গির্মিন ওয়ালি গ্রামে রবিবার সকালবেলায় সেরুবিম অ্যান্ড সেরাফিম মুভমেন্ট চার্চে সশস্ত্র আক্রমণকারীরা প্রবেশ করে উপাসকদের জব্দ করার চেষ্টা করে। ৬০ বছর বয়সী এক নারী, যাকে সংবাদে সারা পিটার নামে উল্লেখ করা হয়েছে, রাইফেল দিয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে রক্তপাত বন্ধ করতে বড় প্লাস্টার ব্যবহার করতে হয়।
আক্রমণকারীরা রাইফেল দিয়ে তার মাথা আঘাত করে তাকে চলতে বাধ্য করার সংকেত দেন, ফলে তার গলা ও কপাল থেকে রক্তের ছিটা ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বললেন, রক্ত তার হাতের আঙুলে লেগে ছিল এবং তিনি এখনও ঘটনাটির শক থেকে সেরে উঠতে পারেননি।
নারীটি জানান, তাকে বহুবার টেনে নেওয়া হয়েছিল যদিও তিনি হাঁটতে অক্ষম ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি কোনো গোপন স্থানে লুকিয়ে ছিলেন, যেখানে আক্রমণকারীরা আর দেখতে পাননি। দুর্বল অবস্থায় তিনি ধীরে ধীরে গ্রাম পর্যন্ত ফিরে আসতে সক্ষম হন।
এই ঘটনার সময় একই চার্চ শাখা এবং কাছাকাছি দুইটি অন্য চার্চের সদস্যদেরও জব্দ করা হয়। মোট ১১০টিরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে স্থানীয় খ্রিস্টান সমিতি জানায়, যদিও ১১ জনের সফল পালানোর তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনো নিখোঁজদের সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি, তবে খ্রিস্টান সমিতি অনুযায়ী ১৬০ের বেশি মানুষ এখনও অজানা। গ্রামবাসীরা শোকাহত এবং ভবিষ্যতে এমন আক্রমণ ঘটবে বলে উদ্বিগ্ন।
গির্মিন ওয়ালি গ্রাম আবুজা শহরের উত্তরে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং কাদুনা রাজ্যের রিজানা বনাঞ্চলের নিকটে, যা স্থানীয়ভাবে ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত সশস্ত্র গ্যাংগুলোর গোপন আশ্রয়স্থল। যদিও কোনো গোষ্ঠী আক্রমণের দায় স্বীকার করেনি, এই ঘটনা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা সংকটের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে বাছাই করে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি বাড়ছে।
নাইজেরিয়ায় মুক্তিপণ প্রদান অবৈধ হলেও, প্রায়শই সন্দেহ করা হয় যে মুক্তিপণ প্রদান করে অপহৃতদের মুক্তি পাওয়া যায়। তবে এই ঘটনার জন্য কোনো মুক্তিপণ দাবি করা হয়নি।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক দৃষ্টি এই সমস্যায় বাড়ে, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা রেকর্ড উচ্চে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী নাইজেরিয়ায় সন্দেহভাজন ইসলামিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর শিবিরে বায়ু হামলা চালিয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিরাপত্তা দপ্তর জানিয়েছে যে, আক্রমণের পেছনে কাজ করা গ্যাংয়ের শনাক্তকরণ ও বিচ্ছিন্নকরণে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অধিকন্তু, নিখোঁজদের সন্ধানে স্থানীয় ও জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, এবং পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সরকারী সূত্র অনুযায়ী, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা শক্তিবৃদ্ধি এবং গ্রামাঞ্চলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা সম্প্রদায়কে শান্তি বজায় রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, তারা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা চেয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে এমন আক্রমণ রোধ করা যায়।



