বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডিএ) তার ওয়ান স্টপ সার্ভিস (OSS) অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে এক্সটওয়ার্ড রেমিট্যান্স রেপাট্রিয়েশন অনুমোদন সেবা চালু করেছে। এই সেবা রয়্যালটি, টেকনিক্যাল নলেজ, টেকনিক্যাল সহায়তা ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি সংক্রান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করে তুলেছে।
পূর্বে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এই প্রক্রিয়া কেবল অফলাইন চ্যানেলে পরিচালিত হতো। এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদনকারী দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা পাবে, যা সরকারী প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা অনলাইনে আবেদন জমা দিতে, প্রক্রিয়ার অগ্রগতি রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করতে, ফি ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করতে এবং সর্বোচ্চ সাত কর্মদিবসের মধ্যে অনুমোদন পেতে সক্ষম হবে। এটি সেবা স্তর চুক্তি (SLA) অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমা।
বিডিএর এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উল্লেখ করেন, “একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাঁক এখন পূরণ হয়েছে। এখন বিনিয়োগকারীরা সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক ও পরিবেশবান্ধব কর্মপ্রবাহের সুবিধা পাবে, যা স্থানীয় ও বিদেশি শিল্পের জন্য প্রক্রিয়ার দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়াবে।”
তিনি একই সঙ্গে সম্প্রতি চালু হওয়া বাংলাবিজের কথাও তুলে ধরেন, যা জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (JICA) এর সঙ্গে যৌথভাবে বিকশিত একটি একীভূত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। বর্তমান সময়ে এই পোর্টাল বিডিএ এবং অন্যান্য বিনিয়োগ প্রচার সংস্থার OSS সিস্টেমকে সংযুক্ত করে।
বিডিএ জানায়, এই মাসের শেষের মধ্যে ২৫টির বেশি সেবা বাংলাবিজে সম্পূর্ণভাবে সংহত হবে, ফলে বিনিয়োগ প্রক্রিয়ার গতি আরও ত্বরান্বিত হবে এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত হবে। নতুন সেবা যুক্ত হওয়ার ফলে OSS-এ মোট ১৪২টি বিনিয়োগকারী সেবা উপলব্ধ হবে।
এই উদ্যোগটি ২০১৬ সালের বিডিএ আইন, ১৯৪৭ সালের ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন আইন (২০১৫ সংশোধিত) এবং ২০১৮ সালের বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ গাইডলাইনসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত করে যে রেমিট্যান্স প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত থাকবে।
প্রকল্পের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সমন্বয় কাজ ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (UNDP) এর ট্রান্সফরমেটিভ ইকোনমিক পলিসি প্রোগ্রাম (TEPP‑II) দ্বারা প্রদান করা হয়েছে। এই প্রোগ্রামটি যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ ও ডেভেলপমেন্ট অফিসের তহবিলের মাধ্যমে পরিচালিত।
বিজনেস দৃষ্টিকোণ থেকে, রেমিট্যান্স অনুমোদনের সময়সীমা হ্রাস পেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীর নগদ প্রবাহের ওপর চাপ কমবে, ফলে নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগের ইচ্ছা বাড়বে। এছাড়া দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ব্যবসা পরিবেশের র্যাঙ্কিং উন্নত করতে সহায়ক হবে।
তবে ডিজিটাল সেবার ব্যাপক গ্রহণে সাইবার নিরাপত্তা, ব্যবহারকারীর প্রশিক্ষণ ও সিস্টেমের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যথাযথ আইটি অবকাঠামো ও নীতিগত সমর্থন প্রয়োজন।
ভবিষ্যতে আরও সেবা একীভূত হলে বিনিয়োগকারী পোর্টালের ব্যবহারিকতা বাড়বে, যা বিদেশি মূলধনের প্রবাহ ত্বরান্বিত করবে এবং দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিডিএয়ের এই ধারাবাহিক ডিজিটালায়ন উদ্যোগকে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।



