মাইকেল বি. জর্ডান ৩৮ বছর বয়সে ‘সিনার্স’ ছবিতে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রথম অস্কার নোমিনেশন পেয়েছেন। একই সঙ্গে এই চলচ্চিত্রটি ১৬টি নোমিনেশন নিয়ে অস্কার ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যা অর্জন করেছে, যা আগে কোনো চলচ্চিত্রের রেকর্ড ভাঙেনি।
অভিনেতা জর্ডান ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে টেলিভিশন সিরিজ ‘দ্য ওয়্যার’ ও ‘ফ্রাইডে নাইট লাইটস’‑এ কাজ করে শিল্প জগতে প্রবেশ করেন। এরপর ‘ক্রিড’ সিরিজের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিতি লাভ করেন এবং ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’, ‘ফ্রুটভেল স্টেশন’ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ছবিতে অংশ নেন।
‘সিনার্স’‑এ তার দ্বৈত পারফরম্যান্সকে সমালোচকরা সূক্ষ্ম ও গভীর বলে প্রশংসা করেছেন, যা জর্ডানের ক্যারিয়ারে নতুন মাইলফলক চিহ্নিত করেছে। নোমিনেশন পাওয়ার পর তিনি নিজেকে শব্দে প্রকাশ করতে অসুবিধা বোধ করছেন, তবে এই স্বীকৃতি তার জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
‘সিনার্স’ ছবিটি মোট ১৬টি বিভাগে নোমিনেটেড, যার মধ্যে সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক, সেরা চিত্রনাট্য ইত্যাদি শীর্ষস্থানীয় ক্যাটেগরি অন্তর্ভুক্ত। অস্কার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো চলচ্চিত্র এই সংখ্যার নোমিনেশন পায়নি, ফলে এই রেকর্ডটি শিল্পের জন্য নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।
চলচ্চিত্রের পরিচালক রায়ান কোগলারও তিনটি প্রধান বিভাগে—নির্দেশনা, চিত্রনাট্য এবং প্রযোজনা—নোমিনেশন পেয়েছেন। কোগলার এবং জর্ডানের সহযোগিতা দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান, যেখানে ‘ক্রিড’ এবং ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’‑এর মতো সফল প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করেছেন।
এই দীর্ঘমেয়াদী সঙ্গতি ‘সিনার্স’‑এর সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন। দুজনের যৌথ দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল সমন্বয় চলচ্চিত্রের বর্ণনাকে সমৃদ্ধ করেছে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রশংসা অর্জনে সহায়তা করেছে।
নোমিনেশন ঘোষণার পর জর্ডান তার অনুভূতি প্রকাশে হাসি ও উল্লাসের মিশ্রণ দেখিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই স্বীকৃতি তার জন্য এক ধরনের নিশ্চিতকরণ, যা তার দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রমের ফলস্বরূপ এসেছে। তার মুখে আনন্দের ছাপ স্পষ্ট, যা শিল্পের অন্যান্য সদস্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়াবে।
নোমিনেশন ঘোষণার সকালে জর্ডান স্বাভাবিক রুটিনে ফিরে গিয়ে কাজ চালিয়ে গেছেন। তিনি জানান যে তিনি সকাল ৫:৩০ টায় উঠতে পারেননি, বরং স্বাভাবিকভাবে ঘুম থেকে উঠে এডিটিং কাজ চালিয়ে গেছেন। এই স্বাভাবিকতা তার পেশাদারিত্বের প্রতিফলন, যদিও নোমিনেশন তার মনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে।
‘সিনার্স’‑এর এই বিশাল সাফল্য পুরো কাস্ট ও ক্রু টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল, যা চলচ্চিত্রের গুণগত মানকে তুলে ধরেছে। জর্ডান এই অর্জনকে পুরো দলের জন্য সম্মানের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও সৃজনশীল কাজের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।
অস্কার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি এখনো বাকি থাকলেও, ‘সিনার্স’ এবং জর্ডানের নোমিনেশন শিল্পের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছে। চলচ্চিত্রের রেকর্ড‑সেটিং নোমিনেশন ভবিষ্যতে আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমী ও শিল্পজগতের সদস্যদের জন্য এই সংবাদটি গর্বের বিষয়, কারণ এটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বর্ণময় ও বৈচিত্র্যময় গল্পের স্বীকৃতি বাড়িয়ে দেয়। জর্ডান ও কোগলারের সাফল্য স্থানীয় শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে, যা নতুন প্রজন্মের সৃজনশীলতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে উজ্জীবিত করবে।



