বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানায় যে, তার ১৪২টি সেবা এখন সম্পূর্ণ অনলাইন মাধ্যমে প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সব কাজ একত্রিত করতে ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে।
নতুন সিস্টেমের অধীনে বিদেশি মুদ্রা প্রেরণ, রেমিট্যান্স রেপ্যাট্রিয়েশন এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের সব ধাপই ইন্টারনেটের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। পূর্বে কাগজপত্র ও শারীরিক উপস্থিতি প্রয়োজন ছিল, এখন আবেদন থেকে ফি জমা পর্যন্ত প্রক্রিয়া মাত্র সাত কর্মদিবসের মধ্যে শেষ করা সম্ভব।
রয়্যালটি, কারিগরি সহায়তা ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি অনুমোদনের জন্যও ডিজিটাল পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্রুত সেবা, স্বচ্ছতা এবং কম খরচের সুবিধা এনে দেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উল্লেখ করেন, পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ও পরিবেশবান্ধব করে তোলার ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, ‘বাংলাবিজ’ প্ল্যাটফর্মে এই মাসের মধ্যে ২৫টির বেশি নতুন সেবা যুক্ত করা হবে, যা সেবার পরিসরকে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করবে।
এই ডিজিটাল রূপান্তরে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমর্থনও রয়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেছে, আর যুক্তরাজ্যের এফসিডিও (FCDO) প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিত করেছে। উভয় সংস্থার সহযোগিতায় প্ল্যাটফর্মের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, বিনিয়োগ সেবার দ্রুত ডিজিটালাইজেশন দেশের আর্থিক সেক্টরের প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করবে। বিদেশি বিনিয়োগকারী এখন সহজে লেনদেন করতে পারবে, ফলে প্রবাহিত মূলধনের পরিমাণে সম্ভাব্য বৃদ্ধি দেখা যাবে। একই সঙ্গে, দ্রুত সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজারে অগ্রগতি অর্জনের সুযোগ দেবে।
ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে ফি ও প্রক্রিয়া সংক্রান্ত খরচ কমে যাবে, যা ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ (SME) গুলোর জন্য বিশেষভাবে উপকারী। তারা কম ব্যয়েই প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাবে, ফলে ব্যবসা শুরু বা সম্প্রসারণের গতি ত্বরান্বিত হবে।
পরিবেশগত দিক থেকে, কাগজের ব্যবহার হ্রাস পাবে এবং শারীরিক অফিসের প্রয়োজন কমে যাবে। এটি দেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সবুজ অর্থনীতির দিকে একটি ধাপ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।
‘বাংলাবিজ’ প্ল্যাটফর্মের একীভূত কাঠামো বিনিয়োগকারী ও সরকারি সংস্থার মধ্যে তথ্যের প্রবাহ সহজ করবে। একাধিক সেবা এক জায়গায় পাওয়া যাবে, ফলে ডেটা শেয়ারিং ও বিশ্লেষণ সহজ হবে, যা নীতি নির্ধারণে সহায়তা করবে।
ডিজিটাল সেবা চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা গোপনীয়তার প্রশ্নও উত্থান পাবে। বিডা ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা জানিয়েছে, যা ব্যবহারকারীর তথ্য রক্ষা করবে।
আর্থিক সেক্টরের বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপ দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে, বিশেষ করে প্রযুক্তি-নির্ভর স্টার্টআপ এবং রিমোট কাজের সুযোগ বাড়বে। তবে, ডিজিটাল সেবার গ্রহণে গ্রাহকের ডিজিটাল সাক্ষরতা ও ইন্টারনেট অবকাঠামোর উন্নয়নও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বিডা ভবিষ্যতে আরও সেবা ডিজিটালাইজ করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে লাইসেন্সিং, অনুমোদন এবং পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়াগুলো অন্তর্ভুক্ত। এই ধারাবাহিক উন্নয়ন দেশের বিনিয়োগ নীতি ও ব্যবসায়িক পরিবেশকে আধুনিকীকরণে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, বিডার ১৪২টি সেবার ডিজিটাল রূপান্তর এবং ‘বাংলাবিজ’ প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্রুত, স্বচ্ছ এবং পরিবেশবান্ধব সেবা নিশ্চিত করে। আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা এই প্রকল্পকে শক্তিশালী করেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও বাজারের প্রতিযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



