27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাস্পিনাররা ফেব্রুয়ারি ১ থেকে কারখানা বন্ধের হুমকি, দায়িত্বমুক্ত ইম্পোর্ট নীতি প্রত্যাহার না...

স্পিনাররা ফেব্রুয়ারি ১ থেকে কারখানা বন্ধের হুমকি, দায়িত্বমুক্ত ইম্পোর্ট নীতি প্রত্যাহার না হলে

ঢাকা, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে স্পিনিং ইউনিট বন্ধের হুমকি স্থানীয় টেক্সটাইল মিলারদের থেকে এসেছে। তারা সরকারকে এই মাসের শেষের মধ্যে ইম্পোর্টের উপর দায়িত্বমুক্ত সুবিধা প্রত্যাহার না করলে উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে। এই দাবি বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এর সদর দফতরে অনুষ্ঠিত প্রেস কনফারেন্সে প্রকাশিত হয়।

বিটিএমএ নেতারা উল্লেখ করেছেন, যদি সরকার দায়িত্বমুক্ত ইম্পোর্ট নীতি বজায় রাখে, তবে কারখানা বন্ধের ফলে শ্রমিকদের মধ্যে অশান্তি দেখা দিতে পারে এবং তার দায়িত্ব সরকারই বহন করবে। স্পিনাররা আরও সতর্ক করেছেন যে উৎপাদন বন্ধ হলে ব্যাংক ঋণ ও অন্যান্য আর্থিক দায়িত্ব পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

স্থানীয় মিলগুলো বর্তমানে টাকার ১২,৫০০ কোটি মূল্যের অমিল স্টক ধরে রেখেছে, যা মূলত ভারত থেকে সস্তা ইয়ার্নের প্রবাহের ফলে বাজারে বিক্রি না হওয়া পণ্যের ফল। এই পরিস্থিতি টেক্সটাইল শিল্পের আর্থিক স্বাস্থ্যের উপর চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিটিএমএ এর এই বিবৃতি আসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে, যা নির্দিষ্ট ইয়ার্নের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা থেকে দায়িত্বমুক্ত সুবিধা শেষ করার পরামর্শ দেয়। তবে গার্মেন্টস উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক সংস্থা, যেমন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকিএমইএ) এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। তারা দাবি করে, ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন ইয়ার্নের দাম দেশীয় বাজারে আমদানি পণ্যের তুলনায় বেশি, ফলে স্থানীয় উৎপাদনকারীদের প্রতিযোগিতায় অসুবিধা হচ্ছে।

বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল প্রেস কনফারেন্সে পরিস্থিতিকে “জাতীয় সংকট” এবং “স্থানীয় স্পিনিং সেক্টরের জরুরি অবস্থা” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, গ্যাসের ঘাটতির কারণে বেশিরভাগ মিল বর্তমানে মাত্র ৬০ শতাংশ ক্ষমতায় কাজ করছে, তবুও সরকার ট্যাক্স ও ভ্যাট সংগ্রহ চালিয়ে যাচ্ছে, গ্যাসের দাম কমানোর কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে।

রাসেল অতীতের কিছু ঘটনার উদাহরণ দিয়ে সতর্ক করেছেন। যখন ভারত কটন রপ্তানি বন্ধ করেছিল, তখন দেশের টেক্সটাইল মিলগুলো বড় সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। তিনি একক সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পের জন্য বড় ঝুঁকি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন।

বিটিএমএ আরও জানিয়েছে, দেশের সর্বনিম্ন উন্নত দেশ (LDC) ক্লাব থেকে নভেম্বর মাসে সরে যাওয়ার পর, আন্তর্জাতিক বাজারে বাণিজ্য সুবিধা পেতে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পূরণ করতে হবে। এই শর্ত পূরণ না হলে রপ্তানি সুবিধা হ্রাস পাবে, যা শিল্পের জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

সারসংক্ষেপে, স্পিনারদের দাবির মূল বিষয় হল দায়িত্বমুক্ত ইম্পোর্ট নীতি দ্রুত প্রত্যাহার, গ্যাসের দাম কমিয়ে উৎপাদন খরচ হ্রাস, এবং স্থানীয় ইয়ার্নের দামকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য করা। যদি সরকার এই চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে উৎপাদন বন্ধ, আর্থিক চাপ এবং শ্রমিক অশান্তি শিল্পের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

এই পরিস্থিতি টেক্সটাইল শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে যখন দেশীয় মূল্য সংযোজনের লক্ষ্য পূরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। সরকার, শিল্প সংস্থা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপই এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার মূল চাবিকাঠি হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments