বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)‑এর সঙ্গে একটি জরুরি আলোচনার পর স্পষ্ট করে জানান, যদি দেশটি এই বছর শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারে, তবে তা ICC‑এর জন্যও একটি বড় ধাক্কা হবে। তিনি যোগ করেন, বাংলাদেশ এখনও বিশ্বকাপের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে এবং শ্রীলঙ্কায় অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বজায় রাখবে।
ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে ক্রিকেটারদের বৈঠকের পর, বুলবুল মিডিয়ার সামনে বাংলাদেশের টিমের দৃঢ় অবস্থান পুনরায় তুলে ধরেন। উপদেষ্টা চলে যাওয়ার পর, তিনি দীর্ঘ বিবৃতি দেন, যেখানে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি, দলের দাবী এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন।
বুলবুল উল্লেখ করেন, গতকাল ICC‑এর একটি মিটিং অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই মিটিং থেকে যোগাযোগ শুরু হয়, যখন মুস্তাফিজকে একটি IPL দলে থেকে বাদ দেওয়া হয়। তিনি স্পষ্ট করেন, মুস্তাফিজের কোনো আঘাত নেই এবং তিনি স্বেচ্ছায় নাম প্রত্যাহার করেননি। BCB তার নন‑অবস্ট্যাকল সার্টিফিকেট (NOC) বাতিল করেনি; নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে সরকারী সূত্র থেকে জানা যায়, নিরাপত্তা এই বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এই তথ্য জানার সঙ্গে সঙ্গেই BCB ৪ জানুয়ারি ICC‑কে অবহিত করে, বিকল্প ভেন্যু চেয়ে এবং বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের ফলে ICC‑এর বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বুলবুল উল্লেখ করেন, যার মধ্যে ১৯৯৬ এবং ২০০৩ সালের ঘটনাগুলোও অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সমস্যাগুলো এবং ICC‑এর গ্রহণকৃত ব্যবস্থা সম্পর্কে তারা স্পষ্টভাবে ICC‑কে জানিয়েছে।
বুলবুল অতিরিক্তভাবে স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি দেশ নিরাপত্তা সমস্যার কারণে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে অস্বীকার করেছিল। সেই দেশের সরকারী অনুমোদন পেয়ে ICC সেই দলের জন্য একটি নিরপেক্ষ ভেন্যু ব্যবস্থা করেছিল; দলটি হোটেলে অবস্থান করে নির্ধারিত মাঠে ম্যাচটি সম্পন্ন করে। তিনি এটিকে “একটি বিশেষ সুবিধা” হিসেবে উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের শেষে, তিনি বর্তমান হাইব্রিড মডেল সম্পর্কে মন্তব্য করেন, যেখানে শ্রীলঙ্কা এখনো বিশ্বকাপের আয়োজনের জন্য প্রস্তুত। তিনি জোর দেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব উদ্বেগ সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না এবং BCB সব সম্ভাব্য বিকল্পের জন্য প্রস্তুত।
বুলবুলের এই বক্তব্যের পর, BCB‑এর অন্যান্য কর্মকর্তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভেন্যু বিকল্প এবং আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার সমন্বয় নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান। তারা উল্লেখ করেন, যদি শ্রীলঙ্কা বা অন্য কোনো দেশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে, তবে বাংলাদেশ দ্রুতই বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হবে।
সারসংক্ষেপে, BCB‑এর প্রধান লক্ষ্য হল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা কোনো বাধা ছাড়াই শ্রীলঙ্কার মাটিতে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে আসতে পারে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বার্থে ICC‑এর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



