ওয়েমো, অ্যালফাবেটের স্বয়ংচালিত গাড়ি বিভাগ, মায়ামিতে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় রোবোট্যাক্সি সেবা চালু করেছে। এই শহরটি গত বছর ঘোষিত পাঁচটি সম্প্রসারণ শহরের একটি, এবং ফিনিক্স, লস এঞ্জেলেস ও সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার পর এখন মায়ামির নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে।
সেবার সূচনা থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় দশ হাজার মায়ামি বাসিন্দা নিবন্ধন করেছেন, এবং ওয়েমো নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য ধীরে ধীরে আমন্ত্রণ পাঠাবে। প্রথম পর্যায়ে রাইড-হেলিং সেবা ৬০ বর্গমাইলের একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে, যেখানে ডিজাইন ডিস্ট্রিক্ট ও উইনউডের মতো জনপ্রিয় পাড়া অন্তর্ভুক্ত। শীঘ্রই মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
মায়ামিতে রোবোট্যাক্সি পরীক্ষা চালু হয়েছিল নভেম্বর মাসে, যখন গাড়িগুলো কোনো যাত্রী না নিয়ে চলাচল করছিল। এই পরীক্ষার মাধ্যমে স্থানীয় রাস্তার অবস্থা, ট্র্যাফিক সংকেতের বৈশিষ্ট্য এবং ড্রাইভিং অ্যালগরিদমের সামঞ্জস্যের প্রয়োজনীয়তা শনাক্ত করা হয়েছে, যাতে পূর্ণ সেবা শুরু হলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
ওয়েমো দাবি করে যে তার স্বয়ংক্রিয় গাড়িগুলো মানব চালকের তুলনায় গুরত্বপূর্ণভাবে নিরাপদ। বর্তমান কার্যক্রমে গাড়িগুলো গড়ে দশ গুণ কম গুরুতর আঘাতের হার রেকর্ড করেছে, যা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নির্দেশ করে। এই তথ্যগুলো কোম্পানির নিরাপত্তা নীতি ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যকে সমর্থন করে।
মায়ামিতে সেবা চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওয়েমো ফ্লোরিডার অন্য শহরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। অরল্যান্ডোকে পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, এবং ২০২৬ সালের মধ্যে টেক্সাসের সান আন্তোনিও, হিউস্টন ও ডালাসে রোবোট্যাক্সি চালু করার লক্ষ্য রয়েছে। এই ধারা দেখায় যে স্বয়ংক্রিয় পরিবহন সিস্টেমের বিস্তৃতি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত বাড়ছে।
প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে ওয়েমোর রোবোট্যাক্সি সিস্টেম লিডেড-সেন্সর, রাডার ও ক্যামেরার সমন্বয়ে গঠিত, যা রিয়েল-টাইমে পরিবেশের তথ্য সংগ্রহ করে গাড়ির গতি ও পথ নির্ধারণ করে। সফটওয়্যার স্তরে মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম ব্যবহার করে গাড়ি বিভিন্ন ট্র্যাফিক পরিস্থিতি শিখে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। মায়ামিতে চালু হওয়া সেবা এই প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগের উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।
মায়ামির বাসিন্দাদের জন্য স্বয়ংক্রিয় রাইড-হেলিং সেবা নতুন সুবিধা নিয়ে আসে। শহরের ট্র্যাফিক জ্যাম ও পার্কিং সমস্যার সমাধান হিসেবে রোবোট্যাক্সি কমিউটারের সময় কমাতে পারে এবং পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে নির্গমন হ্রাসে সহায়তা করবে। এছাড়া, অক্ষম বা বয়স্ক নাগরিকদের জন্য স্বাধীনভাবে চলাচল করা সহজ হবে।
অ্যালফাবেটের স্বয়ংচালিত বিভাগ হিসেবে ওয়েমো, স্বয়ংক্রিয় গাড়ি শিল্পে গবেষণা ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপদ রোডম্যাপ তৈরি করা হয়, যা ভবিষ্যতে আরও শহরে রোবোট্যাক্সি চালু করার ভিত্তি গড়ে তুলবে।
মায়ামিতে রোবোট্যাক্সি সেবার সম্প্রসারণের ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি ভিত্তিক চাকরি, রক্ষণাবেক্ষণ ও ডেটা বিশ্লেষণ ক্ষেত্রের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, এবং শহরের প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করবে।
সারসংক্ষেপে, ওয়েমোর স্বয়ংক্রিয় রোবোট্যাক্সি মায়ামিতে চালু হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা শহরের পরিবহন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। ভবিষ্যতে আরও শহরে এই সেবা পৌঁছাবে, এবং স্বয়ংচালিত গাড়ি প্রযুক্তি দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠবে।



