বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান ও ফেনী-৩ (সোনাগাজী‑দাগনভূঞা) আসনের প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু বৃহস্পতিবার বিকেলে দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের এতিমখানা বাজারে নির্বাচনী র্যালি চালিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেন। তিনি নির্বাচনের আগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদেরকে তার দলের প্রতীকে ভোট দিলে স্বর্গে যাওয়া যাবে এমন দাবি করা বিরোধী দলের প্রচারণা নিয়ে সতর্কতা জানান।
মিন্টু বলেন, “বেহেশত শুধু আল্লাহর হাতে, অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি তা দিতে পারে না।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বর্গের টিকিট কোনো দলীয় প্রতিশ্রুতি নয়, তা আল্লাহই প্রদান করেন। এই মন্তব্যের পেছনে তিনি প্রতিপক্ষের এমন রকম প্রতিশ্রুতি দেওয়া দলকে সমালোচনা করছেন, যেটি তিনি “সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র” বলে অভিহিত করেন।
প্রচারণার সময় তিনি দাগনভূঞা ও সোনাগাজী এলাকায় নারীর ভোটারসংখ্যা বেশি থাকায়, মুরব্বি ও দলীয় কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মা, খালা, চাচি, বোনসহ নারীদের ভোট দিতে উৎসাহিত করার কথা উল্লেখ করেন। তিনি যোগ করেন, নির্বাচিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের উন্নয়নে কাজ করবেন।
মিন্টু ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার গুরুত্বেও জোর দেন। তিনি বলেন, কিছু লোক বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে, যা তিনি “সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি ভোটারদেরকে সতর্ক থাকতে এবং তাদের তথ্য কারো সঙ্গে শেয়ার না করতে আহ্বান জানান, কারণ ভোটাধিকার রক্ষা করা দেশের সংবিধানিক দায়িত্ব।
প্রচারের প্রথম দিনটি মিন্টু নিজ গ্রাম আলাইয়াপুরে তার পিতামাতার কবর জিয়ারত করে শুরু করেন। এরপর তিনি দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের মুন্সি বাড়ি, তালতলা, এতিমখানা বাজার, দুধমুখা বাজার, দেওয়ান শাহ মাজার, মিদ্দার হাট ও বরইয়া বাজারে গণসংযোগ করেন। বিকেলে তিনি করমূল্যাপুর হয়ে দাগনভূঞায় পৌঁছান এবং সদর ইউনিয়নের একটি স্থানীয় জানাজায় অংশ নেন।
দুপুরের পর তিনি মিন্টু ফাজিলের ঘাট বাজার, তালতলী বাজার, পুলারহাট বাজার, বাগড়ুরি বাজার, নতুন বাজার ও মকবুলের ট্যাক এলাকায় পুনরায় গণসংযোগ করেন। এই র্যালিগুলোতে দাগনভূঞা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা‑কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। ফেনী-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. ফখরুদ্দীন, যাকে দাড়িপাল্লা প্রতীকী প্রার্থী বলা হয়, একই দিনে দাগনভূঞা উপজেলার যায়লস্কর ইউনিয়নের সিলোনিয়া এলাকায় এবং বিকেলে সিন্দুরপুর ইউনিয়নের দরবেশহাট বাজারে গণসংযোগ করেন। উভয় প্রার্থীর র্যালি একই সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশ তীব্রতর হয়েছে।
মিন্টুর র্যালি প্রচারসূচি তার নির্বাচনী কৌশলকে প্রকাশ করে। তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্বকে সমন্বিত করে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন, একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের ভুল প্রতিশ্রুতি ও তথ্য সংগ্রহের প্রচেষ্টা সম্পর্কে সতর্কতা দিচ্ছেন। তার বক্তব্য ও র্যালি কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি ভোটারদেরকে তার নীতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে চেয়েছেন, যা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিএনপি দল ও তার সমর্থকরা মিন্টুর র্যালি শেষে তার বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে, ভোটারদের তথ্য সুরক্ষা ও ধর্মীয় নৈতিকতার প্রতি তার জোরকে প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রতিনিধি ফখরুদ্দীনও তার নিজস্ব র্যালিতে ভোটারদেরকে তার প্রতীকে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। উভয় দলের র্যালি চলমান নির্বাচনী পরিবেশে ভোটারদের মনোভাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন।



