19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিযুক্তরাষ্ট্র গাজা পুনর্নির্মাণের জন্য 'নিউ গাজা' পরিকল্পনা উন্মোচন

যুক্তরাষ্ট্র গাজা পুনর্নির্মাণের জন্য ‘নিউ গাজা’ পরিকল্পনা উন্মোচন

যুক্তরাষ্ট্র ড্যাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে গাজা অঞ্চলের সম্পূর্ণ পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই পরিকল্পনা, যা ‘নিউ গাজা’ নামে পরিচিত, গাজা উপত্যকার ২.১ মিলিয়ন বাসিন্দার জন্য নতুন বাসস্থান, কৃষি ও শিল্প এলাকা গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখে। পরিকল্পনা উপস্থাপনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন “বোর্ড অফ পিস”‑এর স্বাক্ষরও সম্পন্ন হয়, যার কাজ দুই বছরের ইসরায়েল‑হামাস সংঘাতের সমাপ্তি এবং পুনর্গঠন তদারকি করা।

প্রেজেন্টেশন স্লাইডে ভূমধ্যসাগরের তীরে বিশাল স্কাইস্ক্র্যাপার এবং রাফাহ অঞ্চলে বিস্তৃত হাউজিং প্রকল্পের ছবি দেখানো হয়। পাশাপাশি একটি মানচিত্রে নতুন আবাসিক, কৃষি ও শিল্প এলাকার পর্যায়ক্রমিক বিকাশের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে, যা গাজা উপত্যকার বিভিন্ন অংশে ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হবে।

ট্রাম্প গাজা পুনর্নির্মাণে নিজের আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, এই প্রকল্পটি সফল হবে এবং তা দেখার জন্য সবাই উত্তেজিত হবে। তিনি নিজেকে রিয়েল এস্টেট পেশাদার হিসেবে উল্লেখ করে গাজার সমুদ্রতীরের অবস্থানকে “অসাধারণ সম্পদ” বলে বর্ণনা করেন, যা বহু মানুষের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে দেবে।

কুশনার, যিনি শীতকালে গৃহযুদ্ধের সমাপ্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, তিনি গাজায় ৯০,০০০ টন গোলাবারুদ নিক্ষিপ্ত হওয়ার তথ্য ও ৬০ মিলিয়ন টন ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কারের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। তিনি প্রথমে “ফ্রি জোন” এবং “হামাস জোন”ের ধারণা নিয়ে আলোচনা করলেও পরে পুরোপুরি সফলতা অর্জনের পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানান। কুশনারের মতে, হামাসের অবসারণের চুক্তি কার্যকর করা হবে এবং বিকল্প পরিকল্পনা (Plan B) নেই।

মাস্টার প্ল্যানের মানচিত্রে “কোস্টাল ট্যুরিজম” নামে একটি জোনে ১৮০টি টাওয়ার ব্লক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন “আবাসিক এলাকা”, “শিল্প কমপ্লেক্স”, “ডেটা সেন্টার”, “উন্নত উৎপাদন” এবং “পার্ক, কৃষি ও ক্রীড়া সুবিধা” অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রকল্পের অংশ হিসেবে মিশরের সীমান্তের নিকটে একটি নতুন সমুদ্রবন্দর এবং বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া মিশর ও ইসরায়েলের সীমানা যেখানে মিলিত হয়, সেখানে একটি “ত্রিপাক্ষিক ক্রসিং” স্থাপন করা হবে, যা ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক ও মানবিক চলাচল সহজ করবে।

পুনর্গঠন কাজকে চারটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে; প্রথম ধাপ রাফাহে শুরু হবে এবং ধীরে ধীরে উত্তর দিকে গাজা সিটিতে অগ্রসর হবে। প্রতিটি ধাপে আবাসিক, কৃষি ও শিল্প সুবিধা সমন্বিতভাবে বিকাশের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে জনসংখ্যার মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়।

এই পরিকল্পনা গাজা অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বোর্ড অফ পিসের দায়িত্বে রয়েছে হামাসের অবসারণের চুক্তি বাস্তবায়ন এবং পুনর্নির্মাণের তদারকি, যা গাজা জনগণের জন্য নিরাপদ ও সমৃদ্ধ পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও তহবিল সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ গাজা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে, যা পূর্বের ধ্বংসাবশেষের ওপর ভিত্তি করে আধুনিক নগর পরিকল্পনা ও অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখে।

গাজা অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিবেশে এই পরিকল্পনা কী প্রভাব ফেলবে তা এখনও পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে বোর্ড অফ পিসের স্পষ্ট লক্ষ্য হল গাজা জনগণের জন্য নিরাপদ, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা, এবং এই দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্গঠন কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments