প্রাক্তন দলনেতা মোহাম্মদ আশরাফুলের মতে, ক্রিকেটে রাজনীতির হস্তক্ষেপ না করা উচিত এবং আগামী নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ক্রীড়া সম্পর্কের উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
এই মন্তব্যের পেছনে ছিল যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নাজরুলের সাম্প্রতিক বক্তব্য, যেখানে তিনি নিরাপত্তা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকায় বাংলাদেশ দলকে ভারতের দিকে আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের ম্যাচে পাঠানোর কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন।
আসিফ নাজরুলের কথা শোনার পর জাতীয় দল ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে খেলোয়াড় ও প্রশাসন একত্রে বর্তমান নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠকের পর আশরাফুল স্পষ্ট করে বলেন, বিসিবি সরকারের সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ এবং বর্তমান পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সরকার গঠনের পর দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করবে।
নির্বাচন ২২ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে এবং নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে উভয় দেশের ক্রীড়া সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়বে বলে আশ্রাফুলের ধারণা। তিনি বিশ্বাস করেন, নতুন প্রশাসনের দায়িত্ব হবে পূর্বের সিদ্ধান্তের দায়িত্ব না নেওয়া এবং বর্তমান সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া।
রাজনীতি ও ক্রীড়ার মধ্যে সীমানা না ভাঙার গুরুত্ব তিনি জোর দিয়ে বলেন। তিনি বলেন, ক্রিকেটের মাঠে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না থাকলে খেলোয়াড়দের মনোযোগ ও পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ না করা নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন, তবে নতুন সরকারের আগমনেই দুই দেশের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশাবাদী হন।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও একই সময়ে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য সংগ্রাম অব্যাহত রাখার কথা জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ দলকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
বিশ্বকাপের সূচনা ৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত এবং এই ইভেন্টটি ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে আয়োজন করবে। এই পটভূমিতে বাংলাদেশ দলকে যদি শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলতে হয়, তবে তারা প্রস্তুত রয়েছে বলে বুলবুল উল্লেখ করেন।
শ্রীলঙ্কা ভিত্তিক ম্যাচের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখার মাধ্যমে দলটি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের দরজা খুলে দিতে চায়। তিনি বলেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো বাধা না থাকলে দলটি তৎক্ষণাৎ প্রস্তুত হয়ে যাবে।
সারসংক্ষেপে, নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট সম্পর্কের উন্নতি এবং টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বাড়বে বলে আশরাফুল ও বিসিবি উভয়ই আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।



