প্রাক্তন বিশেষ পরামর্শদাতা জ্যাক স্মিথ কংগ্রেসের সামনে প্রথমবার তার ট্রাম্পের ওপর চালু অপরাধমূলক তদন্তের বিবরণ উপস্থাপন করেন। তিনি জানুয়ারি ৬, ২০২১-এ ক্যাপিটল দাঙ্গায় ট্রাম্পের সরাসরি দায়িত্বের কথা তুলে ধরেছেন, যখন শত শত সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে প্রবেশ করে বিশাল অশান্তি সৃষ্টি করেছিল।
স্মিথের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, তার দলকে এমন প্রমাণের সমাহার হয়েছে যা যুক্তি সাপেক্ষে সন্দেহের কোনো সুযোগ রাখে না এবং দুইটি মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্তের সম্ভাবনা যথেষ্ট। প্রথমটি ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল উল্টানোর চেষ্টা এবং দ্বিতীয়টি পদত্যাগের পর গোপন নথি অবৈধভাবে সংরক্ষণ করার অভিযোগ।
ট্রাম্প উভয় মামলায় দোষ স্বীকার না করে ‘নট গিল্টি’ রায় দিয়েছেন এবং গত বছর হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর এই মামলাগুলি সাময়িকভাবে স্থগিত হয়। তবে নতুন বছরের আগের রাতে রিপাবলিকান-নেতৃত্বাধীন কমিটি ২৫৫ পৃষ্ঠার ট্রান্সক্রিপ্ট প্রকাশ করে, যেখানে স্মিথের গোপন সাক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত। বৃহস্পতিবারের পাঁচ ঘণ্টার শুনানিতে তিনি প্রথমবার জনসাধারণের সামনে তার মতামত প্রকাশের সুযোগ পান।
শুনানিতে প্রশ্নকারী আইনসভা সদস্যদের মধ্যে রিপাবলিকানরা প্রায় একই রকম অভিযোগ পুনরাবৃত্তি করেন যে এই মামলাগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ এবং স্মিথ কিছু রিপাবলিকান আইনসভা সদস্যের ফোন রেকর্ডের জন্য সমন জারি করে তাদের নজরদারি করছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের জানুয়ারি ৬ দাঙ্গা সংক্রান্ত অপরাধে জোর দিয়ে স্মিথের তদন্তকে প্রশংসা করেন।
শুনানির মূল বিষয়গুলোতে স্মিথের চারটি মূল মন্তব্য উঠে আসে। প্রথমে তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুইটি ফৌজদারি অভিযোগ আনার সিদ্ধান্তে কোনো অনুতাপ না প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যদি একই প্রমাণের ভিত্তিতে কোনো প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মামলা করা হতো, তবে তিনি তা রাজনৈতিক পার্থক্য না রেখে করতেন।
দ্বিতীয়ত, তিনি জোর দিয়ে বলেন যে কোনো ব্যক্তি, তার রাজনৈতিক সংযুক্তি যাই হোক না কেন, দেশের আইনের সামনে সমানভাবে দায়বদ্ধ। আইন অনুযায়ী ট্রাম্পকে দায়িত্বে রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং তিনি তা মেনে চলেছেন।
তৃতীয়ত, স্মিথের দলকে “অত্যধিক প্রমাণ” সংগ্রহের কথা উল্লেখ করা হয়, যা উভয় মামলায় দোষী সাব্যস্তের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। তিনি বলেন, এই প্রমাণগুলো স্পষ্টভাবে দেখায় যে ট্রাম্পের ভূমিকা ও দায়িত্বের মাত্রা অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ।
শেষে, তিনি উল্লেখ করেন যে প্রমাণগুলো দেখায় ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি ও বিশৃঙ্খলা কত বড়। এই বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট হয় যে, তিনি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ট্রাম্পকে জবাবদিহি করতে চান, যাতে ভবিষ্যতে কোনো রাষ্ট্রপতি আইন থেকে উপরে না থাকে।
শুনানির পরবর্তী ধাপ হিসেবে কংগ্রেসের কমিটি আরও প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে এবং সম্ভাব্যভাবে অতিরিক্ত নথি ও সাক্ষীর আহ্বান জানাতে পারে। একই সঙ্গে, ফেডারেল বিচার বিভাগে মামলাগুলোর অগ্রগতি এবং ট্রাম্পের আইনগত প্রতিরক্ষা কিভাবে গড়ে উঠবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে।
এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে আইন ও রাজনীতির সীমা পুনরায় নির্ধারিত হচ্ছে। ট্রাম্পের সমর্থকরা এই তদন্তকে রাজনৈতিক শিকড়ের অংশ হিসেবে দেখছেন, আর বিরোধীরা এটিকে আইনের শাসনের পুনঃপ্রতিষ্ঠা হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে আদালতের রায় ও কংগ্রেসের পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক গতিপথে বড় প্রভাব ফেলবে।



