20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাংলাদেশ ব্যাংকের গভার্নর ও ফাইন্যান্স উপদেষ্টা ব্যাংক আইনের সংশোধন নিয়ে মতবিনিময়

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভার্নর ও ফাইন্যান্স উপদেষ্টা ব্যাংক আইনের সংশোধন নিয়ে মতবিনিময়

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভার্নর আহসান এইচ. মানসুর আজ ঢাকা শহরের সিক্স সিজনস হোটেলে অনুষ্ঠিত ব্যাংকিং সংস্কার রাউন্ডটেবিলে ফাইন্যান্স উপদেষ্টা সালেহুদ্দিন আহমেদকে ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ও ব্যাংক কোম্পানি আইন দ্রুত সংশোধনের আহ্বান জানান। উভয় কর্মকর্তার এই আলোচনার পটভূমি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে আইনগত কাঠামোকে আধুনিকায়ন করা।

রাউন্ডটেবিলটি ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক যৌথভাবে আয়োজন করে, যেখানে গভার্নর বিশেষ অতিথি ও উপদেষ্টা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ইভেন্টটি সিক্স সিজনস হোটেলের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়, যা ব্যবসা ও আর্থিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের একত্রিত করার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে বেসরকারি ও রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পের ব্যবসা নেতারা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা ব্যাংকিং সেক্টরের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

গভার্নর মানসুর উল্লেখ করেন যে, বর্তমান আইনি কাঠামো ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন ও তত্ত্বাবধানে বাধা সৃষ্টি করছে এবং দ্রুত সংশোধন না হলে নির্বাচনের পর আর্থিক নীতি বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তিনি সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার দাবি করেন।

এরপর ফাইন্যান্স উপদেষ্টা আহমেদ জানান যে, নির্বাচনের আগে দুইটি আইন সংশোধন করা সময়সীমার দিক থেকে কঠিন হতে পারে। তিনি বর্তমান সময়ের সীমাবদ্ধতা ও প্রক্রিয়াগত বাধা উল্লেখ করে সংশোধনের সম্ভাবনা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন।

ব্যবসা নেতারা রাউন্ডটেবিলে ব্যাংকিং সেক্টরের রিস্ক‑বেসড সুপারভিশন, ডেটা শেয়ারিং এবং ঋণ নীতি সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। তারা উল্লেখ করেন যে, আইনি সংস্কার ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালকগণ গভার্নরের সংস্কার পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়ে, দ্রুত আইনগত পরিবর্তন হলে ব্যাংকের কার্যকরী স্বায়ত্তশাসন ও গ্রাহক সেবার মান উন্নত হবে বলে মত প্রকাশ করেন। তারা বিশেষ করে ব্যাংক কোম্পানি আইনের আধুনিকীকরণে জোর দেন।

উপদেষ্টা আহমেদ সময়ের সংকট ও তার নিজস্ব ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে, সংশোধন প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে অতিরিক্ত সমন্বয় প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সংশোধনের জন্য আইনসভা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় প্রয়োজন।

গভার্নর মানসুর মন্তব্যে তিনি জোর দেন যে, নির্বাচন পর আইন পরিবর্তন করা কঠিন হবে, কারণ রাজনৈতিক পরিবেশ ও নীতি অগ্রাধিকার পরিবর্তিত হতে পারে। তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরে, নির্বাচনের আগে আইনগত কাঠামোকে স্থিতিশীল করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন।

উপদেষ্টা আহমেদ শেষ পর্যন্ত বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, তবে সময় সীমিত, তাই কতটুকু কাজ সম্পন্ন হবে তা নিশ্চিত নয়।” এই বক্তব্য রাউন্ডটেবিলের শেষ অংশে শোনা যায়।

এই আলোচনার ফলে ব্যাংকিং সেক্টরের স্বায়ত্তশাসন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সংস্কার দ্রুততর হতে পারে, যা আর্থিক বাজারের স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগের পরিবেশকে উন্নত করবে। তবে সময়ের সীমাবদ্ধতা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

নির্বাচনের আগে আইনগত পরিবর্তন না হলে, নতুন সরকার গঠনের পর নীতি পরিবর্তনের ঝুঁকি বেড়ে যাবে, যা ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও কৌশলগত বিনিয়োগে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই উভয় পক্ষই সময়মতো সমন্বয় সাধনের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সংক্ষেপে, গভার্নর ও ফাইন্যান্স উপদেষ্টার মধ্যে ব্যাংক আইনের সংশোধন নিয়ে মতবিনিময় ভবিষ্যৎ আর্থিক নীতি ও বাজারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সময়ের চাপ ও রাজনৈতিক চক্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সেক্টরের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments