28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবারাপুকুরিয়া থার্মাল প্ল্যান্টে চার দিনের বন্ধের পর বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় শুরু

বারাপুকুরিয়া থার্মাল প্ল্যান্টে চার দিনের বন্ধের পর বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় শুরু

দিনাজপুরের বারাপুকুরিয়া থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টে চার দিন বন্ধ থাকা একটি ইউনিট গত রাত ৯টায় পুনরায় চালু হয়েছে। মেকানিক্যাল ত্রুটি সমাধানের পর প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে, যা দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক স্বস্তি এনে দেয়।

বিকেলবেলা ইউনিট‑১-এ বয়লার টিউব ফেটে যাওয়ার কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই ইউনিটটি গত কয়েক মাসে একমাত্র চালু থাকা ইউনিট ছিল, ফলে বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রিডে সরবরাহের ঘাটতি দেখা দেয়।

বারাপুকুরিয়া প্ল্যান্টের মোট ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট, যার মধ্যে ইউনিট‑১ এবং ইউনিট‑২ প্রত্যেকটির ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট। ইউনিট‑২ ২০২০ সাল থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ, আর ইউনিট‑৩, যার ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট, নভেম্বর ১, ২০২২ থেকে মেকানিক্যাল সমস্যার কারণে বন্ধ রয়েছে।

ইউনিট‑৩-এর মেরামত কাজ এখনো চলমান এবং চীনের সরবরাহ করা যন্ত্রাংশের আগমনের উপর নির্ভরশীল। মেরামত সম্পন্ন হতে সর্বনিম্ন মার্চ মাসের পরে সময় লাগতে পারে, তবে সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও অনিশ্চিত। এই বিলম্বের ফলে প্ল্যান্টের মোট উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানে ১২৫ মেগাওয়াটে সীমাবদ্ধ, যা দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের পুনরায় শুরু হওয়া বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অতিরিক্ত ৫৫-৬০ মেগাওয়াট গ্রিডে যোগ হওয়ায় স্বল্পমেয়াদে লোড শেডিং কমে যাবে এবং বিদ্যুৎ মূল্য স্থিতিশীল হতে সহায়তা করবে। তবে ইউনিট‑৩-এর দীর্ঘমেয়াদী বন্ধ থাকা এবং ইউনিট‑২-এর দীর্ঘস্থায়ী বন্ধ অবস্থার ফলে মোট ক্ষমতা এখনও চাহিদার তুলনায় কম, যা ভবিষ্যতে সরবরাহ ঘাটতির ঝুঁকি বজায় রাখে।

শক্তি খাতের বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বারাপুকুরিয়া প্ল্যান্টের সম্পূর্ণ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার হলে দেশের জ্বালানি মিশ্রণে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুতের অংশ বাড়বে, যা স্বল্পমেয়াদে গ্রিডের স্থিতিশীলতা বাড়াবে। তবে একই সঙ্গে কয়লা ভিত্তিক প্ল্যান্টের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং পরিবেশগত দায়িত্ব বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চীনের সরবরাহের উপর নির্ভরশীল যন্ত্রাংশের দেরি এবং পুরনো অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যাগুলি ভবিষ্যতে বিনিয়োগের দিকনির্দেশনা প্রভাবিত করতে পারে। সরকার যদি এই ধরণের থার্মাল প্ল্যান্টের আধুনিকায়ন বা বিকল্প জ্বালানি উৎসে রূপান্তরকে অগ্রাধিকার দেয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ নিরাপত্তা ও টেকসইতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সারসংক্ষেপে, বারাপুকুরিয়া থার্মাল প্ল্যান্টের একক ইউনিটের পুনরায় চালু হওয়া স্বল্পমেয়াদে গ্রিডের চাপ কমাবে, তবে মোট ক্ষমতার ঘাটতি এবং মেরামত দেরি দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ নিরাপত্তা ও বাজারের স্থিতিশীলতায় চ্যালেঞ্জ রয়ে যাবে। ভবিষ্যতে যন্ত্রাংশের সময়মত সরবরাহ এবং পুরনো ইউনিটের আধুনিকায়ন পরিকল্পনা সফল হলে দেশের বিদ্যুৎ শিল্পের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে ইতিবাচক পরিবর্তন আশা করা যায়।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments