মিনিয়াপলিসে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্সের সফর নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে তিনি অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (ICE) কর্মীদের সমর্থন জানাবেন। এই সফরটি ঘটে যখন একটি স্থানীয় স্কুলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে ICE কর্মীরা পাঁচ বছর বয়সী একটি শিশুকে আটক করেছে, যা সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। ভ্যান্সের সফরের মূল উদ্দেশ্য হল ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টদের কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে কথা বলা, যদিও সম্প্রতি এই এজেন্টদের কার্যক্রমের ফলে রেনি গুড নামে ৩৭ বছর বয়সী, তিন সন্তানবিশিষ্ট নাগরিকের গুলিবিদ্ধ হওয়া ঘটেছে।
রেনি গুডের মৃত্যু ঘটার পর থেকে ICE-র কার্যক্রমের ওপর ব্যাপক প্রতিবাদ গড়ে উঠেছে। ফেডারেল কর্মকর্তারা শহরের বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্রভাবে উপস্থিত, সন্দেহভাজন অপরাধী ও অভিবাসন লঙ্ঘনকারীকে গ্রেপ্তার করার দাবি করে, তবে কখনও কখনও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদেরও আটক করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠী গঠন করে, সতর্কতা সিটি বাজিয়ে এবং চিৎকার করে এজেন্টদের বিরোধিতা করছে।
কোলম্বিয়া হাইটস, মিনিয়াপলিসের একটি উপশহরে স্কুলের একটি প্রেস কনফারেন্সে বলা হয় যে এই মাসে ICE কর্মীরা কমপক্ষে চারজন শিশুকে আটক করেছে, যার মধ্যে মঙ্গলবার একটি পাঁচ বছর বয়সী শিশুও রয়েছে। স্কুলের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন যে এই ধরণের আটক শিশুদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র ট্রিশিয়া ম্যাকলফ্লিনের মতে, ওই শিশুর বাবা-ই লক্ষ্য ছিল, সন্তান নয়। তিনি জানান, শিশুটিকে নিরাপত্তার জন্য একজন অফিসার সঙ্গে রেখে অন্যরা তার পিতাকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনার পর শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ম্যাকলফ্লিন আরও উল্লেখ করেন যে, ICE-তে আটক হওয়া পিতামাতাদের সন্তানদের নিয়ে দুটি বিকল্প দেওয়া হয়: অথবা সন্তানকে তাদের নির্ধারিত কোনো পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে রাখার ব্যবস্থা করা, অথবা পিতামাতার সঙ্গে সন্তানকে সরিয়ে নেওয়া। তবে তিনি স্কুলের দৃষ্টিকোণ থেকে ত্রিশটি অন্যান্য শিশুর আটক সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।
একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, সেন্ট পল শহরের একটি গির্জার সাপ্তাহিক সেবার সময় প্রতিবাদকারীরা হস্তক্ষেপ করে, যার ফলে দুইজনের গ্রেফতার হয়েছে। প্রতিবাদকারীরা দাবি করে যে গির্জার পাস্টর ICE-কে সহায়তা করছেন, যদিও এই অভিযোগের কোনো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
ফেডারেল তদন্তকারী সংস্থা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দুজনের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ আনা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে ফেডারেল আদালতে উপস্থিত হতে হবে এবং তিনি গির্জার সেবা বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে দায়ী।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল উল্লেখ করেন যে, প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী সংগঠকদের মধ্যে একজনকে আইনি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করা হয়েছে। তিনি জানান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই ধরনের হিংসাত্মক প্রতিবাদকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করবে।
মিনিয়াপলিসে ফেডারেল এজেন্টদের উপস্থিতি এবং তাদের কঠোর পদক্ষেপের ফলে শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। স্থানীয় নাগরিকরা প্রায়ই এজেন্টদের গুলিবিদ্ধ হওয়া বা হিংসাত্মক আচরণে ভয় পেয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
অন্যদিকে, ভ্যান্সের সফরকে কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রশাসনের অভিবাসন নীতি শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তিনি যদি শহরের বাসিন্দা ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন, তবে এটি ফেডারেল নীতি ও স্থানীয় উদ্বেগের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট নীতি পরিবর্তনের ঘোষণা না থাকলেও, ভ্যান্সের উপস্থিতি ICE-র কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন ও কঠোরতা বজায় রাখার সংকেত দেয়। একই সঙ্গে, স্কুল ও মানবাধিকার গোষ্ঠীর দাবিগুলোকে উপেক্ষা না করে সমাধানের পথ খোঁজা জরুরি।
ভবিষ্যতে, মিনিয়াপলিসের ফেডারেল এজেন্টদের কার্যক্রমের ওপর আরও আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা রয়েছে। আদালতে শিশুদের আটক সংক্রান্ত মামলাগুলো কীভাবে রায় দেবে, তা শহরের সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করবে।
সারসংক্ষেপে, জেডি ভ্যান্সের মিনিয়াপলিস সফর, ICE-র শিশু আটক, রেনি গুডের গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং সেন্ট পল গির্জার প্রতিবাদে গ্রেফতার—all একসাথে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও স্থানীয় নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বিতর্ককে তীব্রতর করেছে। এই ঘটনাগুলো কীভাবে সমাধান হবে, তা আগামী সপ্তাহে রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনার মূল বিষয় হয়ে থাকবে।



