ঢাকা শহরের অতিরিক্ত মহানগর সেশন আদালত-১-এ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ রায় শোনা যায়। সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন আবেদন অস্বীকার করা হয়, যা অ্যান্টি‑টেররিজম আইনের অধীনে চলমান মামলায় একটি নতুন মোড় যোগায়।
আদালতের রায় জারি করেন অতিরিক্ত মহানগর সেশন জজ মো. আলমগীর, যিনি মামলাটি শোনার পর আবেদনকারী পক্ষের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। রায়ের ভিত্তি ও শর্তাবলী আদালতের রেকর্ডে সংরক্ষিত আছে।
আনিস আলমগীরের গ্রেফতার হয় গত বছর ১৪ ডিসেম্বর, যখন তিনি ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় একটি জিমে ব্যায়াম করছিলেন। গ্রেফতারকারী দল তাকে মিন্টো রোডের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ অফিসে নিয়ে যায়।
পরের দিন, জুলাই রেভোলিউশনারি অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিয়ান আহমেদ উত্তরা পশ্চিম থানা-তে অ্যান্টি‑টেররিজম আইনের অধীনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আনিসের পাশাপাশি তিনজন অন্য ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় উল্লেখিত সহ-অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মেরিয়া কিসপোত্তা এবং ইমতু রতিশ। তাদের বিরুদ্ধে একই আইনি ধারা অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার দায়েরের একই দিনে আনিসকে আদালতে হাজির করা হয়। প্রাথমিকভাবে সাত দিনের রিম্যান্ডের অনুরোধ করা হয়, তবে আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিম্যান্ডে রাখার নির্দেশ দেয়।
আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি রায়ের পর আদালতে উপস্থিত হয়ে রায়ের বৈধতা ও পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি রায়ের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপের প্রস্তুতি জানান।
আনিস আলমগীরের পেশাগত পটভূমি বহুমুখী। তিনি বহু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কাজ করেছেন এবং টেলিভিশন টক শোতে সক্রিয় উপস্থিতি রাখার জন্য পরিচিত ছিলেন। তার ক্যারিয়ার বহু বছর ধরে সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিককে ছুঁয়েছে।
অ্যান্টি‑টেররিজম আইনের অধীনে জামিনের অনুমোদন কঠোর শর্তের ওপর নির্ভরশীল। আদালত সাধারণত নিরাপত্তা ঝুঁকি, অপরাধের প্রকৃতি এবং অভিযুক্তের পূর্বের রেকর্ড বিবেচনা করে রায় দেয়। এই মামলায় রায়ের ভিত্তি এই মানদণ্ডের ওপর নির্ভরশীল।
পরবর্তী শুনানির তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শীঘ্রই তথ্য প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। রিম্যান্ডের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত রিম্যান্ডের আবেদন করা হতে পারে।
এই মামলায় জড়িত ব্যক্তিরা জনসাধারণের পরিচিতি সম্পন্ন, তাই ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গততা বজায় রাখা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি মামলাটিকে সংবেদনশীলভাবে পরিচালনা করার আহ্বান জানাচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, আজকের রায় আনিস আলমগীরের জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে এবং মামলাটিকে অ্যান্টি‑টেররিজম আইনের কঠোর কাঠামোর মধ্যে চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ভবিষ্যতে আদালতের পরবর্তী রায় ও রিম্যান্ডের সম্ভাবনা নজরে থাকবে।



