ব্লু অরিজিন ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে তার বৃহৎ রকেট নিউ গ্লেনের তৃতীয় উৎক্ষেপণ পরিকল্পনা করেছে। এই মিশনে রকেটটি চাঁদে যাবে না; বরং এটি অ্যাস্ট স্পেসমোবাইলের একটি স্যাটেলাইটকে নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথে (LEO) পাঠাবে।
নিউ গ্লেনের তৃতীয় উড্ডয়ন মাত্র এক বছরের বেশি সময়ে তৃতীয়বার, যা দশ বছরব্যাপী উন্নয়নের পর দ্রুত গতি পেয়েছে। রকেটটি প্রথমবারের মতো নিয়মিতভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে পে-লোড সরবরাহের উদ্দেশ্যে তৈরি, এবং পূর্বের সাবঅরবিটাল নিউ শেপার প্রোগ্রামের অভিজ্ঞতা থেকে গড়ে উঠেছে।
এই উড্ডয়নের প্রধান পে-লোড হল অ্যাস্ট স্পেসমোবাইলের স্যাটেলাইট, যা কোম্পানির স্পেস-ভিত্তিক সেলুলার ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। নিউ গ্লেনের মাধ্যমে এই স্যাটেলাইটটি পাঠানো দ্বিতীয় বাণিজ্যিক পে-লোড, যা রকেটের বাণিজ্যিক সক্ষমতা প্রমাণ করে।
ব্লু অরিজিনের নিজস্ব চাঁদে অবতরণকারী ল্যান্ডার, ব্লু মুন মার্ক ১ (MK1), এই সময়ে উৎক্ষেপণ না করে NASA-এর জোন্সন স্পেস সেন্টারে ভ্যাকুয়াম চেম্বার পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ল্যান্ডারের নির্দিষ্ট উৎক্ষেপণ তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, এবং কেন স্যাটেলাইটকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে তা কোম্পানি স্পষ্ট করে না।
উড্ডয়নের জন্য ব্যবহৃত হবে নিউ গ্লেনের দ্বিতীয় মিশনের বুস্টার, যা নভেম্বর মাসে সফলভাবে উৎক্ষেপণ ও সমুদ্রের ড্রোন শিপে অবতরণ করে পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল। এই পুনর্ব্যবহারযোগ্য বুস্টারটি আবারো ব্যবহার করে রকেটের খরচ কমানো এবং টেকসই স্পেসফ্লাইটের মডেল প্রতিষ্ঠা করা হবে।
নিউ গ্লেনের নকশা ও ক্ষমতা নিউ শেপার প্রোগ্রামের দশ বছরের সাফল্যের উপর ভিত্তি করে, তবে এটি প্রথম রকেট যা পূর্ণমাত্রায় কক্ষপথে পে-লোড বহন করার জন্য পরিকল্পিত। রকেটের উচ্চতর লিফট ক্ষমতা এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য বুস্টার সিস্টেম এটিকে বাণিজ্যিক ও বৈজ্ঞানিক মিশনের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
অ্যাস্ট স্পেসমোবাইলের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, নিউ গ্লেন ভবিষ্যতে একাধিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করবে, যা পৃথিবীর দূরদূরান্তে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখে। এই উদ্যোগটি স্পেস-ভিত্তিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্লু অরিজিনের বৃহত্তর লক্ষ্য শুধুমাত্র নিউ গ্লেন নয়; কোম্পানি নভোচারী মিশন, চাঁদে অবতরণ এবং গভীর মহাকাশ অনুসন্ধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। নভেম্বর মাসে প্রকাশিত কৌশলগত রোডম্যাপে রকেটের পরবর্তী সংস্করণ এবং আন্তঃগ্রহ মিশনের জন্য প্রযুক্তি উন্নয়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি মাসটি মহাকাশ কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকবে। NASA সম্ভবত ৬ ফেব্রুয়ারি আর্টেমিস II মিশন চালু করতে পারে, যেখানে চারজন মহাকাশচারী চাঁদের চারপাশে কক্ষপথে ঘুরবে। একই সময়ে স্পেসএক্স তার তৃতীয় সংস্করণের স্টারশিপের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং ক্রু-১২ মিশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) পুনরায় পূর্ণ কর্মী সংখ্যা অর্জন করবে, যা সম্প্রতি ক্রু-১১ দলের চিকিৎসা সংক্রান্ত ত্যাগের পর ঘটবে।
নিউ গ্লেনের এই উড্ডয়ন বাণিজ্যিক রকেট বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে। স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ এবং রকেট ল্যাবের এয়ারলিফ্টের সঙ্গে তুলনা করলে, ব্লু অরিজিনের পুনর্ব্যবহারযোগ্য সিস্টেম এবং বৃহৎ লিফট ক্ষমতা এটিকে আলাদা করে। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট গ্রাহক ও সরকারী মিশনের জন্য বিকল্প সরবরাহের সম্ভাবনা বাড়বে।
ব্লু অরিজিনের তৃতীয় নিউ গ্লেন উৎক্ষেপণ শীঘ্রই বাস্তবায়িত হবে, এবং এটি স্পেস শিল্পে নতুন মাইলফলক চিহ্নিত করবে। রকেটের পুনর্ব্যবহারযোগ্যতা, বাণিজ্যিক পে-লোডের বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ চাঁদ মিশনের প্রস্তুতি একসাথে শিল্পের দিকনির্দেশনা পরিবর্তন করতে পারে।



