ডিপমাইন্ডের সিইও ডেমিস হ্যাসাবিস ড্যাভোসের এক সেশনে উল্লেখ করেন, ওপেনএআই চ্যাটজিপিটি-তে বিজ্ঞাপন চালু করার সিদ্ধান্তে তিনি অবাক হয়েছেন। ওপেনএআই ইতিমধ্যে ৮০০ মিলিয়ন সাপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর মধ্যে যারা পেইড সাবস্ক্রিপশন ব্যবহার করে না, তাদের জন্য বিজ্ঞাপন পরীক্ষা শুরু করেছে। এই পদক্ষেপের পেছনে কোম্পানির বাড়তে থাকা অবকাঠামো ও শক্তি ব্যয়ের চাপকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হ্যাসাবিসের মতে, গুগল বিজ্ঞাপনকে তার মূল ব্যবসা হিসেবে বিবেচনা করলেও, ডিপমাইন্ডের দল এই মুহূর্তে কোনো তাড়াহুড়ো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে গুগল এখনো তার AI চ্যাটবটে বিজ্ঞাপন সংযোজনের কোনো তাত্ক্ষণিক পরিকল্পনা রাখে না এবং ব্যবহারকারীর প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি গুগলের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ, যেখানে বিজ্ঞাপনকে সেবা মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সংযুক্ত করার উপায় খোঁজা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপনকে সমর্থন করার সময় হ্যাসাবিস স্বীকার করেন, বিজ্ঞাপনই ইন্টারনেটের বিকাশের বড় অংশে অবদান রেখেছে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করলে তা ব্যবহারকারীর জন্য উপকারী হতে পারে। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন চ্যাটবটকে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দেখা হয়, তখন বিজ্ঞাপন কীভাবে ব্যবহারকারীর বিশ্বাস বজায় রাখবে। তিনি উল্লেখ করেন, সহকারীকে যদি ব্যবহারকারীর জন্য নির্ভরযোগ্য ও স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে হয়, তবে বিজ্ঞাপনকে কীভাবে স্বাভাবিকভাবে সংযুক্ত করা যায় তা নিয়ে গভীর চিন্তা দরকার।
ওপেনএআইয়ের বিজ্ঞাপন পরীক্ষার লক্ষ্য হল পেইড সাবস্ক্রিপশন ছাড়া সেবা ব্যবহারকারী ব্যবহারকারীদের থেকে অতিরিক্ত আয় অর্জন করা। বর্তমানে চ্যাটজিপিটি প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ পেইড প্ল্যান ব্যবহার করে না। এই ব্যবহারকারীদের জন্য বিজ্ঞাপন দেখিয়ে কোম্পানি তার ব্যয়ভার কমাতে এবং অবকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ করতে চায়। হ্যাসাবিসের মতে, বিজ্ঞাপন না থাকলে ওপেনএআইকে তার বাড়তে থাকা সার্ভার ও শক্তি খরচ সামলাতে অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।
বিজ্ঞাপন চালু হওয়ার পর থেকে ব্যবহারকারীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু ব্যবহারকারী বিজ্ঞাপনকে অপ্রয়োজনীয় ব্যাঘাত হিসেবে বিবেচনা করে, বিশেষ করে যখন তারা AI সহকারীকে প্রশ্নের উত্তর বা কাজের সহায়তা পাওয়ার জন্য ব্যবহার করে। অন্যদিকে, যদি বিজ্ঞাপনটি ব্যবহারকারীর আগ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং অতিরিক্ত মূল্য প্রদান করে, তবে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে বলে কিছু মতামত প্রকাশ পেয়েছে। এই বিতর্কের মধ্যে ওপেনএআইকে ব্যবহারকারীর বিশ্বাস বজায় রাখার পাশাপাশি আয় উৎপাদনের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।
ওপেনএআই পূর্বে চ্যাটজিপিটি-তে অ্যাপ সুপারিশের ফিচার পরীক্ষা করেছিল, যেখানে ব্যবহারকারীর চ্যাটের সময় প্রাসঙ্গিক অ্যাপের পরামর্শ দেওয়া হতো। যদিও এই ফিচারটি কিছু ব্যবহারকারীকে অস্বস্তিকর মনে করায়, তবে কোম্পানি নতুন আয় উৎসের সন্ধানে সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন মডেল পরীক্ষা করছে। হ্যাসাবিস উল্লেখ করেন, গুগল এই ধরনের ফিচারকে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে এবং তার নিজস্ব AI চ্যাটবটে একই রকম কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করবে।
ডিপমাইন্ডের দৃষ্টিকোণ থেকে, বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে সতর্কতা অবলম্বন করা কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ। হ্যাসাবিস জানান, গুগল বর্তমানে তার AI চ্যাটবটে বিজ্ঞাপন সংযোজনের কোনো তাত্ক্ষণিক পরিকল্পনা না থাকলেও, ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীর আচরণ ও বাজারের পরিবর্তন অনুসারে নীতি পরিবর্তন হতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন, গুগল এই সময়ে বিজ্ঞাপনকে কীভাবে সেবা মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যায় তা নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রযুক্তি শিল্পে এই ধরনের পরিবর্তনগুলোকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি, কারণ AI সহকারী সেবার ভবিষ্যৎ গঠনকারী নীতি ও ব্যবসায়িক মডেল এখনো গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ওপেনএআইয়ের বিজ্ঞাপন চালু করার সিদ্ধান্ত AI সেবা মডেলকে নতুন দিক থেকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করছে। বিজ্ঞাপন ও সাবস্ক্রিপশন মডেলের সমন্বয় কীভাবে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা ও আয় উভয়ই প্রভাবিত করবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।
গুগল ও ওপেনএআই উভয়েরই এই ক্ষেত্রে নেওয়া পদক্ষেপ শিল্পের সামগ্রিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। হ্যাসাবিসের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, গুগল বিজ্ঞাপনকে তার মূল ব্যবসা হিসেবে দেখলেও, AI সহকারীতে বিজ্ঞাপন সংযোজনের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো সিদ্ধান্ত না নিয়ে ব্যবহারকারীর বিশ্বাস ও সেবা মানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অন্যদিকে, ওপেনএআইয়ের বিজ্ঞাপন পরীক্ষা তার আর্থিক টেকসইতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা কীভাবে রূপান্তরিত হবে তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
সারসংক্ষেপে, ডিপমাইন্ডের সিইও ওপেনএআইয়ের দ্রুত বিজ্ঞাপন চালু করার সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশের পেছনে গুগল ও ওপেনএআইয়ের ভিন্ন ভিন্ন কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়। গুগল সতর্কতা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কীভাবে বিজ্ঞাপনকে AI সহায়কের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে তা নির্ধারণের চেষ্টা করবে, আর ওপেনএআই ব্যবহারকারীর বৃহৎ সংখ্যাকে লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন থেকে অতিরিক্ত আয় সংগ্রহের পথে অগ্রসর হচ্ছে। এই দ্বিমুখী প্রবণতা প্রযুক্ত



