ব্রিটিশ-নাইজেরিয়ান অভিনেত্রী ওয়ুনমি মোসাকু, রায়ান কুগলারের পরিচালিত ‘সিনার্স’ ছবিতে অ্যানি চরিত্রে অভিনয় করে প্রথম অস্কার সাপোর্টিং অভিনেত্রী নোমিনেশন পেয়েছেন। এই স্বীকৃতি তার ক্যারিয়ারের নতুন মাইলফলক, যেখানে একই সঙ্গে সহ-অভিনেতা মাইকেল বি. জর্ডানও প্রথমবারের মতো নোমিনেটেড হয়েছেন।
‘সিনার্স’ চলচ্চিত্রটি রেকর্ড ভাঙা ১৬টি অস্কার নোমিনেশন অর্জন করে, যা এখন পর্যন্ত কোনো ছবির সর্বোচ্চ সংখ্যা। এই বিশাল সাফল্যের মধ্যে মোসাকুর নোমিনেশন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ তিনি হুডু প্র্যাকটিশনার অ্যানি চরিত্রে গভীর গবেষণা ও প্রস্তুতি নিয়ে অভিনয় করেছেন।
অস্কার নোমিনেশন ঘোষণার আগের রাতে, মোসাকু তার ছোট মেয়ের সঙ্গে ‘অ্যানি’ সিনেমা দেখেন, যা তার শৈশবের প্রিয় চলচ্চিত্র। তিনি জানান, এই সিনেমা দেখার মাধ্যমে তিনি নিজের উদ্বেগ কমাতে এবং অভিনয়ের প্রতি মূল প্রেরণা পুনরায় অনুভব করতে পেরেছেন। তার মেয়ে সিনেমাটি উপভোগ করে, যা মা-কে শান্তি ও আনন্দ এনে দেয়।
সকালের প্রথম দিকে, মোসাকু ঘুম থেকে জেগে জানতে পারেন যে তিনি অস্কার নোমিনেশন পেয়েছেন। তিনি তখন ঘুমের মধ্যে ছিলেন, এবং হঠাৎ তার স্বামী ফোনে জানিয়ে দেন যে তিনি নোমিনেটেড হয়েছেন। এই খবরটি তাকে তৎক্ষণাৎ উত্তেজনা ও আনন্দে ভরিয়ে দেয়।
মোসাকু এই মুহূর্তে বলেন, তিনি অস্কার নোমিনেশনকে একটি আবেগপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে অনুভব করছেন, তবে একই সঙ্গে তিনি শীতলতা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই স্বীকৃতি তার শিল্পের প্রতি ভালোবাসা ও পরিশ্রমের ফল।
‘সিনার্স’ ছবিতে মোসাকুর অ্যানি চরিত্রটি হুডু সংস্কৃতির গভীরতা ও জটিলতা তুলে ধরে। তিনি এই ভূমিকায় প্রবেশের আগে হুডু সম্পর্কে গবেষণা করেন এবং বাস্তবিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, যা তার পারফরম্যান্সকে স্বতন্ত্র ও প্রামাণিক করে তুলেছে।
মোসাকুর এই নোমিনেশন, তার ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি আগে টিভি সিরিজ ও চলচ্চিত্রে সমালোচনামূলক প্রশংসা পেয়েছেন, তবে অস্কার নোমিনেশন তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নতুন স্তর উন্মোচন করে।
‘সিনার্স’ ছবির সাফল্য এবং মোসাকুর নোমিনেশন, হোলিভুডের বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রতিভা ও গল্পের প্রতি বাড়তি মনোযোগের ইঙ্গিত দেয়। রায়ান কুগলার, যিনি পূর্বে ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ সিরিজের জন্য পরিচিত, এই ছবিতে নতুন দৃষ্টিকোণ ও সামাজিক বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করেছেন।
মোসাকু উল্লেখ করেন, তিনি রায়ান কুগলারের সঙ্গে কাজ করার সময় তার সৃজনশীল স্বাধীনতা ও শিল্পের প্রতি নিষ্ঠা লক্ষ্য করেছেন। তিনি বলেন, কুগলার বাণিজ্যিক চাপের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে সত্যিকারের গল্প বলার চেষ্টা করেন, যা তার জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
অস্কার নোমিনেশন ঘোষণার পর, মোসাকু সামাজিক মাধ্যমে তার পরিবার ও ভক্তদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন। তিনি তার মেয়ের সঙ্গে ‘অ্যানি’ সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, যা তার জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে রয়ে যায়।
মোসাকু ভবিষ্যতে আরও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলছেন, অস্কার নোমিনেশন তার জন্য নতুন দায়িত্ব ও সুযোগের সূচনা, যা তিনি গর্বের সঙ্গে গ্রহণ করবেন।
‘সিনার্স’ ছবির ১৬টি নোমিনেশন, যার মধ্যে মোসাকুর সাপোর্টিং অভিনেত্রী নোমিনেশন অন্তর্ভুক্ত, চলচ্চিত্রের শিল্পকর্মের উচ্চমান ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নির্দেশ করে। এই সাফল্য হোলিভুডের ইতিহাসে নতুন একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
মোসাকুর এই অর্জন, তরুণ অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ। তিনি নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
অস্কার নোমিনেশন অনুষ্ঠান আসন্ন, যেখানে মোসাকু তার পারফরম্যান্সের জন্য স্বীকৃতি পাবেন কিনা তা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। তিনি ইতিমধ্যে এই সুযোগকে তার শিল্পের প্রতি ভালোবাসা ও পরিশ্রমের ফল হিসেবে স্বীকার করেছেন।
সারসংক্ষেপে, ওয়ুনমি মোসাকুর প্রথম অস্কার নোমিনেশন, ‘সিনার্স’ ছবির রেকর্ড ভাঙা সাফল্য এবং তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, শিল্পের প্রতি তার নিবেদন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সবই একত্রে একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প গঠন করে।



