ইউএন আল-হোল শিবিরের পরিচালনা গ্রহণ করেছে, যেখানে ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহভাজন হাজারো পরিবার বসবাস করে। এই সিদ্ধান্তটি সিরিয়ার উত্তরে কুর্দি-নেতৃত্বাধীন বাহিনীর প্রত্যাহার এবং সিরিয়ার সরকারী সেনাবাহিনীর অগ্রগতির পর নেওয়া হয়েছে। শিবিরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনা ও অস্থিরতা বজায় রাখে।
কুর্দি-নেতৃত্বাধীন বাহিনী শিবির থেকে সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিবিরের প্রান্তে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বাসিন্দারা শিবিরের সীমা অতিক্রম করে পালানোর চেষ্টা করে, ফলে লুটপাট এবং অশান্তি বৃদ্ধি পায়। এই অস্থিরতা মানবিক সংস্থাগুলোর কাজ থামিয়ে দেয়, যা শিবিরের ভিতরে মৌলিক সেবা প্রদানকে কঠিন করে তুলেছে।
ইউএন শরণার্থী সংস্থা (UNHCR) শিবিরের পরিচালনায় দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেয় এবং সিরিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে মানবিক প্রবেশাধিকার পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। সিরিয়ার সেনাবাহিনী শিবিরের চারপাশে একটি নিরাপত্তা পরিধি গঠন করেছে, যা শিবিরের ভিতরে চলাচল সীমিত করে। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা শিবিরের অভ্যন্তরে অবস্থা স্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে।
ইউএনের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক উল্লেখ করেন যে শিবিরের অভ্যন্তরে পরিস্থিতি এখনও “তীব্র ও অস্থির” রয়ে গেছে এবং সহায়তা কার্যক্রম এখনও স্থগিত রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মানবিক কাজ পুনরায় শুরু করা সম্ভব নয়।
একই সময়ে সিরিয়ার উত্তরে একটি স্থগিত যুদ্ধচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার ফলে দেশের উত্তর-পূর্ব অংশের বেশিরভাগ অংশ দমাস্কাসের নিয়ন্ত্রণে আসে। এই চুক্তি কুর্দি-নেতৃত্বাধীন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলকে শেষ করে, যা পূর্বে শিবিরের পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মতে, তারা সিরিয়ার উত্তরে ৭,০০০ পর্যন্ত সন্দেহভাজন আইএস যোদ্ধাকে ইরাকের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ১৫০ জন বন্দীকে সীমান্ত পার হয়ে একটি সুরক্ষিত স্থানে পাঠানো হয়েছে। এই পদক্ষেপটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত বোঝা কমাতে নেওয়া হয়েছে।
ইরাকি কর্তৃপক্ষ স্থানান্তরিত বন্দীদের ইরাকি আইনের অধীনে বিচার করবে এবং তাদের জন্য যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করবে। এই প্রক্রিয়া ইরাকের নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে সমজাতীয় হুমকি পুনরায় উদ্ভব না হয়।
ইরাকের উপদূত ইউএন দূতাবাসের প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাহিব মেজিদ মারজুক উল্লেখ করেন, এই ব্যবস্থা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য জরুরি, তবে ইরাককে একা দীর্ঘমেয়াদী দায়িত্বে না ফেলতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত সহায়তা প্রয়োজন।
সিরিয়ার ইউএন দূত ইব্রাহিম ওলাবি জানান, সিরিয়ার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এই স্থানান্তর কার্যক্রমকে স্বাগত জানায় এবং প্রয়োজনীয় সমর্থন প্রদান করতে প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন যে সিরিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রক্রিয়া দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।
এই দুই ধারাবাহিক পদক্ষেপ—ইউএনের শিবির পরিচালনা গ্রহণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দফনীর স্থানান্তর—আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করেন। শিবিরে মানবিক সহায়তা পুনরায় চালু হলে হাজারো শরণার্থীর মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে, আর দফনীর স্থানান্তর ইরাকের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।
পরবর্তী সময়ে ইউএন শিবিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার পর মানবিক কাজ পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা করছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের দফনীর স্থানান্তর প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে সম্পন্ন হবে। উভয় পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা যদি সফল হয়, তবে সিরিয়ার উত্তরে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের সম্ভাবনা বাড়বে।



