টটনহ্যাম হটস্পারসের মিডফিল্ডার লুকাস বার্গভ্যালের গোড়ালিতে আঘাতের কারণে দলটি বার্নলির সঙ্গে আসন্ন প্রিমিয়ার লীগ ম্যাচে তার উপস্থিতি দেখতে পাবে না। কোচ থমাস ফ্র্যাঙ্কের মতে, এই আঘাতের পরিমাণ দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে এবং খেলোয়াড়ের পুনরুদ্ধার সময়ের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও তথ্য প্রকাশিত হবে। বার্গভ্যালের আঘাতটি টিমের সাম্প্রতিক চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ডর্টমুন্ডের বিরুদ্ধে জয়লাভের পর ঘটেছে।
মঙ্গলবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে বার্গভ্যালের গোড়ালিতে ধাক্কা লেগে গিয়ে তিনি তৎক্ষণাৎ মাঠ ছেড়ে যান এবং পরে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় আঘাতের মাত্রা নিশ্চিত করা হয়। ক্লাবের চিকিৎসা বিভাগ জানায়, আঘাতটি এমন একটি ধরণের যা পুনরুদ্ধার করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে, তবে সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি। ফলে, টটনহ্যামকে বার্নলির সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে এমন ম্যাচে তার বিকল্প হিসেবে অন্য খেলোয়াড়দের ব্যবহার করতে হবে।
বার্গভ্যালের অনুপস্থিতি টিমের আঘাতের তালিকায় নতুন একটি সংযোজন, যা ইতিমধ্যে এই মৌসুমে ১৯টি আঘাতের সমান। এই সংখ্যা আরসেনাল, চেলসি এবং লিডসের সঙ্গে সমান স্তরে রয়েছে, যা প্রিমিয়ার লীগে সবচেয়ে বেশি আঘাতের তালিকায় টটনহ্যামকে শীর্ষে রাখে। ক্লাবের মোট আঘাতের দিন ৬২৫, যা নিউক্যাসলয়ের ৬৪০ দিনের পরে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
সাম্প্রতিক পাঁচ ম্যাচে কোচ ফ্র্যাঙ্কের দল আটজন মূল খেলোয়াড়কে আঘাতের কারণে হারিয়েছে। এতে মোহাম্মদ কুদুস, রড্রিগো বেন্টাকুর, রিচার্লিসন, বেন ডেভিস এবং বার্গভ্যালের পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এই ধারাবাহিক আঘাতের ফলে টিমের গঠন ও কৌশলগত পরিকল্পনা প্রভাবিত হয়েছে।
অন্যদিকে, জেমস মাডিসন এবং দেজান কুলুসেভস্কি পুরো মৌসুমে কোনো ম্যাচে মাঠে নামেননি, যা দলের আক্রমণাত্মক বিকল্পকে আরও সংকুচিত করেছে। তবে ডোমিনিক সোলাঙ্কে, ডেস্টিনি উডোজি এবং জাভি সিমন্স ডর্টমুন্ডের জয়লাভের পর কোনো আঘাত ছাড়াই মাঠে ফিরে এসেছেন, যা কোচের জন্য কিছু স্বস্তি বয়ে এনেছে। এছাড়া, জোয়াও পালহিনহা বার্নলির ম্যাচে অংশগ্রহণের জন্য ফিট বলে জানানো হয়েছে।
ফ্র্যাঙ্কের মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, টিমটি যেন কোনো অভিশাপের শিকার হয়ে আছে, তবে আঘাত ক্রীড়ার স্বাভাবিক অংশ। তিনি বলেন, টটনহ্যাম ধারাবাহিকভাবে আঘাতের কারণে দুর্ভাগ্যজনক অবস্থায় রয়েছে এবং বার্গভ্যালের পুনরুদ্ধার সময় দীর্ঘ হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আশাবাদী নন, তবে চিকিৎসা দলকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
গত মৌসুমে টটনহ্যাম প্রিমিয়ার লীগে সবচেয়ে বেশি আঘাতের শিকার ছিল। ২২টি ম্যাচের পর পর্যন্ত ক্লাবের মোট ২৫টি আঘাতের রেকর্ড তৈরি হয় এবং ৭০৭ দিন মাঠের বাইরে কাটাতে হয়। ফ্র্যাঙ্ক এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, যদিও আঘাতের সংখ্যা বেশি, তবে তিনি ক্লিনিকের কাজের প্রতি কোনো অভিযোগ করেননি।
ফ্র্যাঙ্কের মতে, তার তৃতীয় প্রিমিয়ার লীগ মৌসুমে ব্রেন্টফোর্ডে কাটানো সময়ে দলটি বিশাল আঘাতের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল, যা সিজনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, টটনহ্যামের চিকিৎসা বিভাগ আঘাত কমাতে এবং দ্রুত পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ম্যাচের সময়সূচি, গেমের ঘনত্ব এবং খেলোয়াড়ের শারীরিক অবস্থা সবই সমন্বয় করে সর্বোচ্চ ফলাফল বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ক্লাবের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি বার্নলির বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বার্গভ্যালের অনুপস্থিতি স্পষ্টভাবে অনুভূত হবে। কোচ ফ্র্যাঙ্কের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জোয়াও পালহিনহা এবং অন্যান্য ফিট খেলোয়াড়দের ব্যবহার করে দলকে সুষম রাখতে হবে। টিমের আঘাতের তালিকা দীর্ঘ হলেও, ফ্র্যাঙ্কের মতে, সঠিক চিকিৎসা ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করলে দ্রুত পুনরুদ্ধার সম্ভব।
সারসংক্ষেপে, টটনহ্যাম এই মৌসুমে আঘাতের কারণে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তবে ক্লিনিকের প্রচেষ্টা এবং ফিট খেলোয়াড়দের সমর্থনে দলটি পরবর্তী ম্যাচে প্রতিযোগিতামূলক পারফরম্যান্স দেখানোর লক্ষ্য রাখছে।



