ডেভোসের অর্থনৈতিক ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সপ্তাহে নতুন “শান্তি বোর্ড” উদ্বোধন করেন। বোর্ডের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক সংঘাতের সমাপ্তি এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি স্থাপন করা, যা তিনি বিশ্বকে একত্রিত করে অর্জন করতে চান। এই উদ্যোগের ঘোষণা ডেভোসে উপস্থিত ১৯টি দেশের প্রতিনিধিদের সামনে করা হয়।
ট্রাম্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন যে, তার নেতৃত্বে এই সংস্থা মানবজাতির দীর্ঘদিনের কষ্ট ও ঘৃণার চক্র ভাঙতে সক্ষম হবে এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সমৃদ্ধি আনবে। তিনি এই লক্ষ্যকে অর্জনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নতুন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সামাজিক মাধ্যমে সতর্কতা প্রকাশ করেন যে, কোনো দেশকে সহজে চালিত করা যাবে না এবং তাদের স্বার্থ রক্ষা করা হবে। অন্যদিকে, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ট্রাম্পের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বে শান্তি সম্ভব হবে। এই দুই দেশের ভিন্নমত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার সূচনা করে।
প্রকাশিত খসড়া চাটার অনুযায়ী, ট্রাম্পকে বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে আজীবন পদ দেওয়া হবে, এমনকি তিনি প্রেসিডেন্ট পদ ত্যাগ করলেও। তিনি সদস্য রাষ্ট্রকে আমন্ত্রণ বা প্রত্যাখ্যানের অধিকার, উপ-সংস্থা গঠন বা বিলুপ্ত করার ক্ষমতা, এবং নিজের বিকল্প নির্ধারণের ক্ষমতা রাখবেন।
বোর্ডের স্থায়ী সদস্যপদ পেতে একটি বিশাল অর্থের প্রয়োজন হবে; এক দেশ যদি স্থায়ী সদস্য হতে চায়, তবে তাকে এক বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭৪০ কোটি পাউন্ড) প্রদান করতে হবে। এই শর্তটি বোর্ডের আর্থিক স্বায়ত্তশাসন ও প্রভাব বাড়ানোর উদ্দেশ্য নির্দেশ করে।
শান্তি বোর্ডের ধারণা গত বছর গাজা যুদ্ধ সমাপ্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে উদ্ভূত হয় এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে সমর্থিত হয়। তবে এখন এই প্রকল্পের পরিধি বিস্তৃত হয়ে বৈশ্বিক স্তরে নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থার বিকল্প হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, যেখানে ট্রাম্পের ভূমিকা কেন্দ্রীয়।
এই ঘোষণার সময় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য আন্তর্জাতিক পদক্ষেপও আলোচনায় আসে; ভেনেজুয়েলার নেতা গ্রাব করা, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি, এবং গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের দাবি ইতিমধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলিতে বিস্তৃত উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এসব ঘটনা ট্রাম্পের বহুমুখী বৈশ্বিক নীতি চালনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডেভোসে বোর্ডের উদ্বোধনে উপস্থিত ১৯টি দেশ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিনিধিত্ব করে, যা বোর্ডের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাবের সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সদস্যপদ শর্ত ও বোর্ডের ক্ষমতা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করেন, এই নতুন সংস্থা জাতিসংঘের ভূমিকা হ্রাস করে আন্তর্জাতিক শাসনব্যবস্থায় নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে। তবে একই সঙ্গে, ট্রাম্পের একক নেতৃত্বের অধীনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
পরবর্তী ধাপে বোর্ডের আনুষ্ঠানিক চার্টার অনুমোদন এবং প্রথম সদস্য রাষ্ট্রের নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। যদি এই প্রক্রিয়া সফল হয়, তবে আন্তর্জাতিক সংস্থার কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে এবং ভবিষ্যতে বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা নীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হতে পারে।



