দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নাঈমুল ইসলাম খান এবং তার স্ত্রী নাসিমা খান মন্টির সম্পদ বিবরণী না জমা দেওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন করেছে। দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেন।
মো. আক্তার হোসেনের মতে, দুদকের তদন্তে নাঈমুল ইসলাম খান ও নাসিমা খান মন্টির ঘোষিত সম্পদ ও তাদের জানিত আয়ের উৎসের মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা যায়। এই অসঙ্গতি প্রকাশের পর দুদক আইন অনুসারে উভয়কে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেয়।
নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নাঈমুল ইসলাম খান ও নাসিমা খান মন্টি কোনো সম্পদ বিবরণী জমা দিতে ব্যর্থ হন। দুদক অতিরিক্ত সময় বাড়িয়ে দেয়া সত্ত্বেও তারা বাড়তি সময়ের মধ্যেও কোনো বিবরণী দাখিল করেননি।
এই অবহেলার ফলে দুদক ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ধারা ২৬(২) অনুযায়ী অপরাধের ভিত্তিতে চার্জশিট অনুমোদন করে। ধারা ২৬(২) অনুসারে সম্পদ বিবরণী না জমা দেওয়া এবং তা গোপন করা উভয়ই অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।
দুদকের সিদ্ধান্তের পর আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হবে। চার্জশিট অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি নির্ধারণের জন্য বিচারিক শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
নাঈমুল ইসলাম খান, যিনি শীঘ্রই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তার এই মামলায় দুদকের তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার স্ত্রীর নাম নাসিমা খান মন্টি, যিনি তার সঙ্গে সম্পদ সংক্রান্ত অভিযোগে যুক্ত।
দুদকের এই পদক্ষেপ দেশের দুর্নীতি বিরোধী প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পূর্বে একই কমিশন বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে অনুরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
অধিক তথ্য ও পরবর্তী আদালত শোনার তারিখ সম্পর্কে দুদক থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। তবে আইনগত প্রক্রিয়া চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা ও প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ থাকবে।
এই মামলায় দুদকের কার্যক্রম এবং আইনগত প্রয়োগের সঠিকতা ভবিষ্যতে সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ প্রকাশের পদ্ধতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও নির্দেশনা ও আপডেটের জন্য নজর রাখা হবে।



