20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধপাঁচ বছর বয়সী আরিফার মৃত্যুতে ভাইয়ের স্ত্রী গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তি

পাঁচ বছর বয়সী আরিফার মৃত্যুতে ভাইয়ের স্ত্রী গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তি

ঢাকার ভাটারা থানা এলাকায় পাঁচ বছর বয়সী আরিফা আকতার নামের মেয়ে হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যায় এবং পরে পানির ট্যাংকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুইজনই, বড় ভাই হাসান এবং তার স্ত্রী, আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়ে অপরাধ স্বীকার করেছে।

মামলার তদন্তকারী সি.আই. ভাটারা থানার এসআই মোদুদ কামাল জানিয়েছেন, অভিযুক্ত কিশোরীকে স্বীকারোক্তি রেকর্ড করার জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকি স্বীকারোক্তি নথিভুক্ত করেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জাকির হোসেনের মতে, স্বীকারোক্তি প্রদানকারী কিশোরীকে গাজীপুরের কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হল কিশোরী অপরাধীর বয়স ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা।

মৃত্যুর শিকারের বাবা, রাজিব বেপারী, ভাটারা থানায় তার বড় ছেলের স্ত্রীকে অপরাধে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। রাজিব বেপারী বসুন্ধরা গ্রুপে দিনমজুরের কাজ করেন এবং বড় ছেলে হাসানকে নিয়ে পরিবারের প্রধান আয় উপার্জন করেন।

হাসান দেড় বছর আগে বিয়ে করেন এবং তার স্ত্রীর সঙ্গে একসাথে বসবাস শুরু করেন। বিবাহের পর থেকে দাম্পত্য জীবনে নানা ধরনের মতবিরোধ দেখা দেয়, বিশেষ করে আরিফার জন্য খেলনা কেনা-দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার হাসান আরিফার জন্য একটি প্লাস্টিকের পুতুল এবং একটি কৃত্রিম ফুল কিনে বাড়িতে নিয়ে আসে। আরিফা তখন ঘুমিয়ে ছিল, তাই হাসান পুতুল ও ফুলটি রুমের শোকেসে রেখে যায় এবং পরে নিজের রুমে চলে যায়।

পুতুল ও ফুল নিয়ে হাসান ও তার স্ত্রীর মধ্যে রাতে তর্ক হয়। তর্কের পর দুজনেই শোবার ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সকালে আরিফার মা তাকে খুঁজে পেতে না পারায় বাড়িতে অনুসন্ধান শুরু করেন।

সকাল ৮:৩০ টার দিকে রাজিব বাড়ি ফিরে জানেন যে আরিফা কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ঘর-ঘর খুঁজে দেখেন, তবে কোনো ফলাফল না পেয়ে উদ্বিগ্ন হন।

দুপুরের দিকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আরিফা বাড়ি থেকে বের হয়নি। বাড়ির ভিতরে তার চলাচল রেকর্ড করা হয় না, যা নির্দেশ করে যে সে বাড়ির কোনো কোণায় আটকে গিয়েছিল।

অনুসন্ধান চলাকালে বাড়ির নিচতলায় থাকা পানির ট্যাংকে আরিফার দেহ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। দেহটি পানিতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় মৃতের কারণ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পানির শ্বাসরুদ্ধ হওয়া।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বীকারোক্তি প্রদানকারী কিশোরী এবং তার স্বামী উভয়ই অপরাধ স্বীকার করে আদালতে উপস্থিত হয়েছেন। আদালত এখন তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই ঘটনার পর, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং শিশু সুরক্ষা ট্রাইব্যুনাল কিশোরী অপরাধীর পুনর্বাসন ও শিকারের পরিবারের মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments