শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে শ্রীলঙ্কা দল ১৯ রানের পার্থক্যে জয়লাভ করে। ম্যাচটি কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়।
ইংল্যান্ড ২৭২ রান লক্ষ্য নির্ধারণ করে শুটিং শুরু করে। শুরুর দিকে বেন ডাকেট এবং জো রুটের সুনিপুণ আক্রমণ দিয়ে দলটি ১২৯ রান ছাড়া এক উইকেটের সঙ্গে ১ ওভারে পৌঁছায়, এবং রেট নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ডাকেট‑রুটের ১১৭ রানের অংশীদারিত্ব ভেঙে যাওয়ার পর শ্রীলঙ্কার বোলাররা রানের প্রবাহ ধীর করে দেয়। শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের স্কোর ২৫২ হয়ে আটকে যায় এবং দলটি সম্পূর্ণ আউট হয়।
শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চরিথ আসালাঙ্কা ম্যাচের পর মন্তব্য করে, “ভাল ক্রিকেটের ম্যাচ ছিল, তবে আমাদের উন্নতি চালিয়ে যেতে হবে। স্পিনাররা চমৎকার কাজ করেছে, ত্রিশতম ওভারের পরে ঘূর্ণন বাড়বে এবং ব্যাটিং কঠিন হবে।” তিনি দলের স্পিনারদের ভূমিকা তুলে ধরেছেন।
ডাকেটের রিভার্স স্বিপের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়; তাকে জেফ্রি ভ্যান্ডারসের কাছে লেগ-বিফোর-উইকেট (এলবিডি) দেওয়া হয়। এই উইকেটটি ইংল্যান্ডের গতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রুটের আউট হওয়া ম্যাচের মোড় ঘোরায়। তিনি পার্ট‑টাইম স্পিনার ধনঞ্জয় দে সিলভার ওপর স্বিপের ভুল অনুমান করেন, ফলে রিভিউয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত উল্টে যায় এবং স্টেডিয়ামের দর্শকরা উল্লাসে গর্জন করে।
রুটের পরে ইংল্যান্ডের প্রয়োজনীয় রেট আটের উপরে উঠে যায়, ফলে ব্যাটসম্যানদের ঝুঁকিপূর্ণ শট নিতে বাধ্য হয়। এই চাপের মধ্যে হ্যারি ব্রুক এবং জ্যাকব বেটহেল উভয়ই কুসাল মেন্ডিসের হাতে স্টাম্পড হয়ে আউট হয়। ব্রুকের আউটের সঙ্গে সঙ্গে তাকে আসালাঙ্কা একটি ওয়াইড দিয়ে আউট করে।
জেমি ওভারটন শেষ মুহূর্তে ১৭ বলে ৩৪ রান যোগ করে, এবং আদিল রাশিদের সঙ্গে শেষ উইকেটের জন্য ৩৯ রান যোগ করে। তবে এই প্রচেষ্টা যথেষ্ট না হয়ে তিনি শেষ উইকেট হয়ে দল থেকে বেরিয়ে যান।
শ্রীলঙ্কার ফিল্ডাররা বোলারদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখে। ধনঞ্জয় দে সিলভা এবং দুনিথ ওয়েলালাগে দুটো চমকপ্রদ ক্যাচ নিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়।
ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে কুসাল মেন্ডিস শ্রীলঙ্কার ইনিংসকে স্থিতিশীল করেন। ইংল্যান্ডের লেগ‑স্পিনার আদিল রাশিদ এবং রেহান আহমেদ যখন শ্রীলঙ্কাকে ১২৪ রানে চার উইকেটের নিচে নামিয়ে আনে, তখন মেন্ডিসের স্থিতিশীলতা দলকে পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে।
সারসংক্ষেপে, শ্রীলঙ্কার স্পিনারদের কার্যকর ঘূর্ণন, ফিল্ডিংয়ের তীক্ষ্ণতা এবং মূল মুহূর্তে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ উইকেটগুলোই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে। ইংল্যান্ডের উচ্চ লক্ষ্য সত্ত্বেও শ্রীলঙ্কা দল শেষ পর্যন্ত ১৯ রানের পার্থক্যে জয়লাভ করে।



