান্য দলীয় নেতারা পার্শ্ববর্তী রাস্তা থেকে সমর্থন জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন। ভিড়ের উল্লাস ও উচ্ছ্বাসের মাঝে অনুষ্ঠানটি বিকাল তিনটায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
প্রোগ্রামের সূচনা কোরআন পঠনের মাধ্যমে হয়, এরপর শহীদ আবদুল হান্নানের পুত্র সাইফ খান উন্মুক্ত ভাষণে অংশ নেন। তিনি শহীদের স্মৃতি ও দেশের স্বার্থে সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে উপস্থিতদের উদ্বুদ্ধ করেন।
শফিকুর রহমান শেষের দিকে গত তিনটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বে ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা ব্যক্তিদের তিনি ‘ভোট চোর’ বলে অভিহিত করেন এবং নতুন কোনো ভোট চোরের উত্থান না দেখতে চান।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, যারা নিজেদের কর্মীদের লুটপাট, জমি দখল, মিথ্যা মামলা দায়ের, দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ ও হিংসাত্মক কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখতে সক্ষম, শুধুমাত্র তারা ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নের দায়িত্ব নিতে পারবে। এই বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক শুদ্ধতা ও নৈতিকতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বিএনপির প্রতি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত দিয়ে তিনি ‘কর’ নামে ছদ্মবেশে লুটপাটের কোনো রূপকে সহ্য না করার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো দল যদি জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ আরোপ করে, তা দেশের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
বিএনপির পরিবার কার্ড বিতরণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, দুই হাজার টাকার মাধ্যমে পরিবারের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয় এবং এমন প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
অধিকন্তু, তিনি এই ধরনের কর্মসূচির অর্থের উৎস সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই তহবিল কোনো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, বরং করদাতাদের অর্থ, যা অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে।
শফিকুর আরও উল্লেখ করেন, গৃহস্থালির দোকান, রাস্তার বিক্রেতা, পথিক ভিক্ষুক ইত্যাদি থেকে গোপনে টাকা সংগ্রহের প্রচলন রয়েছে। তিনি বলেন, এই অবৈধ ট্যাক্সের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থকে কোনো রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়।
অবশেষে তিনি নিশ্চিত করেন, সরকারী তহবিলের অবৈধ ব্যবহার বন্ধ করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন কোনো অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না ঘটতে দেওয়া হবে। তিনি ঈমানদার ও স্বচ্ছ শাসনের জন্য এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই প্রচারাভিযানের মাধ্যমে জামায়াত-ই-ইসলামি তার দুর্নীতি-মুক্ত নীতি ও স্বচ্ছ শাসনের লক্ষ্যকে জনমত সামনে তুলে ধরতে চায়। বিশাল সমাবেশের পর দলটি আগামী নির্বাচনে ভোটারদের আস্থা অর্জনের জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।



