বাংলাদেশের আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ (৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায়) অংশগ্রহণের সম্ভাবনা এখন অনিশ্চিত, কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি থেমে গেছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে ক্রিকেট প্রশাসনের প্রাক্তন মুখ্য ব্যক্তিত্ব সাইদ আশরাফুল হক, যিনি পূর্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক এবং এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের সিইও হিসেবে কাজ করেছেন, ব্যাংককে ফোনের মাধ্যমে তার মতামত শেয়ার করেছেন।
হক উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক ঘটনার পরিচালনা পুরোপুরি ভুল হয়েছে এবং খেলাধুলা ও রাজনীতির মিশ্রণ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, দেশীয় টুর্নামেন্ট ও বিশ্বকাপের মধ্যে পার্থক্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ, যা এখনো যথাযথভাবে করা হয়নি।
কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি সমালোচনা করেন যে, শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা উচিত নয়; বরং আলোচনার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে উভয় পক্ষের সঙ্গে সমঝোতার পথ খোলা রাখা উচিৎ। ইতিহাসে তিনি কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরেন, যেখানে ক্রিকেটের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো হয়েছে। ১৯৮০-এর দশকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের ঝুঁকি থাকলে, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিয়া-উল-হাক একটি টেস্ট ম্যাচ দেখতে জয়পুরে গিয়েছিলেন। একইভাবে, ২০০৪ সালের কারগিল সংঘাতের পর পুরো ভারতীয় দল পাকিস্তানে গিয়ে খেলায় অংশ নেয়, এবং তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী অতলবিহারী ভাজপেয়ি দলকে বলেছিলেন যে জয় বা পরাজয় নয়, পাকিস্তানের মানুষের হৃদয় জয় করা গুরুত্বপূর্ণ।
২০০৮ সালে সন্ত্রাসী হামলার সময় হক তখন এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের সিইও হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মানমোহন সিং এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি শশাঙ্ক মনোহরের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শমনের চেষ্টা করেন। এই ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন যে, ক্রীড়া কখনোই রাজনৈতিক উত্তেজনার জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়, বরং শান্তি ও পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে তোলার মাধ্যম হতে পারে।
বর্তমানে, আইসিসি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে আলোচনার অচলাবস্থা যদি সমাধান না হয়, তবে বাংলাদেশ টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হক এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যদি এই ধরণের কঠোরতা অব্যাহত থাকে, তবে দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি সব পক্ষকে আহ্বান জানান, দ্রুত সমঝোতা করে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা দরকার।
হক আরও উল্লেখ করেন, ক্রিকেটের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নত করার ঐতিহ্যকে পুনরায় জোরদার করা উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে ক্রীড়া ও রাজনীতির মধ্যে স্পষ্ট সীমানা রক্ষা করে, উভয় ক্ষেত্রের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশের টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে চলমান, তবে আলোচনার অচলাবস্থা ও হকের মতামত স্পষ্ট করে যে, এখনই সমঝোতার দরজা খোলা রাখা এবং কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসা অপরিহার্য। এই পরিস্থিতি যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তবে দেশের ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও খেলোয়াড়দের মনোবল দুটোই প্রভাবিত হতে পারে।



