বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ২২ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম নির্বাচনী জনসভা পরিচালনা করেন। তিনি উপস্থিত ভিড়ের সামনে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরে, বিদেশি মডেল বা অন্য কোনো দেশের তুলনা না করে, শুধুমাত্র বাংলাদেশকে কেন্দ্রবিন্দু করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তারেক রহমানের ভাষণে উল্লেখ করা হয়, দেশের জনগণই রাজনৈতিক ক্ষমতার মূল উৎস, তাই জনগণের মঙ্গলের জন্য কাজ করা উচিত। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মরণ করিয়ে দিয়ে, স্বাধীনতার পথে শহীদ হওয়া ও মাতৃভূমি রক্ষায় অবদান রাখা বীরদের সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জনসভায় তিনি উপস্থিতদের সমর্থন ও দোয়া চেয়ে, বিএনপি প্রস্তাবিত প্রার্থীকে ‘ধানের শীষ’ হিসেবে ভোটের পক্ষে সমর্থন জানান। তারেক রহমান স্বাবলম্বী জাতি গড়ার লক্ষ্যে, স্বৈরাচার থেকে মুক্তি পেয়ে এখন মানুষের মৌলিক অধিকার—ভোট ও মত প্রকাশের অধিকার—সহই নয়, আত্মনির্ভরতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বক্তৃতার এক পর্যায়ে তিনি ‘কুফর’, ‘হঠকারিতা’ ও ‘মিথ্যা’ শব্দ ব্যবহার করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের সমস্যাগুলি চিহ্নিত করেন এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসবের মোকাবিলা করার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য টেকসই নীতি ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তারেক রহমান উপস্থিত ভিড়কে একাধিক রেটোরিক্যাল প্রশ্ন করেন: কাবা শরিফের মালিক কে? এই পৃথিবী, সূর্য‑নক্ষত্র, স্বর্গের মালিক কে? এসব প্রশ্নের উত্তরে সমাবেশে সবাই একসাথে “আল্লাহ” বলে উত্তর দেয়। এরপর তিনি উল্লেখ করেন, আল্লাহই একমাত্র সত্তা যিনি সকলের মালিক, আর কেউ তার অধিকার অন্যকে হস্তান্তর করতে পারে না।
এ ধরনের ধর্মীয় রেফারেন্সের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ‘টিকিট’ বা ‘সুবিধা’ দেওয়ার দাবি করা দলগুলোর নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন, এবং বলছেন যে এমন দাবি শিরক (অশুদ্ধ) হিসেবে গণ্য হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের মালিকানা ও কর্তৃত্ব আল্লাহর হাতে, তাই কোনো রাজনৈতিক দলই তা পরিবর্তন করতে পারে না।
বিএনপি তারেকের এই বক্তব্যের পর, উপস্থিত মানুষদের মধ্যে তীব্র উল্লাস ও সমর্থনের চিৎকার শোনা যায়। তিনি সমাবেশে উপস্থিতদেরকে দেশের স্বায়ত্তশাসন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে আহ্বান জানান।
বিএনপি পূর্বে জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে এবং পরে দেশের প্রতিটি নাগরিককে স্বনির্ভর করে তোলার জন্য নীতি প্রণয়ন করবে। তারেক রহমানের এই জনসভা, পার্টির নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে, গ্রামীণ ও শহুরে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখে।
অবশেষে, তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে জনগণের সচেতন অংশগ্রহণের ওপর, এবং ভোটের মাধ্যমে দেশের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা সম্ভব। তিনি সকলকে আহ্বান জানান, নির্বাচনের দিন সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে এবং দেশের মঙ্গলে কাজ করবে।
এই জনসভা, দেশের সর্বশেষ নির্বাচনী তারিখের ঘোষণার পর (নভেম্বর ২০২৫) প্রথম বৃহৎ সমাবেশ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন, অন্যান্য প্রধান দলগুলোরও সমানভাবে জনসাধারণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, সিলেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে বিএনপির এই ধরনের সক্রিয় প্রচারাভিযান পার্টির ভোটাভুটি ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে স্বাবলম্বী নীতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি আকর্ষণ বাড়াতে পারে।
পরবর্তী সপ্তাহে, অন্যান্য শহরে সমান ধরনের জনসভা অনুষ্ঠিত হবে বলে পার্টি জানিয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও তীব্র করে তুলবে এবং ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



