২০১৩ সালের জুন মাসে লস এঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে কিম কার্দাশিয়ান প্রথম কন্যা নর্থ ওয়েস্টকে স্বাগত জানান। সেই মুহূর্তে তার স্বামী ইয়ি (পূর্বে কানিয়ে ওয়েস্ট) ডি.জে’র কাজ করে, কুইনের “বোহেমিয়ান র্যাপসোডি” গানের সুরে পরিবেশকে রঙিন করেন।
কিমের প্রসবের সময় ইয়ি গানের প্লে চালিয়ে গিয়েছিলেন, এবং নর্থের জন্মের ঠিক মুহূর্তে গানের ক্লাইম্যাক্স শোনা যায়। এই বিশেষ সাউন্ডট্র্যাকটি পরিবারে একটি স্মরণীয় চিহ্ন হয়ে রয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে, ২১ জানুয়ারি ২০২৪-এ কিম তার ছোট বোন খ্লোয়ের সঙ্গে “ওয়ান্ডারল্যান্ড” পডকাস্টে এই ঘটনার কথা পুনরায় স্মরণ করেন। তিনি জানান, সেই দিনটি কেবল একটি জন্ম নয়, বরং সঙ্গীতের মাধ্যমে একটি অনন্য অভিজ্ঞতা ছিল।
কিম উল্লেখ করেন, নর্থের জন্মের সময় “বোহেমিয়ান র্যাপসোডি” বাজানো তার জন্য বিশেষ অর্থ বহন করে। তিনি এবং বড় বোন কোর্টনি প্রায়ই এই মুহূর্তটি নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করেন, এবং নর্থের স্বভাবের সঙ্গে গানের থিমের সাদৃশ্য নিয়ে আলোচনা করেন।
গানের সুর শোনার সময় কিমের চোখে অশ্রু ভরে যায়, এবং তিনি অনুভব করেন যে এই সুরটি নর্থের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এই আবেগময় স্মৃতি তাকে প্রায়ই মুগ্ধ করে।
কুইনের “বোহেমিয়ান র্যাপসোডি” ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়, বিলবোর্ড হট ১০০-এ দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছায় এবং যুক্তরাষ্ট্রে ডায়মন্ড সার্টিফিকেশন অর্জন করে। এই গানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কিমের স্মৃতিতে বিশেষ স্থান পেয়েছে।
নর্থ এখন ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীত ও প্রোডাকশনে আগ্রহ দেখাচ্ছে, এবং তার পিতার পদাঙ্কে শিল্পী-প্রযোজক হিসেবে নিজের পথ গড়ে তুলছে। পরিবারে সঙ্গীতের এই ধারাবাহিকতা তার ভবিষ্যৎকে গঠন করছে।
পডকাস্টে খ্লোয়ে উল্লেখ করেন, নর্থের সঙ্গীতের প্রতি উত্সাহের ফলে ইয়ি ও কিমের সহ-অভিভাবকত্বের সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে। দুজনেই নর্থের সৃজনশীল বিকাশকে সমর্থন করছেন।
কিম বলেন, তিনি সবসময় পরিবারকে একসঙ্গে রাখার চেষ্টা করেন এবং সঙ্গীতের বিষয়টি তার নিজস্ব দায়িত্ব নয়, তবে পিতার সঙ্গে তার সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
তিনি যোগ করেন, নর্থের ভবিষ্যৎ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা করতে উভয় পিতামাতার মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকে, এবং পিতার মতামতকে সম্মান করা হয়। এই সমন্বয় নর্থের সৃজনশীল পথে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
সারসংক্ষেপে, কিমের জন্য এই স্মৃতি শুধু একটি মধুর মুহূর্ত নয়, বরং নর্থের জন্মের সময়ের একটি সাংস্কৃতিক চিহ্ন, যা পরিবারে সঙ্গীতের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
নর্থের সঙ্গীত ক্যারিয়ার কীভাবে গড়ে উঠবে তা এখনও অজানা, তবে তার বাবা-মা উভয়েরই পূর্ণ সমর্থন রয়েছে, এবং সঙ্গীতের মাধ্যমে পরিবারের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।



