অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বুধবার বিবিসি টেলিভিশনে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক সম্পর্ক বর্তমানে উভয় দেশের প্রত্যাশিত স্তরে পৌঁছায়নি এবং তা শক্তিশালী করতে উভয় পক্ষেরই সক্রিয় পদক্ষেপের প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, দুই দেশের জন্যই এই সম্পর্কের গুরুত্ব অপরিসীম, তবে তা উন্নত করতে উভয় দেশেরই ইতিবাচক ইচ্ছা ও নীতি প্রয়োজন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন নিয়ে তৌহিদ হোসেন উল্লেখ করেন, ভালো সংযোগ গড়তে উভয় দেশের শীর্ষ নেতৃত্বেরই প্রথমে তা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি যুক্তি দেন, যদি দু’পাশই সম্পর্ককে দৃঢ় করার ইচ্ছা প্রকাশ না করে, তবে কোনো বাস্তব অগ্রগতি সম্ভব নয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভারতের মিশন ও পোস্টের কর্মীদের দেশে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতীয় দূতাবাস ও কনস্যুলেটের কার্যক্রম পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকবে। তৌহিদ হোসেন এই পদক্ষেপকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশে কোনো ব্যর্থতার প্রমাণ হিসেবে দেখেন না, এবং স্বীকার করেন যে ভারত যদি দেশের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে, তবে তা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তিনি এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেও, অন্য দেশের মতামত পরিবর্তন করা বাংলাদেশে সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন।
প্রায় চার দশকের বেশি সময় ধরে ভারতীয় পার্টনারের সঙ্গে বিভিন্ন স্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে তৌহিদ হোসেন মন্তব্য করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় পক্ষের প্রতিক্রিয়া কিছুটা অতিরিক্ত হয়েছে এবং তিনি আরও সংযত ও সমন্বিত প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করছিলেন। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, উভয় দেশের জন্যই সম্পর্কের গুরুত্ব অপরিহার্য এবং তা দৃঢ় করতে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়া বাড়াতে হবে।
শেখ হাসিনার বিষয়ে তৌহিদ হোসেন উল্লেখ করেন, তিনি পূর্বে ভারতের আশ্রয়ে গিয়ে সেখানে নিরাপত্তা পেয়েছিলেন। এই তথ্যটি দুই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নয়ন নিয়ে তৌহিদ হোসেন স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশ কখনোই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করার উদ্দেশ্যে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী সরকার পুরো মেয়াদ জুড়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। তৌহিদ হোসেন বলেন, যদিও পাকিস্তানের সঙ্গে কিছু অমীমাংসিত বিষয় রয়ে গেছে, তবু বাংলাদেশ স্বাভাবিক প্রতিবেশী সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে ইচ্ছুক, যা কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়।
উল্লেখযোগ্য যে, তৌহিদ হোসেনের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় দেশের কূটনৈতিক মঞ্চে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর দেওয়া হবে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ভবিষ্যতে উভয় পক্ষেরই উচ্চ পর্যায়ের সংলাপের মাধ্যমে নিরাপত্তা উদ্বেগ দূর করা এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় দেশের সরকারই সম্পর্কের পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য কূটনৈতিক চ্যানেল সক্রিয় রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই বিবৃতি ও সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশের কূটনৈতিক নীতি ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তৌহিদ হোসেনের মন্তব্যের ভিত্তিতে, বাংলাদেশ ও ভারতের ভবিষ্যৎ সংলাপের গতি, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং পারস্পরিক বাণিজ্যিক স্বার্থের সমন্বয় কীভাবে হবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।



