আখেনের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর কাটজা শ্লেনকর্ম্যান‑পিটস জানিয়েছেন, পশ্চিম জার্মানির এক প্রাক্তন নার্সের ১০ জন রোগীর হত্যার শাস্তি দেওয়ার পর আরও ১০০ টিরও বেশি সন্দেহজনক মৃত্যুর তদন্ত চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বহু সন্দেহজনক মামলার ওপর প্রাথমিক তদন্ত চলছে, তবে ফরেনসিক ফলাফল না আসা পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
প্রাক্তন নার্সকে গত নভেম্বর আখেনের আঞ্চলিক আদালত ১০টি হত্যার অভিযোগ এবং ২৭টি হত্যার চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে আজীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। আদালত রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়া সত্ত্বেও তিনি রাতের শিফটে অতিরিক্ত ডোজে সেডেটিভ ও ব্যথানাশক ওষুধ প্রদান করে রোগীর মৃত্যু ঘটিয়েছেন।
প্রসিকিউশন দল দাবি করে, ওই নার্স রোগীর অবস্থা বিবেচনা না করে একাধিকবার একই ওষুধের ডোজ দিয়েছেন এবং তার কাজের ফলে প্রাণঘাতী ফলাফল হতে পারে তা তিনি জানতেন। বিচারকরা রায়ে উল্লেখ করেন, তার কাজের পেছনে ব্যক্তিগত অস্বস্তি এবং রাতের শিফটে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ইচ্ছা ছিল।
বিচারকরা রায়ে আরও বলেন, রোগীর প্রতি সহানুভূতির অভাব এবং “জীবন ও মৃত্যুর মাস্টার” হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করার অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। অপরদিকে, অভিযুক্ত নিজে দাবি করেন, রোগীদের ঘুমাতে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে ওষুধ ব্যবহার করেছেন এবং রোগীর মৌলিক রোগের কারণে ওষুধের মারাত্মক প্রভাব ঘটবে বলে তিনি বিশ্বাস করেননি।
অভিযুক্তের কাজের সময়সীমা ডিসেম্বর ২০২৩ থেকে মে ২০২৪ পর্যন্ত রাইন‑মাস হাসপাতালের রাতের শিফটে সীমাবদ্ধ, যেখানে তিনি ২০২০ সাল থেকে কর্মরত ছিলেন। এই সময়কালে রোগীদের অতিরিক্ত ডোজে সেডেটিভ ও ব্যথানাশক ওষুধ প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশিত হয়েছে, এই মামলায় অতিরিক্ত ১০০ টিরও বেশি সন্দেহজনক মৃত্যু ঘটেছে, যা মূল মামলার আগে বা পরে ঘটতে পারে। তদন্তকারী দল এই সন্দেহজনক মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে প্রায় ৬০টি দেহের পুনঃবসন আদেশ করেছে।
এ পর্যন্ত ২৭টি দেহ পুনঃবসন করা হয়েছে, এবং প্রায় ৩০টি দেহের পুনঃবসনের কাজ বাকি রয়েছে। পুনঃবসনের মাধ্যমে প্রাপ্ত দেহের অটোপসি ফলাফল এখনও সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়নি, তবে এই ফলাফল ভবিষ্যতে অতিরিক্ত অভিযোগ আনা হবে কিনা তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রসিকিউশন দল উল্লেখ করে, পুনঃবসন ও অটোপসি ফলাফল প্রাপ্ত হওয়ার পরই অতিরিক্ত দায়ের সম্ভাবনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমানে এই মামলায় কোনো নতুন অভিযোগ আনতে অটোপসির ফলাফল অপরিহার্য বলে বিবেচিত হচ্ছে।
আখেনের আদালত এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থা এখনো সকল সন্দেহজনক মামলার ওপর ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত দায়ের সম্ভাবনা উন্মোচিত হতে পারে।
এই মামলার মাধ্যমে জার্মানির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় রোগীর নিরাপত্তা ও চিকিৎসকের নৈতিক দায়িত্বের ওপর নতুন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে প্যালিয়েটিভ কেয়ার ক্ষেত্রে ওষুধের ব্যবহার ও রোগীর সম্মতি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় আলোচিত হচ্ছে।
প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে।
অভিযুক্তের শাস্তি ও সম্ভাব্য অতিরিক্ত দায়ের বিষয়টি এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে, এবং তদন্তের অগ্রগতি অনুসারে নতুন তথ্য প্রকাশিত হতে পারে। এই প্রক্রিয়ার ফলাফল জার্মানির চিকিৎসা নৈতিকতা ও আইনি কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।



