বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, মিরপুরের আদর্শ স্কুলমাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে তিনি কর্মক্ষেত্রে নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং রাস্তা-ঘাটে চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নারী-পুরুষ একসাথে কাজ করলে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
ডা. শফিকুর রহমান সমাবেশে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের প্রতি বিশেষভাবে মায়ের ইজ্জত রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, মায়ের সম্মানকে কখনোই ক্ষুন্ন করা যাবে না; তা না করলে সমাজে অশান্তি ও অশুভ ফলাফল দেখা দেবে। তিনি এ বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নেন এবং বলেন, সব ধরনের কষ্ট সহ্য করা যাবে, তবে মায়ের ইজ্জতের প্রশ্নে কোনো সমঝোতা করা হবে না।
রাজনৈতিক নৈতিকতার দিক থেকে তিনি ভোট চোরের উপস্থিতি না চাওয়ার কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, যারা নিজেদের দলের সদস্যদের চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং পাথর নিক্ষেপের মতো হিংসা থেকে রক্ষা করতে সক্ষম, তারা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে সুন্দর করে তুলতে পারবে। তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে পুরনো রাজনৈতিক কাঠামো ও ক্ষমতার গঠন পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
সমাবেশে শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে এক মুহূর্তের নীরবতা রাখা হয়। ডা. শফিকুর রহমান তার কথা স্মরণ করে বলেন, একসময় একজন ওসমান হাদি ছিলেন, এখন ১৮ কোটি হাদি তৈরি হয়েছে। তিনি এই কথার মাধ্যমে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে, তাদের স্বপ্নের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, স্বপ্ন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই থামবে না।
এই সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ দশটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। জামায়াত ও শিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীও সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন, যা সমাবেশের বহুমুখী রাজনৈতিক সমর্থনকে নির্দেশ করে। উপস্থিত দলের প্রতিনিধিরা সমাবেশের মূল বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে, নারীর নিরাপত্তা ও দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা জোর দেন।
ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্যের পটভূমিতে জামায়াতের আসন্ন নির্বাচনী প্রচারণা এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখিত নীতি ও প্রতিশ্রুতি, বিশেষ করে নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা, ভোট চোরের বিরোধিতা এবং শহীদদের স্মরণ, ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ভোটারদের মনোভাব গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
সমাবেশের শেষে উপস্থিত সকল অংশগ্রহণকারী একসাথে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনের জন্য সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সমাপনী বক্তব্য দেন। সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় এবং উপস্থিতদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার অনুভূতি স্পষ্ট হয়।



