22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাংলাদেশে স্বর্ণের দাম ২.৫ লাখ টাকার নিচে নেমে ২.৪৯ লাখ টা প্রতি...

বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম ২.৫ লাখ টাকার নিচে নেমে ২.৪৯ লাখ টা প্রতি ভরি

বাংলাদেশের গহনা শিল্পের প্রধান সমিতি বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আগামীকাল থেকে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২.৪৯ লাখ টা প্রতি ভরি নির্ধারণের ঘোষণা দিয়েছে। এটি গতকাল রেকর্ড উচ্চ ২.৫২ লাখ টা ভরি অতিক্রমের এক দিন পরের পরিবর্তন, যেখানে দাম ৩,০০০ টাকায় হ্রাস পাবে।

এই মূল্যসংশোধন আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের সাম্প্রতিক পতনের পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে। বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের স্পট দামের হ্রাস ০.৪ শতাংশে নেমে প্রতি আউন্সে ৪,৮১৯.৩৯ ডলারে পৌঁছেছে, যা পূর্বে সেশনে প্রায় ১ শতাংশের বেশি পতনের পরের সমন্বয়। একই সময়ে ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার দাও ০.৩ শতাংশ কমে ৪,৮২১ ডলারে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম তিন সপ্তাহ আগে ২.৩০ লাখ টা প্রতি ভরি থেকে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড উচ্চে পৌঁছেছিল। ঐ সময়ে গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক চাহিদা উভয়ই তীব্রভাবে বাড়ার ফলে দাম দ্রুত বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত ২.৫২ লাখ টা ভরি পর্যন্ত পৌঁছায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে এই সাম্প্রতিক পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কিত শুল্ক হুমকি প্রত্যাহারকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। শুল্কের সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় ঝুঁকি গ্রহণের মনোভাব উন্নত হয়েছে এবং স্বর্ণের দাম থেকে লাভ নেওয়ার জন্য বিক্রেতারা সক্রিয় হয়ে ওঠে।

গ্লোবাল জিওপলিটিক্যাল উত্তেজনা, বিশেষ করে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড পরিকল্পনা, পূর্বে স্বর্ণের চাহিদা বাড়িয়ে $৪,৮০০ আউন্সের সীমা অতিক্রম করেছিল। তবে এখন ঝুঁকি স্বল্পমেয়াদে কমে যাওয়ায় নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

বাংলাদেশের গহনা বাজারে এই দামের পরিবর্তন সরাসরি গহনা বিক্রেতা ও গ্রাহকদের উপর প্রভাব ফেলবে। দাম কমে গেলে গহনা ক্রয়ের আগ্রহ বাড়তে পারে, তবে একই সঙ্গে পূর্বে উচ্চ দামের কারণে সঞ্চিত মুনাফা হ্রাসের ঝুঁকি থাকবে।

বাজার বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, স্বর্ণের দাম আরও কিছুটা নেমে যেতে পারে যদি আন্তর্জাতিক বাজারে ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা অব্যাহত থাকে। তবে কোনো অপ্রত্যাশিত ভূ-রাজনৈতিক ঘটনা বা মুদ্রা বাজারের অস্থিরতা স্বর্ণের দামের পুনরায় উত্থান ঘটাতে পারে।

বাজুসের নতুন মূল্যসূচি আগামীকাল থেকে কার্যকর হবে এবং গহনা বিক্রেতারা এই দামের ভিত্তিতে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করবে। দাম হ্রাসের ফলে গহনা শিল্পের বিক্রয় পরিমাণে সাময়িক বৃদ্ধি আশা করা যায়, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত গ্রাহকদের মধ্যে।

অন্যদিকে, স্বর্ণের দামের এই সাময়িক পতন গৃহস্থালি সঞ্চয় পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। স্বর্ণকে সঞ্চয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারকারী পরিবারগুলো এখন কম দামে ক্রয় করতে পারবে, যা দীর্ঘমেয়াদে সঞ্চয় গঠনে সহায়তা করবে।

বাজারের সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, স্বর্ণের দামের এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক আর্থিক নীতি, মুদ্রা বাজারের অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তাই গহনা শিল্পের অংশীদারদের জন্য এই বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

সংক্ষেপে, স্বর্ণের দাম ২.৫ লাখ টাকার নিচে নেমে ২.৪৯ লাখ টা প্রতি ভরি নির্ধারিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক দামের পতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গহনা বাজারে এই হ্রাসের ফলে ক্রয়ক্ষমতা বাড়তে পারে, তবে ভবিষ্যতে দামের ওঠানামা পুনরায় দেখা দিতে পারে।

বাজারের ভবিষ্যৎ প্রবণতা নির্ধারণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা নীতি, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা মূল চালিকাশক্তি হিসেবে রয়ে যাবে। গহনা বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়েরই এই পরিবর্তনকে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments