সারস্বতী পূজা, হিন্দু ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব, আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পূর্ণ উদ্দীপনা ও শোভা সহ পালন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশেষভাবে এই দিনটি গুরুত্ব পায়, কারণ সরস্বতী জ্ঞান ও শিক্ষার দেবী হিসেবে পূজিত হন।
উৎসবটি মাঘের শুক্ল পক্ষের পঞ্চম তিথিতে, যা বসন্ত পঞ্চমী নামেও পরিচিত, অনুষ্ঠিত হয়। এই দিনটি সরস্বতীর জন্মদিন হিসেবে গণ্য করা হয় এবং বসন্তের আগমনের প্রতীক হিসেবে উদযাপিত হয়।
সকালবেলা পূজা শুরু হয়, যেখানে অঞ্জলি হিসেবে ফুলের অর্পণ করা হয়। এই রীতি দেবীর প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি প্রথা।
শিশু ও শিক্ষার্থীরা হাটেখোরি—স্লেট ও চকের সাহায্যে—শিক্ষার সূচনা করে। এই প্রথা শিক্ষার প্রতি সম্মান ও নতুন জ্ঞান অর্জনের ইচ্ছা জাগিয়ে তোলে।
অর্পিত অঞ্জলির পর, প্রাসাদ (পবিত্র খাবার) বিতরণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা এই পবিত্র আহার গ্রহণ করে, যা পূজার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
সারস্বতী দেবীকে প্রায়ই চাঁদ-চিহ্নিত কপালে, হংস বা ময়ূরের সওয়ার, অথবা পদ্মফুলে বসে চিত্রিত করা হয়। তিনি সৃজনশীলতা, শক্তি ও অনুপ্রেরণার প্রতীক, যা প্রকৃতির সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা প্রকাশ করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্যানডালগুলোতে আজকের বৃহত্তম সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। হাজারো ভক্ত ও শিক্ষার্থী এখানে একত্রিত হয়ে রীতি-অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হলের প্রশাসন ৭৬টি পুজা মণ্ডপ স্থাপন করেছে এবং প্রতিটি মণ্ডপের পরিচালনা তদারকি করা হচ্ছে। এই মণ্ডপগুলোতে ধর্মীয় রীতি, সঙ্গীত ও নৃত্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানের সময়সূচিতে ধর্মীয় আচার, সাংস্কৃতিক পারফরম্যান্স, ভক্তিমূলক সঙ্গীত ও অর্পণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই সবই জগন্নাথ হলের দীর্ঘস্থায়ী সরস্বতী পূজা ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে গর্বের সঙ্গে উপস্থাপিত হবে।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস আজকের উপলক্ষে একটি শুভেচ্ছা বার্তা প্রকাশ করেছেন। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়কে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে, বাংলাদেশকে ধর্মীয় সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মানের মডেল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বার্তায় তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ সকল ধর্ম ও জাতির মানুষের জন্য নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ঘরবাড়ি। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই দেশটি সকলেরই, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে, সমান অধিকার ও সুরক্ষার অধিকারী।
শিক্ষা ক্ষেত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে, সরস্বতী পূজা শিক্ষার্থীদের জন্য জ্ঞান ও সৃজনশীলতার প্রতি অনুপ্রেরণা জাগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এই দিনটি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিজের শিক্ষার লক্ষ্য নির্ধারণ ও অর্জন করতে পারে, তা নিয়ে চিন্তা করা উচিত।
আপনার মতামত কী? আপনার শিক্ষাজীবনে সরস্বতী পূজা কীভাবে প্রেরণা জোগায়, তা শেয়ার করুন।



