20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনসান্ডান্সে প্রদর্শিত 'দ্য ইনকমার' চলচ্চিত্রের গল্প ও চরিত্র বিশ্লেষণ

সান্ডান্সে প্রদর্শিত ‘দ্য ইনকমার’ চলচ্চিত্রের গল্প ও চরিত্র বিশ্লেষণ

সান্ডান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের NEXT শাখায় লুই প্যাক্সটনের পরিচালিত ‘দ্য ইনকমার’ বড় পর্দায় আসার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। স্কটল্যান্ডের উত্তর-পূর্ব উপকূলের এক নির্জন দ্বীপে বসবাসরত অনাথ ভাইবোনের জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই চলচ্চিত্রে ডোমনাল গ্লিসন প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

দ্বীপটি শহরের কোলাহল থেকে দূরে, সমুদ্রের গর্জন ও সাগরের পাখির গানে ঘেরা, যেখানে আধুনিক জীবনের সুবিধা কোনোভাবেই পৌঁছায় না। এখানে বড় হওয়া দুই সন্তান, স্যান্ডি ও আইসলা, প্রাচীন সমুদ্রপাখি কিংবদন্তির ছায়ায় বেড়ে ওঠে, যা তাদের জীবনের একমাত্র দিকনির্দেশনা হয়ে দাঁড়ায়।

ডোমনাল গ্লিসন যে ড্যানিয়েল চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তিনি মূল ভূখণ্ডের একজন ভূমি পুনরুদ্ধার সমন্বয়কারী। তার কাজের দায়িত্ব হল দেউলিয়া সম্পত্তি ও বাড়ি জব্দের প্রক্রিয়া তদারকি করা, যা তাকে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি ছাড়িয়ে যাওয়ার কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি করে। এই নৈতিক দ্বন্দ্ব তাকে অফিসে এক বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি করে তুলেছে।

ড্যানিয়েলের সরাসরি ঊর্ধ্বতন রোজ, যাকে মিশেল গোমেজ অভিনয় করেছেন, তার কঠোর ব্যবস্থাপনা শৈলীর জন্য পরিচিত। রোজ ড্যানিয়েলের সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিকে দুর্বলতা হিসেবে দেখে, ফলে তার সঙ্গে কাজ করা প্রায়শই কঠিন হয়ে ওঠে। এই সম্পর্কই ড্যানিয়েলকে দ্বীপে পাঠানোর মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ড্যানিয়েল গৃহহীনতা ও সম্পত্তি জব্দের কাজের পাশাপাশি শারীরিকভাবে কিছুটা ভিন্ন; তিনি লালচে ত্বকের গন্ধযুক্ত গিঁজামি রোগে আক্রান্ত, যা তার আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলে। তবে তার এই বৈশিষ্ট্যগুলো তাকে আরও মানবিক করে তুলেছে, যা দর্শকদের সঙ্গে তার সংযোগ বাড়িয়ে দেয়।

দ্বীপে যাওয়ার কারণ হল, ড্যানিয়েলের সহকর্মী ক্যালাম, যাকে এমুন ইলিয়ট অভিনয় করেছেন, আইনি সমস্যার কারণে কাজ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয়। রোজের আদেশে ড্যানিয়েলকে ক্যালামের পরিবর্তে পাঠানো হয়, যাতে তিনি স্যান্ডি ও আইসলা দুজনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন।

স্যান্ডি ও আইসলা, যথাক্রমে গ্র্যান্ট ও’রুর্ক এবং গেইল র‍্যাঙ্কিনের অভিনয়ে, তাদের নামই তাদের চরিত্রের স্বভাবকে প্রকাশ করে। স্যান্ডি শক্তিশালী ও রুক্ষ, আর আইসলা কোমল ও স্বপ্নময়, দুজনের মধ্যে পারস্পরিক টানাপোড়েন গল্পের মূল চালিকা শক্তি।

দ্বীপের বাসিন্দারা প্রাচীন সমুদ্রপাখি কিংবদন্তির প্রতি অটল বিশ্বাসে বেঁধে আছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে অদ্ভুত রীতি-নীতি গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এই বিশ্বাসের ফলে দ্বীপের পরিবেশে এক ধরনের অদ্ভুত হাস্যরসের ছোঁয়া দেখা যায়, যদিও তা সবসময় দর্শকের কাছে মসৃণভাবে পৌঁছায় না।

চলচ্চিত্রের টোনকে হালকা-ফুলকা কমেডি হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও, কিছু দৃশ্যের অতিরিক্ত অদ্ভুততা দর্শকদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তবে ড্যানিয়েলের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দ্বীপের স্বতন্ত্র পরিবেশের মিশ্রণ গল্পকে এক অনন্য রঙ দেয়।

প্রায় এক ঘণ্টা চুয়াল্লিশ মিনিটের এই চলচ্চিত্রে ডোমনাল গ্লিসন, গেইল র‍্যাঙ্কিন, গ্র্যান্ট ও’রুর্ক, এমুন ইলিয়ট, মিশেল গোমেজ এবং জন হ্যানাহা সহ একাধিক পরিচিত মুখের উপস্থিতি রয়েছে। লুই প্যাক্সটনের পরিচালনায় তৈরি এই কাজটি স্কটল্যান্ডের প্রাকৃতিক দৃশ্য ও মানবিক দ্বন্দ্বকে একত্রে উপস্থাপন করে।

যারা বিচ্ছিন্ন দ্বীপের রহস্যময় পরিবেশ, মানবিক নৈতিক দ্বন্দ্ব এবং সূক্ষ্ম হাস্যরসের সমন্বয় উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য ‘দ্য ইনকমার’ একটি মনোমুগ্ধকর বিকল্প হতে পারে। সিনেমা প্রেমিকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, সান্ডান্সের পরবর্তী প্রদর্শনীতে অথবা অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে এই চলচ্চিত্রটি দেখার মাধ্যমে স্কটল্যান্ডের নীরব দ্বীপের গল্পে নিজেকে নিমজ্জিত করা উচিত।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments