সানডান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বিশ্ব সিনেমা বিভাগে প্রদর্শিত ‘দ্য হান্ট্রেস’ (La Cazadora) মেক্সিকোর সীমান্ত শহর সিউদাদ জুয়ারেজে নারীর ওপর সহিংসতার বাস্তব ঘটনার উপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি নাট্যচিত্র। লেখক-পরিচালক সুজান অ্যান্ড্রুজ করিয়া প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে, বাস চালকদের উপর গৃহীত এক আত্মঘাতী ন্যায়বিচারকে কেন্দ্র করে গল্প গড়ে তোলেন।
চিত্রটি রাতের অন্ধকারে রাস্তায় অপেক্ষা করা নারীদের দৃশ্য দিয়ে শুরু হয়; তাদের মুখে ভয় ও নিরাশা মিশ্রিত, কারণ তারা যেসব বাসে কাজের জন্য নির্ভর করে সেগুলোই কখনো কখনো অপরাধের জাল হয়ে ওঠে। এই পরিবেশে, শহরের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদাসীনতা ও বাধা নারীদের ন্যায়ের আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে দেয়।
১৯৯০-এর দশকে জুয়ারেজে নারীর মৃতদেহের সন্ধান পাওয়া এবং শূন্য মরুভূমিতে গর্তে দাফন হওয়া ঘটনাগুলি চলচ্চিত্রের পটভূমি গঠন করে। ২০১৩ সালের গ্রীষ্মে, ‘ডায়ানা’ নামে পরিচিত এক নারী বাস চালকদের গুলি করে দুজনকে হত্যা করে, তার পরিচয় অজানা রয়ে যায়। চলচ্চিত্রটি ঐ ঘটনার কাল্পনিক পুনর্গঠন করে, ডায়ানার পরিচয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে দর্শকের কল্পনা উস্কে দেয়।
গল্পের মূল চরিত্র লুজ, ৪০-এর দশকের মাঝামাঝি এক মাকুইলাদোরা কর্মচারী, দুই দিনের মধ্যে তার জীবনের রূপান্তর দেখায়। লুজের কর্মস্থল ও বাস রুটের ঝুঁকি তাকে ন্যায়বিচারের পথে ধাবিত করে, যেখানে সে নিজের ক্ষোভ ও শোককে কর্মে রূপান্তরিত করে। চলচ্চিত্রটি তার অভ্যন্তরীণ সংগ্রামকে তীব্রভাবে চিত্রায়িত করে, যা দর্শকের সঙ্গে সহমর্মিতা গড়ে তোলে।
চিত্রের চিত্রায়ন জুয়ারেজের শহর ও পার্শ্ববর্তী মরুভূমির বাস্তব দৃশ্য দিয়ে সমৃদ্ধ। নির্মাতা স্থানীয় পরিবেশে শুটিং করে, যাতে শহরের শিল্পকেন্দ্র ও শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবনের স্বাদ সঠিকভাবে ধরা যায়। মোট সময়কাল প্রায় এক ঘণ্টা ত্রিশ মিনিট, যা দুই দিনের ঘটনাকে সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করে।
অভিনয় দলের মধ্যে আদ্রিয়ানা পাজ, তেরেসা সানচেজ, জেনিফার ত্রেজো, এমে মালাফে, গিলেরমো আলোনসো, লেইডি গুটিয়েরেজ, এস্ত্রেলা গোমেজ এবং সুরি গুটিয়েরেজ অন্তর্ভুক্ত। আদ্রিয়ানা পাজের চরিত্রে লুজের জটিল মানসিক অবস্থা প্রকাশ পায়, তার তীব্রতা ও সংবেদনশীলতা দর্শকের কাছে স্পষ্ট হয়। অন্যান্য অভিনেতারা শহরের সামাজিক কাঠামো ও নারীর সংগ্রামকে সমর্থন করে।
চিত্রের সুর ও শব্দ প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় সঙ্গীতের ব্যবহার ও পরিবেশগত শব্দগুলো দৃশ্যের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়, যা দর্শকের অনুভূতিকে গভীর করে।
‘দ্য হান্ট্রেস’ চলচ্চিত্রটি ন্যায়বিচার, ক্ষোভ এবং পুনরুদ্ধারের থিমকে একত্রে উপস্থাপন করে, যা মেক্সিকোর সীমান্ত শহরের বাস্তব সমস্যাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরে। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নির্মাতা নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে চেয়েছেন।
সানডান্স ফেস্টিভ্যালে এই চলচ্চিত্রের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যদিও সমালোচনায় কিছু অংশে নাট্যগত অতিরিক্ততা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে চলচ্চিত্রের বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও দৃশ্যমান শক্তি প্রশংসিত হয়েছে।
চিত্রের নির্মাণে ব্যবহৃত ক্যামেরা ও আলো প্রযুক্তি শহরের অন্ধকার ও আলোকে সূক্ষ্মভাবে ধরতে সক্ষম হয়েছে, যা দর্শকের কাছে দৃশ্যের বাস্তবতা বাড়িয়ে দেয়।
‘দ্য হান্ট্রেস’ মেক্সিকোর সীমান্তে নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার সমস্যার উপর আলোকপাত করে, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মেক্সিকোর স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বরকে তুলে ধরে।
চিত্রটি ভবিষ্যতে নারীর অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে আলোচনা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে, এবং সুনির্দিষ্টভাবে মেক্সিকোর সীমান্ত শহরের বাস্তব সমস্যাকে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করে।



