ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প ফক্স নিউজে বলেছিলেন, আফগানিস্তানে ন্যাটো সেনাবাহিনী সামনের লাইন থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান করেছিল। এই বক্তব্যের ফলে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বহু সদস্যের মধ্যে রাগের স্রোত বইয়ে ওঠে।
ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ন্যাটো সহযোগিতা কখনোই প্রয়োজনীয় ছিল না এবং তারা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিশেষ কোনো অনুরোধ পাননি। তিনি যোগ করেন, ন্যাটো কিছু সৈন্য পাঠিয়েছে, তবে তারা “সামনের লাইন থেকে একটু পিছিয়ে” ছিল। এই মন্তব্যকে তিনি ন্যাটোকে “দুই‑দিকের রাস্তা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপের প্রতি ঋণী বলা হয়েছে।
আফগানিস্তান যুদ্ধের সূচনা হয় ২০০১ সালে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার পর ন্যাটোর যৌথ নিরাপত্তা ধারা invoked করে। যুক্তরাজ্যসহ বহু মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালায়। এই মিশনে ৪৫৭ জন ব্রিটিশ সেবাকর্মী নিহত হয়, যা দেশের সামরিক ইতিহাসে একটি বড় ক্ষতি হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।
লেবার পার্টির এমিলি থর্নবেরি, বিদেশ বিষয়ক কমিটির চেয়ার, ট্রাম্পের মন্তব্যকে “সম্পূর্ণ অবমাননা” বলে অভিযুক্ত করেন। তিনি যুক্তি দেন, আফগানিস্তানে ব্রিটিশ সৈন্যদের ত্যাগকে এভাবে হালকা করে বলা অনৈতিক। থর্নবেরি বলেন, যুক্তরাজ্য সবসময় আমেরিকানদের চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত ছিল এবং এই ধরনের মন্তব্য তাদের ত্যাগকে ক্ষুন্ন করে।
লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টির নেতা স্যার এড ডেভি একইভাবে ট্রাম্পের কথাকে নিন্দা করেন। ডেভি জোর দিয়ে বলেন, “কীভাবে তিনি তাদের ত্যাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারেন?” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের ওপর আঘাতের ইঙ্গিত দেন।
কনজারভেটিভ পার্টির বেন ওবেস-জেক্টি, যিনি নিজে আফগানিস্তানে সেবা করেছেন, মন্তব্যে শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দেশের ত্যাগ এবং ন্যাটোর অংশীদারদের ত্যাগকে এভাবে হালকা করে বলা দুঃখজনক”। ওবেস-জেক্টি তীব্রভাবে উল্লেখ করেন, এই ধরনের রায় দেশের সেবাকর্মীদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে।
কনজারভেটিভ শ্যাডো ক্যাবিনেটের সদস্য স্টুয়ার্ট অ্যান্ড্রুও ট্রাম্পের মন্তব্যকে “অশোভন” ও “অসহনীয়” বলে সমালোচনা করেন। তিনি যুক্তি দেন, এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক মিত্রদের মধ্যে অবিশ্বাসের বীজ বপন করে।
বিবিসির “কোয়েশন টাইম” অনুষ্ঠানে থর্নবেরি ট্রাম্পের কথাকে “একজন এমন ব্যক্তি যিনি কখনো কোনো যুদ্ধক্ষেত্র দেখেননি” বলে বর্ণনা করেন। তিনি যুক্তি দেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বের স্বভাব এবং তার যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতি সম্পর্কে জ্ঞান অপর্যাপ্ত। থর্নবেরি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বন্ধুত্বের ভিত্তি ন্যাটো, তবে ট্রাম্পের আচরণ তা ক্ষয় করছে।
এই ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের সরকারী দপ্তর সম্ভবত ট্রাম্পের মন্তব্যের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করবে। ন্যাটো সংস্থাও এই ধরনের প্রকাশকে অগ্রাহ্য করতে পারবে না, কারণ এটি মিত্রদের মধ্যে ঐক্যকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। উভয় পক্ষের মধ্যে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের এই রকম মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মঞ্চে একাকিত্বের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ন্যাটোর ভবিষ্যৎ কৌশল এবং মিত্র দেশগুলোর সমর্থন বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও সমন্বিত ও সম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করতে হবে।
সংক্ষেপে, ট্রাম্পের আফগানিস্তান যুদ্ধের ন্যাটো ভূমিকা সম্পর্কে মন্তব্যে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক নেতারা তীব্র বিরোধিতা প্রকাশ করেছেন এবং এই বিষয়টি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য ও ন্যাটো সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।



