ব্রিটিশ-আমেরিকান অভিনেত্রী জামিলা জামিল সম্প্রতি তার ফেমিনিস্ট নীতির ওপর পুনরায় জোর দিয়েছেন, যখন প্রকাশ্য নথিতে প্রকাশিত টেক্সটে তিনি ব্লেক লাইভলিকে “খলনায়ক” বলে উল্লেখ করেছিলেন। এই টেক্সটগুলো মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর জামিল ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ভিডিও শেয়ার করে ফেমিনিজমের মূল ধারণা ব্যাখ্যা করেন। একই সময়ে, লাইভলি জাস্টিন বালডোনির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও প্রতিশোধের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন, যার বিচার মে মাসে শুরু হওয়ার কথা।
ব্লেক লাইভলি, যিনি “ইট এন্ডস উইথ আস” ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন, ডিসেম্বর ২০২৪-এ বালডোনির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন। মামলাটি চলচ্চিত্রের প্রচার পর্যায়ে লাইভলির কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, যেখানে তিনি চলচ্চিত্রের গৃহহিংসা বিষয়বস্তু নিয়ে যথেষ্ট গম্ভীর না হওয়ার অভিযোগে সমালোচিত হয়েছিলেন। আদালতে উন্মোচিত নথিতে লাইভলির টেলর সুইফটের সঙ্গে টেক্সট বিনিময়, বেন আফ্লেকের কাছে ইমেইল, এবং সনি পিকচার্সের এক্সিকিউটিভদের বার্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া, সহ-অভিনেত্রী জেনি স্লেট ও ইসাবেলা ফেরেরের ডিপোজিশনে দেওয়া বিবৃতি ও মন্তব্যও নথিতে প্রকাশ পেয়েছে।
অগাস্ট ২০২৪-এ জামিল এবং বালডোনির পাবলিসিস্ট জেনিফার এবেল, যিনি উভয়ের প্রতিনিধিত্ব করতেন, একটি ব্যক্তিগত টেক্সট বিনিময় করেন। এই কথোপকথনটি টিকটক ভিডিওর প্রতিক্রিয়ায় হয়, যেখানে লাইভলির প্রেস ট্যুরের সময়ের মন্তব্যকে যথাযথভাবে গম্ভীর না হওয়ার জন্য সমালোচনা করা হয়েছিল। জামিল সেই সময়ে লাইভলির প্রতি তার অসন্তোষ প্রকাশ করে, তাকে “একটি আত্মহত্যা বোমা” হিসেবে তুলনা করেন এবং “এত অদ্ভুত খলনায়ক আচরণ আগে কখনো দেখিনি” বলে মন্তব্য করেন।
এই টেক্সটগুলো প্রকাশের পর জামিল ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও আপলোড করেন, যেখানে তিনি স্পষ্ট করেন যে ফেমিনিজমের মানে অন্য নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মতপার্থক্য থাকা নিষিদ্ধ নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে নারীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমতা অর্জনই ফেমিনিজমের মূল লক্ষ্য, এবং এটি শুধুমাত্র লিঙ্গ সমতার ওপর সীমাবদ্ধ নয়। ভিডিওতে তিনি সরাসরি লাইভলি বা “ইট এন্ডস উইথ আস” ছবির কোনো বিষয় উল্লেখ না করেও তার অবস্থান পরিষ্কার করেন।
মিডিয়া এই ঘটনাকে ব্যাপকভাবে কভার করেছে, বিশেষত টিএমজেডের রিপোর্টে জামিলের “ফেমিনিস্ট, নারী-প্রথম” ইমেজে আঘাতের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। প্রকাশ্য নথিতে জামিলের টেক্সটগুলোকে “বিরক্তিকর” ও “বিরোধপূর্ণ” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা তার সামাজিক মিডিয়া অনুসারীদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তবে জামিলের নিজের বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ফেমিনিজমের অর্থ হল নারীর অধিকার রক্ষার জন্য সংগ্রাম করা, ব্যক্তিগত মতবিরোধকে তা থেকে বাদ দেওয়া নয়।
বালডোনি ও জেনিফার এবেল উভয়েই এই টেক্সটগুলোকে মিডিয়া তাড়া থেকে রক্ষা পেতে এবং মামলার প্রেক্ষাপটে যথাযথভাবে ব্যবহার করার জন্য আইনগত পরামর্শ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। আদালতে উন্মোচিত নথিগুলোতে লাইভলির টেলর সুইফটের সঙ্গে ব্যক্তিগত কথোপকথন, বেন আফ্লেকের কাছে পাঠানো ইমেইল, এবং সনি পিকচার্সের এক্সিকিউটিভদের অভ্যন্তরীণ মেমো অন্তর্ভুক্ত, যা মামলার জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে।
এই মামলার মূল বিষয় হল চলচ্চিত্রের গৃহহিংসা বিষয়বস্তু এবং তার প্রচারকালে অভিনেতাদের মন্তব্যের স্বচ্ছতা। লাইভলি দাবি করেন যে বালডোনি ও তার দলের সঙ্গে কাজের সময় তাকে অনুপযুক্তভাবে আচরণ করা হয়েছে এবং তার পেশাগত সুযোগের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে, বালডোনি ও তার আইনজীবী দল দাবি করে যে লাইভলির অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তিনি চলচ্চিত্রের প্রচারকালে প্রকাশিত মন্তব্যের জন্য কোনো শাস্তি পাওয়া উচিত নয়।
জামিলের ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে তিনি ফেমিনিজমের সঠিক সংজ্ঞা তুলে ধরার পাশাপাশি সামাজিক মিডিয়ায় মতবিরোধের প্রতি সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নারীর সমতা অর্জনের পথে বিভিন্ন মতামত ও বিতর্ক স্বাভাবিক, তবে তা কখনোই সমতার মূল লক্ষ্যকে ক্ষুণ্ন করা উচিত নয়। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি তার পূর্বের টেক্সটের প্রেক্ষাপটকে পুনর্বিবেচনা করার চেষ্টা করেছেন।
মিডিয়া বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন যে জামিলের এই পদক্ষেপ তার ফ্যানবেসের মধ্যে বিভাজন ঘটাতে পারে, তবে একই সঙ্গে তিনি ফেমিনিজমের বহুমুখী দিকগুলোকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। যদিও টেক্সটগুলোকে কিছু লোক “খলনায়ক” হিসেবে দেখেছে, অন্যরা জামিলের স্বচ্ছতা ও নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে প্রশংসা করেছে।
সারসংক্ষেপে, জামিলা জামিলের ফেমিনিস্ট নীতির প্রতি পুনর্ব্যক্তি এবং ব্লেক লাইভলির বিরুদ্ধে চলমান মামলার প্রেক্ষাপটে উন্মোচিত টেক্সটগুলো মিডিয়ার তীব্র দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। উভয় পক্ষের আইনি লড়াই এবং সামাজিক মিডিয়ায় মতবিনিময় ভবিষ্যতে ফেমিনিজম, শিল্পের নৈতিকতা এবং পাবলিক পারসোনার দায়িত্ব নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে।



